Buy this theme? Call now 01710441771
Welcome To Abc24.GA
.Feb 16, 2016

অবাক ভালোবাসা

তোমাকে না কতো বার বলেছি যে
আমার আগে রিক্সায় উঠবানা!! (মেয়ে)
>> কেনো ?? আবার কি করলাম?? (আমি)
>> তুমি আগে উঠলে আমার আর জায়গা
থাকে না বসার!! (মেয়ে)
>> (চুপ করে আছি)
>> পেচার মতো মুখ করে রেখেছো
ক্যানো?? (মেয়ে)
>> অপমান করলা আমারে?????? (আমি)
>> তুমি এখনো বুঝতে পারো নাই????
(মেয়ে)
>> দেখো ইরা,শুধু শুধু নিজের ক্রেডিট
আমারে দিবা না (আমি)
>> কি বল্লা?????? (ইরা)
>> শুনতে পাওনাই??? (আমি)
>> তুমি আমাকে !! তুমি আমাকে!!! (ইরা)
>> মটকি বলেছি!!!!!
>> :’( তুমি এত্তোগুলা পচা!!
>> ভালো ছিলাম কবে??
>> আজ বাসায় চলো তারপর বুঝাচ্ছি!!
>> আম্মারে কইয়া দিবা নাকি???
নিজের ঢোল নিজেই পিটাবা??
>> তোমার খবর আছে কিন্তু!!
>> মাইক লাগলে বলিও,ভাড়া কইরা
আইনা দিম
ু >> চুপ করবা নাকি আমি নেমে
যাবো???????
>> অক্কে চুপ।
. সেই যে ইরা চুপ করতে বলে নিজেও চুপ
হয়ে গেলো সারা রাস্তায় আর একটিও
কথা বললো না। . বাসায় এসে ফ্রেশ
হতেই মায়ের ফোন বাজতে শুনলাম!
কার সাথে যেনো ফোনে কথা বলেই
যাচ্ছে মা, আর এই দিকে ফ্রেস হইয়ে
খাবার টেবিলে বসে আছে আছি। .
একটু পর মা খাবার দিতে আসলো !!
মায়ের মুখ থমে থমে! নিশ্চয় আমার
কপালে শনি আছে আর ঐ কল নিশ্চয় ইরার
ছিলো!! .
মা>> কিরে বউমারে কি কইচিস?? (ওমা
কয় কি? বউমা কই থেকে আইলো)
>> ও তোমার বউমা হইলো কবে থেকে??
>> যেই দিন প্রথম ফোনে কথা কইতে
দিলি, সে দিন মনে ছিলো না এ
কথা???
>> যাই হোক, কি বলেছে??????
>> তুই নাকি রাস্তার মাঝে ওরে
অপমান করেছিস??
>> এহ কোণ ফকিন্নি কইলো?????
>> দেখ আমার সামনেই কিন্তু তুই অপমান
করছিস?? মাইর খাবি কিন্তু!!
>> আচ্ছা আগে এই খাবার গুলো শেষ
করি, এরপর খাব।
>> কথা কম বলে বল ইরা কে কি
বলেছিস??????
>> কিচ্ছু না, শুধু বেশি খায় বলেছি!!
>> না, তুই মোটকি বলেছিস নাকি???
>> তাইলে আবার জিগাইলা ক্যান???
>> খারা আমি একটু রান্না ঘড় থাইকা
আইতাচি, তই ভালো কইরা খাইয়া নে!!
>> (মায়ের এই মুহুর্তে রান্না ঘরে
যাওয়া মানে আমাকে ধাবরানোর
জন্য এইয়া বড় লাঠি নিয়া আসা) একটু পর
দেখি ভাবনা আমার সত্য!! দে
দৌড়!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!! .
পিছন থেকে শুনতে পাইলাম >> ইরা
যদি তোরে মাফ কইরা আমারে ফোন
দেয় তাইলে বাসায় ঢুকতে পারবি!!
. শালার আমারে অপমান করলো সেটা
কিছু না আর আমি একটা কথাই কইলাম
সেটাই বিলা হইয়া গেলো?? বিয়ার
আগেই মা বউ মিল্লা আমারে
নাস্তানুবুদ!! বিয়ার পর দুই বউ শাশুড়ি এক
বাড়িত হইলে আমার জায়গা নিশ্চয়
বাড়ির সামনের ল্যাম্পপষ্টে!!! .
হাটতে হাটতে ইরার বাসার সামনে!!
আর ইরা কে ফোন দিচ্ছি কিন্তু ধরে
না! .
>> মনে মনে ( শালি ফোন ধর নাইলে
আইজ আমি শেষ!!)
. একটু পর ফোন রিসিভ হইলো
. >> আমারে ফোন দিচ্ছো ক্যান??
>>জানুউউউউউউউউউউউউউউউউউউউউউ
ভালো আছো??
>> এত্তোগুলা ভালো আছি!!
>> আম্মারে ফোন দিয়া কউ প্লিজ তুমি
আমারে ক্ষমা করেছো!!
>> ক্যান আবারো কি ঝাটা পিটা
খাইচো??
>> তুমি এভাবে কইতে পারলা??
>> নাগো জানু আমি কিচ্চু বলবো না
>> অক্কে একটু বেলকনিতে আসো!
>> কেনো?
>> তোমার বাসার নিচে আমি।
>> সত্যি?? তাইলে দৌড়ানি
খাইচো????? হিহিহিহি
>> কথা কম হবে নাইলে.........
>> নাইলে কি হুম?
>> কিচ্চু না তারাতারি আসো!
>> হিহিহি আসতেছি।
. কিছুক্ষন পর ইরা বেলকনিতে দাঁড়িয়ে
রুদ্র নামের বিচিত্র প্রানিটাকে তার
বাসার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে
দেখলো! .
>> আমি বাসা থেকে বের হয়ে আসছি!!
(আমি)
>> আহারে তাই নাকি?? (ইরা)
>> আমি সুইসাইড করতে যাচ্ছি! (আমি)
>> দেরি করছো কেনো?? (ইরা)
>> (চুপ করে আছি)
>> পেচা পেচা হিহিহি দাঁড়িয়ে
আছো কেন? (ইরা)
>> I love U (আমি)
>> কবে থেকে?? (ইরা)
>> ফাজলামু করতেছো? আচ্ছা থাকো
আমি গেলাম!! (আমি)
>> এই শোনো (ইরা)
>> কি?? (আমি)
>> I love u TOO (ইরা)
>> এই কথার এখন দরকার নাই!! আম্মারে
ফোন দাও!! (আমি)
>> এই কথা এখন দরকার নাই মানে?
আম্মুরে কিন্তু এইটাও ফোন করে বলে
দিমু। (ইরা) . (এই কেমন মেয়েরে
বাবা,নিজের হবু বর এর নামে এই ভাবে
কেউ নালিস করে?) .
>> আমি ত ফান করে বল্লাম সোনা,,
আমি ত তোমাকে এত্তত্তত্তত্তত গুলো
ভালবাসি আর ভালবাসি ,, আর তুমি
আমাকে এর দিগুণ ভালবাসো। (পামের
বস্তা মারলাম)
>> হইছে হইছে আর বুঝাতে হবে না শেষ
মেশ হার ত মারলা ইরা কাছে,,
হিহিহিহি।। শুনো আর কোনো সময়
আমার সাথে খারাপ ব্যবহারকরলে
তোমার খবর আছে। এই বার এর মত মাফ
করে দিলাম। যাও বাসায় যাও আমি
আম্মু কে ফোন করে দিচ্ছি। (ইরা)
. এইভাবেই চলতে থাকে রুদ্র আর ইরার
রাগা রাগি বড়া মিস্টি ভালবাসা। .
এরপর দুইজনের ফ্যামিলি ঠিক করে ইরা
আর রুদ্রের বিয়ে দেওয়ার কথা,,, তারপর
বেশ কিছু দিন পর ওদের বিয়ে হইয়ে
যায়।। .
তবে এখন আর রুদ্র ছেলেটা ইরার সাথে
জগরা করে না। কেন জানি আর জগরা
করার ইচ্ছাও করে না। ইরাও নিজের মত
করে রুদ্র কে ঠিক করে তুলছে,, .
সাথে সাথে ওদের ভালবাসাও আরো
বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিয়ের কিছু দিন পর। . --
রুদ্র?
-- হুম।
-- অনেক তো বেলা হলো, উঠো না।।
প্রায় ৯টা বাজে।
--হুম
--কি হুম হুম করছো? উঠো বলছি, না হলে
কিন্তু পানি ডেলে দিব।
-- হুম হুম হুম,, উঠে গেছি সোনা শীতের
মধ্যে প্লিজ পানি ছিটাইও না
--আচ্ছা যাও ফ্রেশ হয়ে নাও। আমি
রান্না করতে যাচ্ছি।
-- অকে।
.
ইরা মেয়েটি যেন বিয়ের পর আরো
বেশি মিস্টি মেয়ে হয়ে যাচ্ছে। ওর
দিকে আমি যত বার তাকাই তত বারই
নতুন করে তার প্রেমে পিছেল খাই। .
মেয়েটির ভাল দিক যেমন বলেও শেষ
করতে পারি না তেমনি পাগলামি,
দুষ্টুমি গুলো ও বলে শেষ করা যায় না।
মেয়েটি যখন হাসে গালে টোল পড়ে।
যখন রাগ করে তখন ছোট্ট ছোট্ট চোখে
তাকিয়ে থাকে। সবচেয়ে প্রিয়
জিনিসটি হলো ওর টানা টানা চোখ
জোড়া! কিছুসময় নিয়ে তাকালে অনুভব
করি নিজের চোখ থেকে বিন্দু বিন্দু
জল বের হচ্ছে। তবুও দু-চোখের পাতা
যেনো বন্ধ হতেই চায় না। .
মেয়েটিকে সাধারন সাজেই ভাল
মানায়। কখনো কখনো সাধারন সাজে
বেশ অসাধারন লাগে তখন চোখের
তৃষ্ণাগুলো মেটাতে অসম্ভব হয়ে পড়ে।
মাঝে মাঝে সবুজ শাড়ি পড়লে বেশ
মানায় যেনো মহান আল্লাহ তায়ালা
এইমাত্র সৃষ্টিকরে জীবনদান করে
পৃথীবিতে পাঠিয়েছেন। .
মাঝে মাঝে মনে হয় স্বর্গ থেকে পরী
এই মাত্র নেমে এসেছে। পথ ভূলে
যাওয়ার জন্য পুনরায় স্বর্গে হয়তবা
ফিরে যেতে পারছে না। .
-রুদ্র?
-হু?
-নাস্তা তৈরী করা আছে
তাড়াতাড়ি খেতে আসো?
-হুম চলো।
-ইহ্ তুমি তো এখনো দাত পর্যন্ত ব্রাশ
করো নি। যাও তাড়াতাড়ি ব্রাশ করে
নাও। আচ্ছা আমি পেষ্ট লাগিয়ে
দিচ্ছি। .
এই বলে ইরা চলে গেলো! ভেজা চুলে
তাকে খুব ভাল লাগে। হয়তোবা এখন
স্নান করেছে তাই হয়তো চুলগুচ্ছ ভেজা।
গায়ে লেগে থাকা হালকা
পানিতে ভেজা শাড়িতে তাকে
ভালোই মানায়। .
মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে দূর থেকে
হ্যাচকা টানে এই বুকটায় টেনে ভেজা
চুলে পূর্ণ মাথায় নিজের হাত বুলিয়ে
দিতে। কিন্তু কেনো যেনো পারি
না।
. -নাস্তা রেডী! চলে আসো। (ইরা)
-ধূর এই গুলা কি? (আমি)
-কেনো পিঠা!
-এগুলো আমি খেতে পারি নাকি?
-এখন প্লিজ খেয়ে নাও।
-না ভাল লাগছে না।
-আচ্ছা আমি খাইয়ে দিচ্ছি।
.
ভাল লাগে যখন মেয়েটি তার উষ্ণ নরম
হাতে আমাকে খাইয়ে দেয়। মুহূর্তের
মধ্যে ভূলে যাই কি খাচ্ছি! কিন্তু
স্বরণে একটা বাক্য প্রতিধ্বনিত হয়,
মেয়েটির উষ্ণ হাতের ছোঁয়ায় পিঠা
গুলো স্বাদে পরিণত হয়ে গেছে। হয়তবা
আমার জিহ্বা তার নিজের ক্ষমতার
কাছে হেরে গিয়ে খেয়ে নিচ্ছে। .
রাত দশটা, .
বাইরে থেকে বাসায় ফিরলাম।
বাসার দরজায় ধাক্কা দিতেই খুলে
গেলো। তাকিয়ে দেখি সে আর কেউ
নয়, মহারাণী।
. -রুদ্র ভাত খাবে চলো? (ইরা)
-না ভাল লাগছে না যাও।
-ভাত বেড়ে রেখেছি তাড়াতাড়ি
আসো।
-ওই তোমাকে খাবত না বলেছিলাম
না? জোর করো কেনো? উত্তরে ইরা
কিছুই বলে নি। একগাল হেসে রুম থেকে
বেরিয়ে গিয়েছিলো। .
রাত বারোটা, .
হঠাৎ করে মনে হলো রুমে কারো
উপস্থিতি নেই। সারা ঘর খুজলাম কিন্তু
খুজে পেলাম না। ছাদে গিয়ে
দেখিষজিনিটা দাড়িয়ে আছে।
জিনিস টা কেউ নয় স্বয়ং ইরা। চাদেঁর
আলোয় তারা রূপকে আরো মায়াবতী
করে তুলেছে। ততক্ষনে উপলদ্ধি করলাম
কিছুক্ষন আগে এই মায়াবতীর সাথে
কঠোর আচরন করেছিলাম। .
পেছন থেকে আলতো করে
মায়াবতীটাকে জড়িয়ে ধরলাম।
. -ইরা?
-হু।
-রাগ করেছো আমার সাথে?
-না।
-তুমি ডিনার করেছো?
-না।
-সেকি কেনো?
-ভাল লাগছে না।
.
বুঝে নিলাম আমার সাথে অভিমান
করে এই অবস্থা। নিজের দুগালে দুইটা
চড় দিলাম। তারপর মায়াবতীটাকে
কোলে তুলে নিয়ে গেলাম। .
বসে আছি একটা বড় টেবিলের উপর।
সেখানে বসে আমি আর ইরা।
মাঝরাতে ইরাকে খাইয়ে দিচ্ছি আর
পাগলীটা কাদঁছে। পাগলীটা কাদঁছে
কেনো সেটাই না জানা রয়ে গেলো।
কাদঁছে কাদুঁক আমি বাধা দিবো
কেনো? .
মাঝে মাঝে চিৎকার করে বলতে
ইচ্ছে করে ভালবাসিরে তোকে
পাগলী। খুব ভালবাসি।
তোকে ছাড়া সত্যিই আমি অচল।
প্লিজ কখনো ছেড়ে যাস নে আমায়।