Buy this theme? Call now 01710441771
Welcome To Abc24.GA
.Feb 16, 2016

ঘুটঘুটে অন্ধকার আর চোখের জল



রাস্তায় একটি মেয়ে দাড়িয়ে আছে
কলেজ ড্রেস পরে।
মেয়েটিকে দেখে মনে হল,
কিছু একটা হয়েছে। তাই
কাছে গিয়ে জিগাস করলাম
.
-কোনো সমস্যা?...আপু!
-ভাইয়া আমি খুব বিপদে পরেছি।
আমার গাড়ি আসেনি। আমি কি
আপনার মোবাইল থেকে একটু ফোন
করতে পারি?
.
সাইফ মোবাইলটা মেয়েটাকে দিল।
-হ্যালো আম্মু গাড়ি আসেনি কেন?
আমি রাস্তায় দাড়িয়ে আছি। কলেজ
আরো ১ ঘণ্টা আগে শেষ হয়েছে।
>---
-আচ্ছা আমি দেখছি!
.
.
-চলো আমি তোমাকে বাসায় দিয়ে
আসি।(সাইফ)
-না অপরিচিত কারো সাথে আমি
যাব না।(মিথিলা)
-তো আমার মোবাইল টা যে নিলে?
-আপনিই তো আগে কথা বলতে
আসলেন।
-ফোনটা তো তুমিই চেয়েছ।
-আচ্ছা ঠিক আছে।
-সাইফ একটা রিক্সা ডাক দিল।
এই মেয়ে ওঠো।
-আমার নাম মিথিলা, মেয়ে না।
-আচ্ছা আচ্ছা ওঠো।
-এক রিক্সায়ইইইই....??
-হ্যা।তুমি এতটুকু মেয়ে।খুব কথা বল।
-এতটুকু মেয়ে মানে?কিছুদিন পর আমি
এইচ এস সি দিবো।বুঝছেন?
-বাহ। তুমি এত বড়?কিন্তু একা বাসায়
যেতে পারনা। হাহাহা।
-এত হাসছেন কেন হুহ,আপনি কিসে
পরেন?
-আমি ভার্সিটি সেকেন্ড ইয়ার।
-ও
সারা রাস্তা আর কোন কথা হলনা।
"
মিথিলা রাতে পরতে বসল।ওই
ভাইয়া তার কথা মনে পরছে।
ভাইয়াটার নামটাই জানা হল না।
ইশ......
মিথিলা ওর আম্মুর মোবাইলটা
নিয়ে লুকিয়ে ফোন দিল।
.
-হ্যালো
-আচ্ছা,আপনার নাম কি?
-সাইফ,আপনি কে?
-আমি মিথিলা। আপনার নামটা
জানা হয়নি তো।
-আমার নাম দিয়ে তুমি কি করবে?
-কি করব? নাম তো আর চকলেট এর মত
খাওয়া যায় না যে খাব।
-তুমি বেশি কথা বল।
-আপনি বেশি কথা বলেন। আচ্ছা
রাখি। ফোন দিয়েন না। এটা আম্মুর
নাম্বার।
বলেই রেখে দিল মিথিলা।
"
সাইফ এর খুব হাসি পাচ্ছে মেয়েটার
কথা মনে হলে।কেমন বাচ্চাদের মত।
এত বড় হয়েছে কিন্তু বুদ্ধি হয় নাই।
"
পরদিন ভার্সিটি ক্লাস থেকে বের
হয়ে।মিথিলার কলেজ এর সামনে
গিয়ে মিথিলাকে খুজছে, হটাত দেখল
মিথিলা কাল রঙের একটা গাড়িতে
উঠছে।ওকে দেখে কেন জানি ওর
হার্টবিট বেরে গেল। এমন হচ্ছে
কেন ও নিজেও বুঝতে পারছে না।কেনই
বা ওকে দেখতে এল। মেয়েটা দেখলে
কি ভাববে।কোন ভাবে মুখটা
বাঁচিয়ে কেটে পড়ল ও।
"
বিকাল ৫ টা বাজে।
ফোনের সব্দে ঘুম ভাঙল সাইফের।
ফোনটা ধরে কণ্ঠ শুনে লাফ দিয়ে
উঠলো সাইফ।
-এরকম চোরের মত কলেজ এর সামনে
লুকিয়ে লুকিয়ে আমাকে দেখছিলেন
না?(মিথিলা)
-নাহ, মা,, মানে।আমি একটা কাজে
গিয়েছিলাম।
-তাই না? আমাকে দেখে খাতা
দিয়ে আবার মুখটা তো সুন্দর করে
ঢেকেছিলেন।
-আচ্ছা তোমার পড়াশুনার কি অবস্থা?
-কথা ঘুরাচ্ছেন কেন?
-আজব তো।এই মেয়ে এত কথা বলে কেন?
-এই রাখি রাখি। আম্মু চলে এসেছে।
ফোন দিয়েন না। আমি পরে ফোন
দিবো। বলেই রেখে দিল মিথিলা।
"
আজকাল যেন কি হয়েছে সাইফের।
কিছুতেই মন বসে না। খালি ফোন
দেখে। মিথিলার ফোন কি আর
আসবে না?দেখতে দেখতে অনেক দিন
কেটে যায়। কিন্তু মিথিলার কোন
ফোন আসে না।
সাইফ ধরেই নেয় মিথিলা
তাকে আর কোন দিন ফোন দিবে না।
কেটে যায় ৩ মাস।.....
"
একদিন হটাৎ অপরিচিত নাম্বার
থেকে ফোন।রিসিভ করল
ও নিজের কানকে বিশ্বাস করতে
পারল না। মিথিলার ফোন
"
-কেমন আছেন?(মিথিলা)
-ভাল। তুমি এতদিন পর?(সাইফ)
-খুব খুশি হয়েছেন মনে হচ্ছে?
-নাহ। খুশি হওয়ার কি আছে।
-হি হি হি।
-হাসো কেন?
-আপনি সুন্দর করে মিথ্যা বলতে
পারেন না তো তাই।
-এই মেয়ে তুমি বেশি কথা বল।
-হি হি।
-তারপর এতদিন কোথায় ছিলে?
-আপনি জানেন না আমার পরীক্ষা
ছিল? পরশু শেষ হল।
-তোমার কলেজ কি বন্ধ ছিল?
-আপনি আমাকে কলেজেও খুজেছেন?
-না জিজ্ঞেস করলাম এমনি।
-এমনি? হি হি হি।
-এই মেয়েটাকে নিয়ে তো আর
পারা গেল না।
-আচ্ছা বলছি।টেস্ট পরীক্ষা পর কলেজ
বন্ধ ছিলো।
-ও, ভাল। এই নাম্বার কি তোমার
কাছে থাকবে?
-হুম।
-তাহলে তো ভালই।
-আচ্ছা এখন রাখি।
"
এভাবে মাঝে মাঝে ওদের কথা হত।
দুজনের মাঝে ভাল বন্ধুত্ত হল।
.
এর মধ্যে সাইফ অনেক ভালবেসে
ফেলেছে মিথিলাকে কিন্তু কি
ভাবে যে বলবে। বুঝতে পাড়ছে না।
দিন যত যাচ্ছে সাইফ তত দুর্বল হচ্ছে।
মনের মধ্যে কথা লুকিয়ে রাখা অনেক
কষ্টের।
তাই একদিন সাইফ মনের কথা
বলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।
"
মিথিলাকে ফোন দিয়ে বলল,
দেখা করতে।
মিথিলা এসে দেখে সাইফ হাতে
ফুল নিয়ে বসে আছে।
মিথিলা সামনে যেতেই হাবার মত
দাড়িয়ে পড়ল।
খুব রাগ হচ্ছে
ওর মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছে না।
"
... হিহিহি।
-এই মেয়ে হাস কেন?
-না এই যে, প্রপোজ করবে বলে বসে
আছ, কিন্তু করতে পারছ না।
-কে বলেছে তোমাকে? তুমি আসলে
বেশি কথা বল।
-তুমি আসলে বেশি বুঝ। আচ্ছা যাও
প্রপোজ করতে হবে না।
আমার উত্তর..... Yes।
"
বোকার মত কেদে দিল সাইফ।
এই মেয়েটা ওকে এত বুঝে।
.
-ওমা প্রপোজ করতে পারেনি বলে
কেমন কাঁদছে দেখ।
.
সাইফ খুশিতে আর জোরে জোরে
কেদে দিল। এভাবেই হয়েছিল সাইফ
আর মিথিলার মিষ্টি একটা সম্পর্ক।
খুনসুটি, ভালবাসা আর মিষ্টি ঝগড়ায়
ভালই চলছিল ওদের।
কেটে গেল দুইটা বছর।
কিন্তু হটাত একদিন......
"
-আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।
(মিথলা)
-মানে....???
-মানে তো তুমি বুঝতেই পারছ।
-তুমি তোমার বাসায় না করো।
কারন আমি তোমার বাসায় বললে তো
এখন আমার কাছে তোমাকে বিয়ে
দিবে না।
-আমি না করলেও মানবে না।
-চল পালিয়ে যাই।
-কি বল এসব? আমি পারব না।
-তবে কি করবে?
-যাই করি পালাতে পারব না।
-সাইফ আর জোর করল না।চলে গেল
.
মিথিলা। তাকিয়ে তাকিয়ে ওর
চলে যাওয়া দেখল।
.
আজ মিথিলার বিয়ে। একটু পর
মিথিলা অন্য কারো হবে। ভাবতে
পাছে না কিছু মিথিলা। সাইফ কে
ছাড়া ও এক মুহূর্তও থাকতে
পারবে না। না ওর মাথা গুলিয়ে
যাচ্ছে। কি করবে ও? ও কি তবে
পালিয়ে যাবে সাইফের হাত ধরে?
ও এখানে আর এক মুহূর্তও
থাকবে না...
অনেক কষ্টে ও বাসা থেকে বের হল।
সাইফ কে ফোন দিচ্ছে যেন ও এসে
নিয়ে যায়। কিন্তু সাইফের ফোন বন্ধ।
ও এতবার চেষ্টা করছে কিন্তু ফোন
বন্ধ। সন্ধ্যা হয়ে গেছে একা ও
কিভাবে যাবে, বাসায়ও ফিরে
যাবে না। খুব রাগ হচ্ছে কেন তখন
সাইফকে পালিয়ে যাওয়ার কথা
না করে দিল। রাস্তায় মাইক্রো দেখে
ও সাইফের বাসা ভাড়া করল। সে
ড্রাইভার কে বলল ও নেমে ভাড়া
দিবে। সাইফের কাছ থেকে নিতে
হবে, কোন টাকা নিয়ে বের হয় নাই
ও।
কিন্তু ড্রাইভার এটা কোন দিক
দিয়ে যাচ্ছে?
এই যে ভাই এইদিক দিয়ে না...
আপনি ভুল রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন..।
এই যে শুনছেন?... আপনি ঠিক
রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন না.........
*
দুই বছর পর.........
*
রাত ১১ টা।সাইফ সেই নদীর পারে বসে
আসে।
বসে বসে ভাবছে তার পুরনো
সৃতিগুলার কথা। হটাত পাশে
তাকিয়ে দেখল ঘুমটা পরা কোন
মেয়ে। ওর বুঝতে বাকি রইল না যে
মেয়েটা হল নিশিকন্যা যারা পেটের
দায়ে দেহ বিক্রি করে।
-এই যে মেয়ে আপনি ভুল জায়গায়
এসেছেন, আমি এজন্য এখানে আসি
নাই। এই যে আপনি কথা বলেন। আচ্ছা
আপনি এরকম ঘুমটা দিয়ে আছেন কেন?
আপনাদের কত ঢং। তবুও আপনারাই ভাল
আছেন,
কোন কষ্ট নাই। আর আপনাদের এই মেয়ে
জাত টাকে আমি দুই চোখে দেখতে
পারি না।
আপনি কথা বলছেন না কেন?
আপনারা মেয়েরা খুব ভাল অভিনয়
করতে জানেন।
জানেন আমি একটা
মেয়েকে খুব ভালবাসতাম। কিন্তু
মেয়েটার বাসা থেকে বিয়ে ঠিক
হয়েছিল।
আর সে ওই বিয়ে করে নিল।
দুই বছর আগে আজকের দিনেই ওর বিয়ে
হয়েছিল।
ওর বিয়ের দিন ভেবেছিলাম ওকে
একবার ফোন দিব কিন্তু আর দিলাম
না ফোন টা পানিতে ফেলে দিলাম।
আর খোজ নেইনি,
জানি সুখেই আছে।
মেয়েটা আর কান্না আটকাতে
পারল না।
চিৎকার,চিৎকার,চিৎকার.. করে
কাদতে শুরু করল।
-মি মিথিলা......মিথিলা তুমি?
তু,, তুমি এখানে? কথা বল মিথিলা।
-তুমি ভুল জানো সাইফ।
আমি এখন মিথিলা না মালা।
-এসব কি বলছ মিথিলা? তুমি
কিভাবে এখানে বল আমাকে?
-এখন আর এসব জেনে লাভ কি?
-তুমি বল মিথিলা। ঘুমটা টা সরাও।
মিথিলার ঘুমটা টা পরে গেল।
এ কেমন রুপ মিথিলার।
যেই মেয়েকে বলে একটু সাজাতে
পারত না আজ তার ঠোঁটে লাল
লিপস্টিক, কড়া মেকাপ, মাথায় ফুল। এই
কি সেই মিথিলা।
আজ সে চিনতে পারছে না
মিথিলাকে।
-সাইফ তোমাকে আমি খুব
ভালবাসতাম।
-ভালবাসতে? এখন বাস না?
-এখন আর ভালবাসা । এখন তো
প্রতিদিন ই ভালবাসা ভালবাসা
খেলতে হয়।
-প্লিজ মিথিলা।
-সাইফ তোমাকে আমি ফিরিয়ে
দিয়েছিলাম ঠিকই কিন্তু পারিনি
অন্য কারো বউ হতে। আমি বিয়ের
দিন লুকিয়ে বাসা থেকে বের হই।
তোমাকে ফোন দিয়ে দেখি
তোমার ফোন বন্ধ। ফোন টা কি
পানিতে ফালানো খুব জরুর ছিল?
আমি একটা মাইক্রো ভাড়া করি।
জানো আমার কাছে একটা টাকাও
ছিল না, ভেবেছিলাম তোমার
এখানে গিয়ে দিব। কিন্তু......
আবারো চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করল
মিথিলা,
কথা বলতে পারছেনা মিথিলা।
-বল মিথিলা বল। তারপর ...
-তারপর আর কি তোমার কাছ পর্যন্ত
যাওয়া হল না। জানো আমি চিৎকার
করে বলছিলাম ভাই এইদিক দিয়ে না।
এই রাস্তা না। ভাই কোনদিক দিয়ে
যাচ্ছেন এটা আমার সাইফের কাছে
যাওয়ার রাস্তা না.........
এরপর আর কিছু মনে নেই।
আমার যখন হুশ আসে দেখি একটা ঘরের
মাঝে পরে আছি হাত বাধা। জানো
ওরা আমাকে দুইদিন খেতে দেইনি।
জানো আমার না খুব কষ্ট হচ্ছিল। হটাত
কয়েকজন আমার রুমে ঢুকল। তারপর...
তারপর শুধু ঘুটঘুটে অন্ধকার আর চোখের
জল।
এরপর আমার জায়গা হল এখানে।
জানো আমার একটা ফুটফুটে মেয়ে
আছে। নাম রেখেছি তিতলি।
মেয়েটাকে তো কখন বাবার পরিচয়
দিতে পারব না কিন্তু আমি চাই না
আমার মেয়েটা বড় হয়ে আমার মত
কোন এক মালা হোক।
কিন্তু কি করব আমি?
আজ আমার এই অবস্থার জন্য
এই সমাজ দায়ি।
কিন্তু আমার এই মেয়েটাকে
এই সমাজ কখনই মানবে না।এই
মেয়েটার তো কোন দোষ নেই।
-মিথিলা ফিরে চল আমার সাথে।
আমি তোমাকে এখনও অনেক
ভালবাসি।
-না সাইফ এখন আর হয় না। এখন আমরা
দুইজন দুই জগতের। সাইফ আমার একটা কথা
রাখবে?আমার মেয়েটাকে নিয়ে
যাবে। বাবার পরিচয় দিয়ে বড় করবে?
.
.
পাঁচ বছর পর......
"
"
'
-বাবা এই নাও তোমার পানি।
-মেয়েটা একদম ওর মায়ের মত
হয়েছে। সেই মুখ।
গালে সেই একই তিল।
-বাবা জানো আমি স্কুল থেকে
আসার সময় একটা আন্টি আমাকে
প্রতিদিন দেখতে আসে।
কিন্তু কোন কথা বলে না।কে বাবা?
-কেও না মা।
-জানো বাবা অ্যান্টির গালে একটা
তিল আছে ঠিক আমারটার মত।
তিতলি কে বুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে
থাকে সাইফ। এই কান্নার অর্থ
জানে না এই ছোট্ট তিতলি।