Buy this theme? Call now 01710441771
Welcome To Abc24.GA
.Feb 16, 2016

মেয়েটির নাম ছিলো পরী। পরীকে আমি প্রথম দেখেছিলাম ইউনিভার্সিটির বাসে।

মেয়েটির নাম ছিলো পরী। পরীকে
আমি প্রথম দেখেছিলাম
ইউনিভার্সিটির বাসে। তখন ছিল
শীতকাল। চারদিক কুয়াশায় ঢাকা।
সূর্যি মামা মনে হয় কুয়াশার সাথে
যুদ্ধ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে শেষে
হাল ছেড়ে দিয়েছে। এরকম মন
খারাপ করা দিনে আমি ভার্সিটির
বাসে বসে আছি।
.
মিনিট পাঁচেক পর বাসটি একটি
স্টপেজে থামলো। অন্যকোন দিন
হলে অনেক ছাত্রছাত্রী উঠে পরতো।
আজ তেমনটি দেখা গেল না। বাস
যখন ছেড়ে দেবে ঠিক সেই সময়ে
একটি মেয়ে তাড়াহুড়া করে বাসে
উঠলো। সাধারণত অপরিচিত কোন
মেয়ে চোখে পরলে এক নজর
তাকিয়ে নিজের কাজে মনযোগ
দেই। ভালো ছেলে সাজার ক্ষুদ্র
চেষ্টা আরকি। কিন্তু কোন এক
অজানা আকর্ষণে এই মেয়েটির দিক
হতে চোখ ফেরাতে পারছি না।
.
মেয়েটি বেশ রুপবতী। প্রথম দেখায়
আমার এত ভালো লাগলো যে আমি
দীর্ঘ সময় মেয়েটির দিকে হা করে
তাকিয়ে রইলাম। একটি লাল কোট
এবং গলায় মাফলার পরে আছে
মেয়েটি। দেখে মনে হচ্ছে স্বর্গ
থেকে বুঝি কোন পরী পৃথিবীতে
ঘুরতে এসে আটকে গেছে। ফিরে
যেতে পারছে না বলে পড়াশোনায়
মনযোগ দিয়েছে। আবার সুযোগ
পেলে স্বর্গে ফিরে যাবে। আচ্ছা
গলায় মাফলার পরার জন্যই কি
মেয়েটিকে এত অপূর্ব লাগছে?
.
বাস যখন ভার্সিটি ক্যাম্পাসে চলে
এলো তখন সবার সাথে আমিও নেমে
পরলাম। কখনো কোন মেয়ের পিছু
নেইনি। কিন্তু আজ নিজের
অজান্তেই মেয়েটির পিছু পিছু
হাঁটতে লাগলাম৷ অনেকটা চুপচাপ
স্বভাবের বলে মেয়েদের সাথে
কিভাবে ভাব জমাতে হয় সে
বিষয়ে আমার ধারণা খুবই অল্প।
.
মেয়েটি ক্লাসে না গিয়ে
সেন্ট্রাল লাইব্রেরীর এক পাশে
দাঁড়ালো। হয়তো কারো জন্য
অপেক্ষা করছে। আমার মনে হলো
মেয়েটির সাথে কথা বলা
প্রয়োজন। কিভাবে কথা বলা যায়
মনে মনে সেই পরিকল্পনা করতে
লাগলাম।
.
ওর পাশে দাঁড়ানো বাদাম ওয়ালার
কাছ থেকে বাদাম কিনে ভাংতি
টাকা খুঁজে না পাওয়ার অভিনয় করে
ওর কাছে সাহায্য চেয়ে চমকে
দেয়া যেতে পারে। আমি বাদাম
ওয়ালার কাছে গেলাম। তারপর
বাদাম কিনে টাকা দিয়ে দিলাম।
পরিকল্পনাটা আমার কাছে তৃতীয়
স্তরের বলে মনে হলো। আচ্ছা ওকে
বাদাম গুলো দিয়ে আসলে কেমন হয়?
.
সেদিন ওর সাথে কোন কথা বলতে
পারিনি। তারপরের কয়েকদিন ওকে
খুঁজতে খুঁজতে কেটে গেল। কিন্তু
কিছুতেই যেন ওর দেখা পাচ্ছিলাম
না। তারপর একদিন যখন ওকে খুঁজে
পেলাম তখন আমার আনন্দের আর
সীমা রইলো না। ও অর্জুন তলায় একা
একা বসে কোন একটা বইএর পৃষ্ঠা
উল্টেপাল্টে দেখছিল। আমি খুব দ্রুত
হেটে ওর কাছে যেতে থাকলাম
যেন আবার হারিয়ে না যায়।
অপরিচিত কোন মেয়ের সাথে কথা
বলতে হলে খুব ভেবেচিন্তে বলতে
হয়। আমি ওর সামনে গিয়ে
দাঁড়ালাম। ও বইএর পাতা হতে মুখ
তুলে কৌতুক ভরা চোখে আমার
দিকে তাকালো। আমি একটু হেসে
বললাম,
- আপনার কলমটা দেয়া যাবে প্লিজ।
একটু পরেই আমার ক্লাস। ব্যাগ খুঁজে
দেখি কলম নেই।
.
ওর কোন ভাবান্তর দেখা গেল না।
ব্যাগ হতে কলম বের করে আমার
দিকে বাড়িয়ে দিয়ে নিজের
কাজে মনযোগ দিলো। আমি অপ্রস্তুত
হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। সে আমার
দিকে আবার তাকিয়ে বললো,
- কি, এখনো দাঁড়িয়ে আছেন কেন?
আপনার ক্লাসের দেরি হয়ে যাচ্ছে
না?
- আসলে আমার ক্লাস আরো এক ঘন্টা
পর। তোমার সাথে কথা বলার জন্য
মিছেমিছি কলম চেয়েছি। আমার
কাছে কলম আছে।
.
মেয়েটি আমার চোখের দিকে
তাকালো। ওর চেহারায় কিছু একটা
আছে। যেটা আগে ধরতে পারিনি।
ওর চোখ দুটি অসম্ভব সুন্দর। ডাগর ডাগর
কালো চোখ দুটো ওকে অন্যদের
চেয়ে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
মেয়েটি গলাটা একটু গম্ভীর করার
চেষ্টা করে বললো,
- কথা বলার জন্য এটা একটা পুরোনো
পদ্ধতি। কলেজে পড়ার সময় একটা
ছেলে এমন নাটক করেছিল। নতুন কিছু
থাকলে চেষ্টা করুন।
ওর কথা শুনে একটু বিব্রত বোধ করলাম।
তারপর স্বাভাবিক হবার চেষ্টা করে
কয়দিন ধরে কিভাবে খোঁজাখুঁজি
করেছি সেসব খুলে বললাম। ওর সাথে
কথা বলার জন্য আমার পরিকল্পনা
গুলোর কথাও বললাম। মেয়েটি আমার
কথা শুনে একটু হাসলো।
.
সেদিন সে বলেছিল ওর নাম পরী।
.
ওর সাথে বন্ধুত্ব করতে চাইলাম।
কিন্তু ও বললো ছেলেদের সাথে
বন্ধুত্ব করলে নাকি ছেলেরা একসময়
মেয়েদের প্রেমের প্রস্তাব দেয়।
সেদিন আমি তাকে কথা
দিয়েছিলাম আমি কখনো অন্য
ছেলেদের মতো এমনটি করবো না।
.
ধীরে ধীরে আমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব
হয়। পরী ইউনিভার্সিটিতে নতুন
ভর্তি হয়েছে। আমি বিবিএ থ্রি-টু
এবং ও ইংলিশে ওয়ান-টুতে। আমার
মতই সেও বাবা মায়ের একমাত্র
সন্তান।
.
সময়ের সাথে সাথে একসময় আমরা
ভালো বন্ধুতে পরিণত হলাম।
ক্যাম্পাসে দুজন সবসময় এক সাথে
থাকতাম। একসঙ্গে ঘোরাঘুরি
করতাম, আড্ডা দিতাম। আমাদের
বন্ধুত্বের সম্পর্ক এতই গভীর হলো যে
প্রায়ই একসাথে শহরের বিভিন্ন
রাস্তায় হাঁটতে বের হতাম। মাঝে
মাঝে আমরা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে
সিনেমা দেখতে যেতাম।
.
বাসায় একদম মন বসত না আমার। মন
পরে থাকতো পরীর কাছে। পরী
অনেক মেয়ের মত খুব বেশি হাসতো
না। কিন্তু ও যখন হাসতো তখন আমার
কি যে ভালো লাগতো। ওর মুখে একটু
হাসি দেখার জন্য আমি অধীর
আগ্রহে অপেক্ষা করতাম। ওর ডাগর
ডাগর কালো চোখ দুটোর দিকে
তাকালে আমি কোথায় যেন
হারিয়ে যেতাম।
.
ওকে প্রতিদিন এক নজর না দেখলে
আমার কিছুই ভালো লাগতো না।
শুক্র ও শনিবার বন্ধের এই দুই দিন খুব
কষ্টে পার করতাম। কোন কারণে ও
ক্যাম্পাসে না এলে বিষন্ন মুখে
এতিমের মত এলোমেলো
হাটাহাটি করতাম। সবসময় মনে হতো
কখন ভোর হবে কখন ওর চাঁদ মুখটি
দেখবো।
.
একবার রাজনৈতিক ঝামেলার জন্য
ক্যাম্পাস প্রায় এক মাস বন্ধ ছিল।
সেই সময় পরী বাড়িতে ছিল। তখন
ওকে দেখতে না পেয়ে আমি প্রায়
পাগলের মত হয়ে গেছিলাম। সেই সময়
এখনকার দিনের মতো মোবাইল ছিল
না। আমি ওর বাড়ির ঠিকানা
জানতাম। ওকে এক নজর দেখার জন্য
আমি ওদের বাড়িতে পর্যন্ত চলে
গিয়েছিলাম। সেদিন আমাকে
দেখে পরী ভীষণ অবাক হয়েছিল।
আমি অবশ্য বলেছিলাম ওদের পাশের
গ্রামেই আমার দুঃসম্পর্কের চাচার
বাড়ি। আমি ওখানেই এসেছি।
.
বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে বলে
পরী ছিল খুব জেদী প্রকৃতির।
আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক যদি নষ্ট হয়
এই ভয়ে আমি কখনো আমার
ভালোবাসা বুঝতে দিতাম না।
তাছাড়া আমি ওকে কথা
দিয়েছিলাম কখনো ভালোবাসার
কথা বলবো না।
.
ভালোবাসা অনেক বড় বড় মানুষকেও
শিশুর মতো অবুঝ করে দেবার অদ্ভুত
ক্ষমতা রাখে। ও কেন আমার
ভালোবাসা বুঝতে পারে না। কেন
বোঝেনা আমি ওকে কতটা
ভালবাসি। এই ভেবে ওর ওপর খুব রাগ
হতো। মাঝে মাঝে মনে হতো
সবকিছু বুঝেও না বোঝার ভান করছে।
আমাকে ইচ্ছে করেই নাকে দড়ি
দিয়ে ঘুরাতে চাইছে। আবার কোন
সময় মনে হতো সত্যিই আমাকে বন্ধু
ছাড়া অন্যকিছু ভাবে না। প্রত্যেক
মেয়েরাই চায় বিয়ের পর বর যেন
একজন ভালো বন্ধু হয়। অথচ একটা
ভালো বন্ধুকে কখনোই বর হিসেবে
পেতে চায়না না কেন?
.
উনিশ কুড়ি বছরের মেয়েরা হুটহাট
করে কারো প্রেমে পরে না। হয়তো
অবচেতনমনে কাউকে ভালোবাসে,
কিন্তু নিজেই বুঝতে পারে না।
তাদের মনের দরজায় জোরেশোরে
ধাক্কা মারতে হয়। ধাক্কায় কাজ
না হলে দরজা ভেঙ্গেচুড়ে
প্রবেশের চেষ্টা করতে হবে।
প্রেয়সীর মনে যদি বিন্দু পরিমাণে
অনুভূতি থেকে থাকে তবে বৃষ্টির মত
ভালোবাসা বর্ষণ হতে থাকবে।
পরীর ভেতরের ভালোবাসা বাইরে
বের করতে হলে ওর মনের দরোজায়
ধাক্কা দিতে হবে।
.
ম্যাথ ডিপার্টমেন্টে শারমীন
নামে কলেজ জীবনের এক বন্ধু ছিল।
পরী শারমীনকে আমার বন্ধু হিসেবে
জানতো। অনেকের মত শারমিনও মনে
করতো আমাদের মধ্যে প্রণয় ঘটিত
কিছু একটা আছে। সব খুলে বলার পর
শারমীন আমাকে সাহায্য করতে
রাজি হলো। আমরা একটা প্লান
করলাম। কয়েকদিনের জন্য শারমীন
আমার গার্লফ্রেইন্ডের ভুমিকায়
অভিনয় করবে।
.
পরদিন আমি আর শারমীন অর্জুন তলায়
পরিকল্পনা মতো পরীর জন্য অপেক্ষা
করতে লাগলাম। আমার বারবার মনে
হলো আমাদের পরিকল্পনা মাঠে
মারা যাবে। পরী যখন এলো তখন
আমরা এমন ভাব করতে লাগলাম যেন
ও আসাতে আমাদের অসুবিধে হচ্ছে।
শারমীনকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে
দেবার জন্য মুখে সামান্য লাজুক
হাসি ফুটিয়ে বললাম,
-শারমীন আমাকে ভালোবাসে।
কিন্তু কখনো বলতে পারেনি। এখন
মনে হচ্ছে আমিও ওকে পছন্দ করতাম।
কিন্তু এতদিন বুঝতে পারিনি।"
আমার কথা শুনে পরী ফ্যালফ্যাল
করে তাকিয়ে রইলো, যেন কিছুই
বুঝতে পারছে না। কয়েক মুহুর্ত কেটে
যাবার পর সে যেন নিজেকে ফিরে
পেল। একটা কৃত্রিম হাসি হেসে
আমাদের অভিনন্দন জানালো।
.
কৃত্রিম হাসির আড়ালে সবসময় কোন
না কোন দুঃখ লুকিয়ে থাকে।
.
পরী ক্লাসের কথা বলে দ্রুত হেটে
চলে গেল। বুঝতে পারলাম ওর
ভেতরে কিছু একটা হচ্ছে। আমার এই
ভেবে অনেক আনন্দ হলো যে পরী
হয়তো আমাকে সত্যিই ভালোবাসে।
.
দুদিন ওকে দেখিয়ে দেখি আমি আর
শারমীন ক্যাম্পাসে ঘুরে
বেড়ালাম। ওর সাথে দেখা হলে
তেমন কথা বলতাম না। পরীর
ভালোবাসা পেয়ে যেন আমি ওকে
ভুলেই গেছি। বুঝতে পারতাম
আমাদের একসাথে দেখে ওর
ভেতরটা জ্বলে পুরে ছাড়খার হয়ে
যাচ্ছে। ওর কষ্ট দেখে আমারও কষ্ট হত।
কিন্তু শারমীন খুব মজা পেত।
.
একদিন দেখলাম ও ডিপার্টমেন্টের
সিঁড়িতে বিষন্ন মুখে বসে আছে।
ভালো করে খেয়াল করে দেখলাম ও
কাঁদছে।
ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো।
আমার মতো একটা সাধারণ ছেলের
জন্য যেন সত্যিকারের পরী চোখের
পানি ঝরাচ্ছে। ভালোবাসা নামক
অনুভূতি গুলো আমার ভেতরে স্লো
মোশনে দৌড়াতে শুরু করলো। কিন্তু
আমাকে অপেক্ষা করতে হবে। পরী
কি সত্যিই আমার জন্য কাঁদছে নাকি
অন্যকোন কারণে ওর মন খারাপ সেটা
জানার জন্য। তা না হলে সবকিছু
গড়বড় হয়ে যেতে পারে। গতি বেড়ে
যাবার আগেই আমি স্থান ত্যাগ
করলাম।
.
দুইদিন পরের কথা। সেদিন মুক্তমঞ্চে
একটা অনুষ্ঠান ছিল। ইউএসএ থেকে
একজন বড় লেখক এসেছেন। সেজন্য
ডিপাটমেন্টের পুরো বিল্ডিং
প্রায় ফাঁকা। আমার সেদিকে তেমন
আগ্রহ ছিল না। কাল প্রেজেন্টেশন
জমা দিতে হবে। তাই একা একা
ক্লাসরুমে বসে প্রেজেন্টেশন প্রস্তুত
করছিলাম। সেই সময়ে পরী রুমে ঢুকে
আমার সামনে দাঁড়ালো। আমাকে
খুঁজে বের করে ফেলেছে। আমি
একবার ওর দিকে তাকিয়ে আবার
লেখার মনযোগ দিলাম। পরী কাঁপা
কাঁপা গলায় বললো,
-কি করছো? আমি কাজে মনযোগ
বাড়িয়ে দেবার অভিনয় করে
বললাম,
-শারমীনকে চমকে দেবার জন্য একটা
লম্বা চিঠি লিখছি। আমি মাথা উচু
করে পরীর চোখের দিকে
তাকালাম। চোখের সাথে মনের
সরাসরি সম্পর্ক। বুঝতে পারলাম ওর খুব
কষ্ট হচ্ছে। নিজেকে সামলে নেবার
চেষ্টা করে কিছু একটা বলতে
চাইলো। কিন্তু কিছু অর্থহীন ধ্বনি
ছাড়া একটি পুর্ণ শব্দও উচ্চারণ করতে
পারলো না। পরী একটু হাসতে চেষ্টা
করলো। কিন্তু সেখানেও সে ব্যর্থ।
পরীর চোখ দিয়ে ফোঁটা ফোঁটা
পানি গড়িয়ে পরছে। আমার মনে
হলো ওর চোখের পানি অন্য কোন
কারণে নয়। আমারই জন্য ওর চোখে অশ্রু
বন্যা।
.
ভালোবাসার আকাশে মেঘ
করেছে। যেকোন সময় সেই মেঘ গুলো
বৃষ্টি হয়ে ঝরে পরবে। আমি চাই বৃষ্টি
আসুক। ওর কষ্ট দেখে আমার বুকটা
ফেটে যাচ্ছে। আমি ওর দিকে
ভালোবাসাপুর্ণ দৃষ্টিতে
তাকালাম। পরী মাথা নিচু করে
কান্নাভেজা গলায় বললো,
-তোমার সব তো ওই শারমীন। আমি
তো তোমার কেউ না। তুমি ওকে
নিয়ে সুখে থাক। আমি তোমাদের
থেকে অনেক দূরে চলে যাচ্ছি।
পরী বের হয়ে যেতে চাইলে আমি
ওর হাতটি ধরে ফেললাম। পরী আমার
দিকে ফিরে তাকালো। আমি ওর
চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম,
-তুমি দূরে গেলে আমার কি হবে? ও
বড়বড় চোখ করে আমার চোখের দিকে
তাকিয়ে বললো,
- তোমার তো শারমীন আছে।
- নাহ, নেই। তোমাকে পাবার জন্য
নাটক করেছি। তোমাকে কথা
দিয়েছিলাম কখনো ভালোবাসার
কথা বলবো না। তাই তো তোমাকে
কিছু বলতে পারিনি।
ও আমার চোখে কিছু একটা খুঁজছে।
হয়তো আমার কথা সত্যি কিনা
বোঝার চেষ্টা করছে। তারপর
পৃথিবীর সব অভিমান একসাথে করে
আমার বুকে ধুম ধাম কিল দিতে
দিতে বললো,
- শয়তান, বাদর, বেড়াল, টিকটিকি,
তুমি আমাকে এত কষ্ট দিলা। আমি
তোমাকে কখনো ক্ষমা করবো না।
.
আমি ওকে শক্ত করে বুকে জরিয়ে
ধরলাম। বৃষ্টি হচ্ছে। ভালোবাসার
বৃষ্টি। আমি ভিজে যাচ্ছি ওর
ভালোবাসার বৃষ্টিতে। পরী
অঝোরে কেঁদে যাচ্ছে। সেদিন
প্রতিজ্ঞা করলাম এই পাগলী
মেয়েটিকে আমি কখনো কষ্ট দেব
না। আমি পরীর মুখটা সামনে এনে ওর
চোখের দিকে তাকালাম। পরীর
চোখে পানি, মুখে হাসি।
এই মেয়েটি আমার পরী। আমারই
পরী।
.
আচ্ছা ডানাওয়ালা পরীরা কি ওর
মতো এত সুন্দর করে হাসতে পারে?
মনে হলো আমার পরী উড়ে যাবে।
আমি আবার ওকে শক্ত করে বুকে
জড়িয়ে ধরলাম।
.
.
.
আজ আমাদের পঞ্চম বিবাহ
বার্ষিকী। আমার এমবিএ কমপ্লিট
হবার এক বছর পর আমরা বিয়ে করেছি।
আমাদের ভালোবাসাবাসির প্রথম
পুষ্প ওর কোলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে
আছে।
.
বিয়ের রাতে আমরা দুজন দুজনাকে
কথা দিয়েছিলাম ও রাগ করলে
রাতে ঘুমোনোর সময় আমি ওকে
জড়িয়ে ধরবো, আমি রাগ করলে ও
আমাকে জরিয়ে ধরবে। তা হলে সব
রাগ অভিমান গলে গলে
ভালোবাসায় রুপান্তর হবে। পরী আজ
আমার ওপর রাগ করেছে।
মাঝেমাঝেই সে সামান্য বিষয়
নিয়ে মিছেমিছি রাগ করে। আমিও
চাই ও মিছেমিছি রাগ করুক।