Buy this theme? Call now 01710441771
Welcome To Abc24.GA
.May 1, 2016

সত্ত্যিকারের ভালবাসার অনুভুতি


---তোমার কাপড় বুয়া ওয়াশ করলো
কেন?
---- আরে বুয়া তো আগে থেকেই
,মানে তুমি আসার আগে থেকেই ধুয়ে
দেয়।নতুন তো কিছু না।
---তোমাকে বলেছি না, তোমার
জিনিস পত্র আমি ছাড়া কেউ ধরতে
পারবে না!!
--- আরে গাধা এতে এত রিএ্যাক্ট
করার কি আছে? সিম্পল একটা ব্যাপার।
--- গাধা হবে না, গাধী হবে।আর শোন
এখন কেউ আর কখনো জিনিস পত্র- কেউ
ধরবে না।তোমার জিনিস পত্র সব আমি
ছাড়া অন্য কেউ টাচ করবে না। মাইন্ড
ইট।....
কয়েক দিন পরে,মিলা... এই মিলা
আমার নীল শার্টটা পাচ্ছি না।
দেখোনা একটু কই?
---ওহ নীল শার্ট, ওটা তো ঝুড়ি তে।
ওয়াশ করবো বলে রেখে দিয়েছি।
---- কি?? তো এখন কি পরে যাব
অফিসে?একটা ও তো দেখছি না
আলমারিতে।
----ওয়েট দেখি খুঁজে।
কিছু সময় খুজে মিলা একটা অপরাধী
চেহারা নিয়ে এসে সামনে
দাড়ালো।তারপর আস্তে মুখটা
অনিকের দিকে তুলে বল্লো,
-------সরি একটা ও খুজে পেলাম না
ওয়াশ করা শার্ট।
---- এখন!! অফিস যাবো কেমন করে।
তোমার কমন সেন্স এত কম কেন বুঝি না।
একটা তো অন্তত ওয়াশ করে রাখা
উচিত ছিল।
--- না মানে শোন, হয়েছিল কি...
---- থামো আর বলতে হবে না।যে
দায়িত্ব পালন করতে পারবে না।তা
মাথায় নেও কেন?বলতে বলতে অনিকে
গত কালের পড়ে যাওয়া শার্টটা পড়ে
রেডি হতে থাকলো।এত্ত বড় হয়েছে তবু
একটু দায়িত্ব বোধ আসল না( বিড় বিড়
করে বলতে থাকলো)।সকাল বেলা
মুডটা ই নস্ট করে দিল।
বলতে বলতে অনিক অফিসের উদ্দ্যেশে
বেড়িয়ে যেতে লাগলো।
----শোন, নাস্তা তো করে যাও...
---- তুমি কর নাস্তা, বলে ই অনিক
দরজাটা শব্দ করে লাগিয়ে বেড়িয়ে
গেল।
সকালে অফিসে পৌছানোর পরে
অনিক ফোন দেয় বাসায়,কিন্তু আজ দিল
না।মিলা ফোন দিল,কল ঢুকতেই অনিক
কেটে দিল।মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে
গেল।দুপুরে লাঞ্চের সময় আবার কল
দিল।একই ঘটনা ফোন রিসিভ করল না
এবার ও।সকালের ব্যাবহারে মিলা
অনেক কস্ট পেয়েছে।কান্না চলে
আসলে ও কাদেনি।কিন্তু নাস্তা আর
করা হলো না।সারাটা দিন মনটা
বিসন্ন ছিল।কিচ্ছু করার নেই, মনে মনে
বলতে লাগলো -------কেন খাবো
আমি!! না হয় একটা দিন আমি কাপড়
ওয়াশ করে ই রাখিনি তাই বলে কি
আমার ফোনটা ও পিক করা যেত না।
খাবো না আমি, সব কাপড় এক সাথে
ওয়াশ করব।
যেই কথা সেই কাজ।দুই, দুইটা বালতি
ভরে কাপড় ভিজিয়ে রাখলো।কিছু সময়
পরে বাসার কাজের বুয়া এসে বল্লো
--ভাবী, ভাইজান বলছে তার কাপড়
গুলো আমারে ধুইয়া দিতে।
--- (চোখ পাকিয়ে মিলা বুয়ার দিকে
তাকিয়ে) যাও বলছি আমার রুম থেকে।
ওর চাহনি দেখে বুয়া ভয় পেয়ে চলে
গেলো।
মিলা অনেক ক্লান্ত অনেক গুলো কাপড়
কেচেছে আজ।একবার মন হচ্ছিল এত কস্ট
কেন কাপড় ধোয়ায়!!পরে আবার মনে
মনে এই বলে নিজেকে শান্তনা দিল
---ভালবাসার জন্য মানুষ কত্ত কিছুই না
করে আর আমি সামান্য কাপড় কাচতে
পারব না!!
রাত ৮ টা,অনিক প্রতিদিনের চেয়ে
একটু লেট করেই বাসায় ফিরেছে।বুয়া
দরজা খুলে দিল।মিলা ঘুমাচ্ছে,তাই
টের পায়নি অনিক এসেছে কি না।
যথারিতী অনিকের ও রাগটা একটু
ঝেকেই আছে।ফ্রেশ হয়ে রুমের
আলমারি খুলতেই দেখে থাক থাক করে
ওর কিছু শার্ট আর প্যান্ট আয়রন করে
গোঁছানো।মনে মনে একটু হাসি পেলো
অনিকের,---- একটা পাগলী বউ আমার।হুম
বেশ রাগ করেছে হয়ত।আমি ও ভুল
করেছি,সারাটা দিন একবার ও ওর খবর
রাখিনি।ঠিক হয়নি কাজটা।এত খানি
মিস বিহেভ আমি না করলে ও পারতাম।
একটা অনুশোচনায় মন ভরে গেলো।এবার
আস্তে আস্তে কাছে গেলো মিলার।
ডাকতে লাগলো, মিলা... এই মিলা।
কোন জবাব নেই। এবার এক হাত দিয়ে
মিলার গায়ে হাল্কা নাড়া দিয়ে
ডাকলো,মিলা উত্তরে বলে উঠলো---
হুম।
অনিক এবার হাতটা কাপালে দিয়ে
দেখে গা পুড়ে যাচ্ছে জ্বরে।এবার
অনিক কাছে গেলো।মিলার মাথাটা
নিজের কোলের মাঝে তুলে নিয়ে দু
হাত দিয়ে চুল গুলোয় আদরে স্পর্শ করতে
লাগলো।নিজেকে অপরাধী অপরাধী
লাগছিল।মিলা বাবার বাসায় কাপড়
ধোয়া বা ঘরের কোন ভারী কাজ
করেনি।তাই অনিক ও চাইত না যে
মিলা ঘরের কোন ভারী কাজ করুক।
মিলা অনিকের কোলে মাথা রেখে
ঘুম ঘুম কন্ঠে বলছিল,----বুয়া ধোঁবে না
তোমার কাপড়,আমি ধুব সব সময়।আর তুমি
আমাকে এক দম বকবে না।আমি সহ্য
করতে পারি না।আমার কস্ট হয়,দম বন্ধ বন্ধ
লাগে।এক দম বকবে না,.......তুমি, বলতে
বলতে মিলার চোখ থেকে পানি
পড়ছিল।অনিক এবার মিলাকে তুলে শক্ত
করে বুকে জড়িয়ে রাখলো,সরি আর
কক্ষনো বকবো না তোমায়,অনেক
ভালবাসি যে তোমায়।ভালবাসার
অনুভুতিটা এমন যে অনিকের চোখে ও
পানি এসে গেলো।
সত্ত্যিকারের ভালবাসার অনুভুতিটাই
এমন,একজনার কান্না-দেখলে অন্য জনার
হৃদয়টাও কস্টে দুমড়ে,মুছড়ে যাবে।