Buy this theme? Call now 01710441771
Welcome To Abc24.GA
.Apr 7, 2016

আজ নিলয় সাহেব এর একমাত্র ভাইয়ের একমাত্র মেয়ের বিয়ে হচ্ছে।


আজ নিলয় সাহেব এর একমাত্র ভাইয়ের একমাত্র মেয়ের বিয়ে হচ্ছে।নিলয় সাহেব তার ভাইয়ের মেয়ের বিয়েটা নিজে, নিজের খরচে দিচ্ছেন।তিনি নিজেই সব তদারকি করছেন।
.
বিয়ে বাড়ি আগত অতিথিদের পদচারনায় মুখরিত। নিলয় সাহেব বিয়েতে জাঁকজমক এর কোন কমতি রাখেন নাই।সব ধরনের ব্যবস্থা তিনি নিজেই করেছেন। কারন একটাই মাত্র তার ভাতিজি। তাই তার বিয়েতে আনন্দের বন্যা বইয়ে দিতে চান তিনি।
.
নিলয় সাহেব বাড়ির উপরে উঠতে গিয়ে কিছু মেয়েকে দেখে থমকে দাড়ালন।আস্তে আস্তে মেয়ে গুলোর কাছে গিয়ে অস্বাভাবিক ভাবে নিঃস্বাস নিচ্ছিলেন।মেয়ে গুলো তার ভাতিজী এর বান্ধবী হতে পারে।মেয়ে গুলো তাদের বান্ধবীর চাচ্চু এবং প্রায় চল্লিশোর্ধ একজন মানুষের এমন আচরনে অনেক টা অবাক হয়ে যায়। কারন নিলয় সাহেব এর বউ বাচ্চা কেউ নাই।এমন মানুষের আচরণ খারাপ হতেও পারে।
.
নিলয় সাহেব মেয়ে গুলোর অনেক কাছে গিয়ে এমন আচরণ করায় মেয়েগুলো ভয় পেয়ে যায়।হঠাত নিলয় সাহেব একটা মেয়ের খুব কাছে চলে আসে।বাকিদের দিকে তার কোন নজর নেই। হুট করে নিলয় সাহেব ওই মেয়েটিকে ডেকে নেয়। মেয়েটা ভয় ভয় করলেও মানুষ টাকে ওই ভয় টা পাচ্ছিল না যেই ভয় টাকে মেয়েরা ভয় পায়।
.
মেয়েটিকে নিলয় সাহেব ড্রয়িং রুমে ডেকে নিয়ে বসল।মেয়েটি চুপচাপ গিয়ে তার সাথে বসল।
:তোমার নাম কি নীলিমা?
:জ্বী, আমার ডাক নাম নীলিমা।
:তোমার আম্মুর নাম নিরুপমা আহসান ঐশী?
:জ্বী, কিন্তু আপনি জানলেন কি করে?
:এমনি মনে হল, আচ্ছা তোমার আম্মু কি এখনো ৪টা বালিশ নিয়ে ঘুমায়?
:হম ( আশ্চর্য হয়ে)।
: তোমার আম্মু রাগ করলে অনেক জোরে জোরে নিঃশ্বাস নেয় এখনো?
:আপনি এসব জানেন কি করে?
:আমারই জানা কথা শুধু( দ্বীর্ঘশ্বাস ছেড়ে), তোমার আম্মুর নাম্বার আছে?
:জ্বী আছে।
:একটু কল দাও তো তোমার আম্মু কে.....কল দিয়ে আমাকে দাও।
.
অতঃপর মেয়েটি তার আম্মুর নাম্বারে কল দিয়ে ফোন টা নিলয় সাহেব কে দিল।
নিলয় সাহেব ফোন টা কানে নিয়ে শুধু মাত্র
খুব জোরে ২টা দ্বীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ফোন টা মেয়েটিকে দিয়ে দিল।
ফোন টা মেয়েটি কানে নিয়ে হ্যালো বলতেই
তার আম্মু বলে উঠলো
:কোথায় পেলে তুমি ওই লোকটাকে?
:আম্মু!!!!!!! ওই দ্বীর্ঘশ্বাস টা যে একটা লোকের ছিল সেটা তুমি জানলে কি করে?
:তোমাকে এত কিছু জানতে হবে না।তুমি কোথায় এখন?
:আমার বান্ধবীর বিয়ে তে..... মৌনতা দের বাড়িতে।
: তুমি ওখানেই থাকো ওই লোকটার কাছে।আমি আসতেছি। আমি না আসা পর্যন্ত ওই লোকটিকে ছাড়বা না।
★★
★★★
আচ্ছা নিলীমা, একটা গল্প বলবো, শুনবা? নিলয় সাহেব বললেন।
বলেন শুনি।( নিলীমা)
..
একটা ছেলে আর একটা মেয়ের গল্প।ছেলেটা তখন MBA করছে তখন তার ভালবাসার মানুষটি অনার্স শেষ বর্ষে।মেয়েটির বাড়ি থেকে বিয়ের চাপ দিতে থাকে।মেয়েটির এত সাহস ছিল না যে সে তার ভালবাসার কথা তার পরিবার কে বলবে।তার আব্বু ছিল না।অভিভাবক বলতে চাচা ফুপি রা।আম্মু ছিল শো পিচ এর মত। তার আম্মুর মতামত এর মুল্য ছিল না।
.
বিয়ে ঠিক হবার এক সপ্তাহ আগে মেয়েটি ছেলেটির কাছে চলে আসে।এসে বলে আমাকে বিয়ে করো আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না।ছেলেটি যদিও চাকরি করতো না তখন তবুও মেয়েটি তার ভরসায় খালি হাতে, নিজের লাগেজ ছাড়াই তার কাছে চলে এসেছে। তাই মেয়েটির বিশ্বাস নষ্ট করতে চায়নি।মেয়েটিকে বিয়ে করে নেয়।কিছুদিন পরে তার MBA শেষ করে একটি জব করতে থাকে।
.
এভাবেই চলছিল।বিয়ের দেড় বছর পর তাদের রাজকন্যার মত ফুটফুটে একটি মেয়ে হয়। ছেলেটির কাজে খুশি হয়ে উর্ধতন কর্মকর্তা তাকে প্রমোশন দেন।ব্যাংকের ব্রাঞ্চ প্রধান হয়ে যায় ছেলেটি। জীবন, সংসার যেন স্বপ্নের মত কাটছিল। তিন জনের সংসারে যেন আল্লাহ নিজ হাতে খুশি তে ভরিয়ে দিচ্ছিলেন।
.
কিন্তু এটা তো পৃথিবী আর পৃথিবীতে যদি বেহেস্তের সুখ মানুষ পেয়ে যায় তাহলে তো আর মানুষ বেহেস্ত চাইবে না। তাই হয়তো আল্লাহ এত সুখ দিতে চায় নি। ছেলেটির কাজের চাপ বেশি হয়ে যাচ্ছিল দিন দিন।কিন্তু মেয়েটি সেটা বুঝতে চাইতো না।সে বলতো আমি তোমাকে পাওয়ার জন্য তোমার কাছে এসেছি।আর সেই তোমাকেই তো পাচ্ছি না।
এভাবেই টুকটাক মনোমালিন্য চলছিল।
মেয়েটির কোন দোষ ছিল না।সে তার স্বামীর কাছে একটু বেশি সময় চাইতেই পারে।আবার ছেলেটির ও করার কিছুই ছিল না।ব্রাঞ্চ প্রধান হিসেবে তার উপর কাজের চাপ ছিল বেশি।
.
তারিখ টা ছিল ১৫ই জুন....
সেদিন ছিল তাদের বিবাহবার্ষিকী। মেয়েটি ছেলেটিকে তাড়াতাড়ি আসতে বলেছিল।ছেলেটিও সেটাই চাচ্ছিল।সন্ধ্যার পরপরই মেয়েটা বেশ সেজেগুজে বসে ছিল ছেলেটির জন্য।ছেলেটি রাত ৯টা বাজার পরেও বাসায় ফিরছে না তখন সে ছেলেটিকে ফোন করে।ছেলেটির মোবাইল বন্ধ ছিল।
তখন মেয়েটি ছেলেটির কলিগ হাবিব কে ফোন দেয়। হাবিব বলে, স্যার তো সন্ধ্যায় বের হয়ে গেছেন আমাদের এক কলিগ তৃষ্ণা কে নিয়ে।
.
আকাশ ভেঙ্গে পড়ে মেয়েটির মাথায়।সেদিন রাতে ছেলেটি বাসায় ফেরে না।পরের দিন সকাল ১০টায় বাসায় এসে দেখে থমথমে ভাব বিরাজ করছে পুরো বাসায়।বেডরুমে গিয়ে দেখে মেয়েটি ঝিম মেরে বসে আছে।ছেলেটির কাছে মেয়েটির একটাই প্রশ্ন ছিল
"কাল রাতে তুমি তৃষ্ণা নামের মেয়েটার সাথে ছিলে?" উত্তর দাও হ্যা বা না?
ছেলেটি অবাক হয়ে উত্তর দেয় হ্যা।কিন্তু.....
বাকিটা আর বলার সুযোগ পায়নি সেদিন ছেলেটা। আগে থেকেই গুছিয়ে রাখা লাগেজ আর তাদের ৬ মাস বয়সের রাজকন্যা কে নিয়ে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই মেয়েটি বের হয়ে যায়। আর বলে যায় তাকে যেন আর না খুজে ছেলেটি।
.
পেছনের কথা ছিল এটা যে,
তৃষ্ণা মেয়েটি ছিল তার বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। তার মা আগেই মারা গিয়েছিল। তার বাবা ছিল প্যারালাইজড। টাঙাইলে এক হাসপাতালে ভর্তি ছিল। আর সেদিন সন্ধে বেলায় তার বাবার অবস্থা অনেক খারাপ হয়ে যায়।তাই ডাক্তার রা বলে তাকে বাঁচাতে হলে ঢাকা মেডিকেলে নিতে হবে রাতের মধ্যেই।একা একটা অসহায় মেয়ে ছেলেটির কাছে কান্নাকাটি শুরু করে দিলে। সেদিন ছেলেটি তৃষ্ণা মেয়েটির সাথে টাঙাইল গিয়ে তার বাবা কে নিয়ে DMC তে ভর্তি করায় তাতে রাত ৪টা বেজে যায়।আর ফোনে চার্জ না থাকায় তার মোবাইল বন্ধ হয়ে যায়।তাই মেয়েটিকে একা না রেখে তার সাথে হাসপাতালে থেকে যায়।কিন্তু ভোর রাতে মেয়েটির বাবা মরে যায়।সকালে মেয়েটির বাবার লাশ তার বাড়িতে পৌছে দিয়েই ঘরে ফিরেই ঘটলো সেই ঘটনা।তার মেয়েকে নিয়ে তার জীবনসঙীনি তাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই চলে যায়।
.
ছেলেটি মেয়েটিকে ছাড়া অসহায় হয়ে যায়।প্রতি মুহুর্ত তার মনে হয় এই বুঝি ফিরে আসলো সে।কিন্তু আসে নি।যেখানে যেখানে যেতে পারে এমন সব খানেই খুজে খুজে হয়রান হয় যায়। এভাবে ২মাস কেটে যাবার পর ছেলেটি মেয়েটির আম্মুর কাছে যায়। গিয়ে জানতে পারে মেয়েটির আম্মু মাস খানেক আগে মারা গেছেন এবং মেয়েটি তার আম্মু মারা যাবার পর এখান থেকে চলে গেছে। এবং সে কোন একটি কলেজে অধ্যাপনার চাকরি পেয়েছে।
.
মেয়েটির পরিবারে আর এমন কেউ ছিল না যে ছেলেটিকে মেয়েটির ঠিকানা দিবে।যারা ছিল তারা কেউ ছেলেটিকে পছন্দ করতো না।তবুও বারবার তাদের কাছে ছেলেটি ফিরে গেছে শুধু মেয়েটির ঠিকানা পাবার আশায়।তখন তার বারবার মনে পড়ে মেয়েটির একটি কথা যে, আমি যদি চাই কেউ আমাকে খুজে না পাক, তাহলে কখনো সে আমাকে খুজে পাবে না।
.
এমন করে ৬মাস যাবার পর ছেলেটি পাগল প্রায় হয়ে যায়।ছেলেটি মেয়ে কাপড় গুলো তে নাক গুজে থাকত। মেয়েটির শরীরে একটা ঘ্রান ছিল যা ছেলেটিকে পাগলের মত টানতো। অনেক দুর থেকে সে মেয়েটির শরীরের ঘ্রান পেত।বুঝতে পারতো মেয়েটির অবস্থান।চোঁখ বন্ধ করেও হাজার টা মেয়ের মধ্যে থেকেও সেই মেয়েটিকে খুজে নিতে পারতো ছেলেটি।
.
এমন করে ১বছর হয়ে যায়।ছেলেটি জানতো মেয়েটি অনেক রাগী, আর জেদি। কিন্তু এতটা রাগী হবে ভাবতে পারে নি।ছেলেটি আর পারে নি। বিদেশ চলে যায় সব ছেড়ে। ১৫টা বছর বিদেশে কাটিয়ে দেয়।তারপর ফিরে আসে দেশে এসে খুজে ফেরে তার সেই ভালবাসার পাগলী আর তার রাজকন্যা কে।
হয়তো এভাবেই শেষ হতে পারতো কিন্তু এভাবেই শেষে হলো না......( কাঁদতে কাঁদতে)
.
আব্বুওওওও (চিৎকার করে কেঁদে এভাবেই ডেকে ঊঠে নিলীমা)। আব্বু তোমাকে ছাড়া আম্মুও ভাল ছিল না। আম্মুর কাছে আব্বুর কথা জানতে চাইলে ঠিক এই গল্পটিই বলতো আম্মু। এই গল্পটি শুনে শুনেই আমার ২০টা বছর কেঁটে গেছে আব্বু।
.
নানু মনি মারা যাবার পর নানুরা আম্মু কে ওখানে থাকতে দেয় নি।আম্মু আমাকে নিয়ে চট্রগ্রাম চলে যায়।সেখানে একটা কলেজে চাকরি করতে থাকে। তিন বছর পর হঠাৎ একদিন তৃষ্ণা আন্টির সাথে দেখা হয়।তখন তার ভুল ভাঙে।তখন তোমার কাছে ফিরতে ঢাকায় আসে কিন্তু ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে। তখন তুমি বিদেশ চলে গেছো।
.
তারপর থেকে আমি আব্বুর কথা জানতে চাইলেই এভাবেই বলতো আম্মু।বলতো কিভাবে তুমি আম্মুর ঘ্রান পেতে অনেক দুর থেকে। কিভাবে চোঁখ বন্ধ থাকলেও তুমি আম্মু কে খুজে নিতে পারতে।
আব্বু আম্মু তোমাকে অনেক ভালবাসে (নিলয় কে জরিয়ে ধরে)
.
হটাৎ নিলয় সাহেবের বাড়ির সামনে একটি প্রাইভেট কার এসে থামলো। কার থেকে নেমে এলেন মধ্যবয়সী এক সম্ভ্রান্ত মহিলা। চোঁখে রিমলেস চশমা।আধাপাকা চুলে হিজাব করা।যেন এক কথায় অপুর্ব। হেটে এসে নিলয় সাহেবের বুকে ঝাপিয়ে পড়লেন সবার সামনেই।
তারপর কেঁদেই চলেছেন থামার কোন নাম নেই।
.
আজ ২০টি বছর পর সেই মানুষটার বুকে মাথা রাখছে যাকে ছাড়া ২০সেকেন্ড থাকতেও তার কষ্ট হত।এই সেই নিরুপমা আহসান ঐশী। নিলীমার আম্মু।
.
যার শরীরের ঘ্রান তাদের মেয়ের শরীরেও আছে।
যাকে নিলয় বলতো ভালবাসার ঘ্রান। আর সেই ঘ্রান আজ ২০বছর পর পেল নিলয়। খুজে নিলো তার মেয়ে কে। আর সেই আগে থেকেই ফোনে নিলয়ের দীর্ঘশ্বাস এর শব্দ শুনেই নিরুপমা বুঝতো নিলয়ই আননোন নাম্বার থেকে ফোন দিছে।
.
তারপর আবার তিন জন
নিলয় নিলীমা নিরুপমা। তিনজন এক সাথে হল।নিলয় নিলীমা ও নিরুপমা কে বুকে জরিয়ে নিল।
বিয়ে বাড়িটা আসলেই মিলন মেলায় পরিনত হল।
ভালবাসার ঘ্রানে জরিয়ে থাকুক তাদের বাকি জীবন এই কামনাই করি।
আমিন........