Buy this theme? Call now 01710441771
Welcome To Abc24.GA
.Apr 27, 2016

মা এবং আমি- মাকে ঘিরে আমার অনুভুতি


১.
আমি যখন থেকে মায়ের পেটে তখন
থেকেই মাকে জ্বালাই। মা বলেছে
আমি নাকি মাকে ঘুমুতেও দিতাম
না। প্রায় সময় নাকি লাথি দিতাম।
যখন লাথি দিতাম মায়ের অনেক কষ্ট
হতো। কিন্তু মা কি পরম মমতায়
পেটের উপরে হাত বুলিয়ে দিতো
আমার ছোট ছোট পায়ে। এই আদর
এখনো আমার শরীরে মেখে আছে।
মায়ের আস্কারা পেয়ে তখন থেকেই
মায়ের সাথে আমার সব রাগ
অভিমান আহ্লাদ। মা পেটে হাত
দিলে অনেক ভাল লাগতো। পেটের
ভিতর থেকে মায়ের হাতটা ছুঁতে
চাইতাম। প্রচুর নড়াচড়া করতাম। মা খুব
ব্যাথা পেতো। তখন বুঝতে পারিনি
মা যে ব্যাথা পেয়ে পেটে হাত
বুলাচ্ছে; ভাবতাম মা আমায় আদর
করে দিচ্ছে। আমি সেই থেকে
মায়ের আদরের পাগল।
একটু বড় হওয়ার পর আপুর সাথে কত
হিংসাহিংসি আমার। কত
মারামারি। সব জেদাজেদির
শেষে আমারই জয় হতো। আপুকে মা
বকা দিয়ে বলত- "ছি মামনি ও তো
ছোট। ছোট ভাইকে কেউ মারে।"
আমিও তখন ঠোঁট উল্টে মায়ের বুকে
আছড়ে পড়তাম। মায়ের আহ্লাদে
আরো বেয়াড়া হয়ে উঠেছি।
ঘুমের সময় মায়ের গলা না জড়িয়ে
ঘুমুতে পারতাম না। আবার খুব কষ্ট করে
চোখ খুলে রাখতে চাইতাম। মনে
হতো আমি ঘুমিয়ে গেলে আম্মু
আপুকে আদর করবে। কিন্তু পৃথিবীর
সেরা আশ্রয় সেরা শান্তির জায়গা
মায়ের বুকে বেশিক্ষন জেগে
থাকতে পারতাম না। মা পিঠে
মাথায় হাত বুলালে দু'চোখ ভারি
হয়ে যেত। মায়ের আদরে কখন যে
ঘুমিয়ে পড়তাম। ভোর বেলা ঘুম
থেকে উঠে প্রথমেই মাকে খুঁজতাম।
কখনোই পেতাম না। ঘুমের মাঝে
খাটের কোন কোণায় যে চলে
যেতাম গড়াতে গড়াতে বুঝতে
পারতাম না। তারাতারি আবার
মায়ের গলা জড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়তাম।
এভাবেই মা নেওটা আমি মায়ের
আঁচলের নিচে কখন যে বড় হয়ে
উঠেছি টের পাইনি। আজ খুব মাকে
বকা দিতে ইচ্ছে করে- "মা কেন
আমায় তুমি বড় করে দিলে। তোমার
ছোট্ট ছেলেটি করে কেন রাখলে
না। নজর না লাগার জন্য কপালে যে
কাজলের টিপ দিতে সেই বয়সে
আমায় আবার নিয়ে যাও না। আমি
আবার তোমার সাথে
তোতাপাখির মতো টুইংকেল
টুইংকেল লিটল স্টার ছড়াটা
শিখতে চাই। প্রমিজ মা, এবার
পাঁচের ঘরের নামতা তারাতারি
শিখে ফেলবো। খাওয়া নিয়ে আর
জ্বালাবো না। কিন্তু কেন আমাকে
বড় করে দিলে মা?"
২.
এই পর্যন্ত মা আমাকে অনেকবার
রিক্সা কিনে দিবে বলেছে।
পড়ালেখায় একটু ফাঁকিবাজি
করলেই এই হুমকি দিতো। আর কতবার
যে হোটেলে বেয়ারার চাকরি
দিয়ে দিলো। "মারে, এখন আমি
অনেক বড় হয়ে গেছি মা। তোমার
ছেলে এখন এই ঢাকা শহরে চাকরি
করে। তোমার এই রান্না ভাল হয়নি ঐ
রান্না ভাল হয়নি বলে যে আমি ঘর
মাথায় তুলতাম; সে আমি এখন সাদা
ভাতে পানি দিয়ে একটু লবণ
ছিটিয়ে ডিম ভাজি দিয়ে খাই।
শীতকাল এসে চলে যায় তোমার
হাতের পিঠা খাওয়া হয়না।
ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ভাপা পিঠা
খাই। কখনোবা শুকনো চিতই পিঠা
সর্ষে ভর্তা দিয়ে খাই। কেন আমায়
বড় করে দিলে মা। কেন আমায় আজ
একা রান্না করে রাত বিরাতে
খেতে হয় মাগো।"
প্রতি ঈদে যখন মায়ের জন্য বাবার
জন্য বোনের জন্য কাপড় কিনে নিয়ে
যেতাম এরচেয়ে বড় আনন্দ বড় প্রাচুর্য
আর কিছুতেই নেই। ট্রেনে উঠে যখন
বসি তখন ব্যাকুল হয়ে থাকি কতক্ষণে
চট্টগ্রাম পৌছাবো। তূর্ণা নিশিতার
ঝিক ঝিক আওয়াজ বুকে আলোড়ন
তুলে- আমি আসছি মা, আমি আসছি।
৩.
বোনের সাথে যতই খোঁটাখুঁটি হোক
আপু আমাকে ছাড়া কিছুই খেতো
না। কেউ একটা চকলেট দিলেও
আমার জন্য রেখে দিতো। দু'ভাই বোন
ভাগ করে খেতাম। আপুর আজ বিয়ে
হয়ে হয়ে গেছে। আপুর শ্বশুর বাড়িতে
গেলে খাওয়ার সময় পাশে দাঁড়িয়ে
থাকে কখন কি লাগবে। যদি পারতো
তো খাবারটাও ভাইকে চাবিয়ে
দিতো।
আমার মায়ের কাছে বাবার কাছে
আমরা দু'ভাই বোন অভিন্ন কিছু
ছিলাম না কখনো। বাবা মা খুব ভাল
করে শিখিয়ে দিয়েছে কি করে
সম্পর্ক গুলোকে শ্রদ্ধা করতে হয়
আকড়ে ধরতে হয়। হয়তো তাও ভুল হয়ে
যায়। সেই ভুল বুঝতে পারার বোধটুকু
এখনো আছে।
তবুও আক্ষেপ কাটে না মায়ের উপরে,
" মারে কেন কেন কেন আমায় বড়
করে দিলে। বেশ তো ছিলাম ভাল
দু'ভাই বোন তোমার আঁচলের নিচে
আদরে আদরে। কতবার বলেছো
বাথরুমে আমার জন্য একটা খাট
বিছিয়ে দিবে, যেন ঘুমুতে পারি।
গোসল করতে গিয়ে আমার সময়ের
কোন হুশ থাকতো না বলে। সেই আমি
এখন পাঁচ মিনিটেও গোসল করি মা।
মাগো এখনো প্রায় দুঃস্বপ্ন দেখে
ভয়ে ঘুম থেকে জেগে উঠি। কিন্তু
কেউ থাকে না পাশে। তুমি কেন
আমায় তোমার বুকে নিয়ে ঘুমাও না।
তুমি কেন এতো দূরে থাকো মা,
কেন। মনে পরে মা কয়েক বছর আগে
তোমাকে আর নিচ তলার, পাশের
বাসার আন্টিদের মা দিবসে নুডলস
বানিয়ে খাইয়েছিলাম। আবারো
যে খাওয়াতে খুব ইচ্ছে করে মা।
মাগো তুমি ভাল থাকো সুস্থ
থাকো। না হলে তোমার নাতি-
নাতনিদের কে পালবে। তোমার
বউমা কি একা সামলাতে পারবে
বল? তুমি আমাদের দু'ভাই বোনের
কাছে গাছের মতো। মায়ার শিকড়
দিয়ে এই সংসারে আজো আমাদের
বাঁচিয়ে রেখেছো। গাছ ভাল
থাকলে গাছের ফলও ভাল থাকে।
মাগো তোমার ছেলেটা তোমায়
এই এত্তো গুলা ভালবাসে মা, এই
এত্তো গুলা। চেয়ে দেখো মা, এই
এত্তো গুলা।"