Buy this theme? Call now 01710441771
Welcome To Abc24.GA
.May 1, 2016

রাগি চোখের চাহনি,


.
অফিসের কাজে এক মেয়ে
কলিগের সাথে রিসিপশনে বসে
কথা বলছি।যদিও কনফারেন্স রুম ছিল
তবুও কেন জানি রিসিপশনটাই
পারফেক্ট মনে হল।
.
এখানে বসে কথা বলা আমার
কাছে পারফেক্ট হলেও রিসিপশনে
বসে থাকা মেয়ের কাছে
আমাদের বসে থাকা পারফেক্ট
মনে হচ্ছে নাহ।হাজার হলেও সুন্দরি
মেয়ে কলিগের সাথে কথা বলা
তাও আবার আরেক সুন্দরীর সামনে।
.
মেয়েটি বার বার আমার দিকে
ট্যারা ট্যারা ভাবে তাকাচ্ছে
আর চোখে রাগের ঝলকানি
দেখাচ্ছে।এই রাগের মানে বুঝি
আমি।এই রাগের সাথে আমি অনেক
আগে থেকেই পরিচিত।
.
মেয়ে কলিগের সাথে কথা বলা
শেষে যেইনা হ্যান্ডশ্যক করতে যাব
তখনি বিপত্তি বাধালো
রিসিপশনে বসে থাকা মেয়েটা।
রিসিপশন থেকে উঠে এসে
আমাকে বলল,
--রনি সাহেব স্যার আপনাকে ফোন
দিয়েছেন।দয়া করে রিসিপশনে
আসবেন?
.
যাহ!!মেয়েটার সাথে আমার
হ্যান্ডশ্যক করা আর হলনা।আর
কেমনেই হবে?রিসিপশনে বসে
থাকা মেয়েটা আর কেও নয় আমার
একমাত্র বউ মাহবুবা।যদিও অফিসের
কেও জানেনা।আজ যে বাসায়
গেলে আমার কপালে শনি থেকে
শুরু করে সব খারাপ কিছু আছে বুঝতে
পারছি।
.
মাহবুবার কথা শুনে মেয়ে কলিগটা
চলে গেল।আর আমিও মাহবুবার
পিছনে রিসিপশনে আসলাম।যদিও
আমি জানি কোন বস ই ফোন
দেইনি।সব এই মাহবুবার
চাল,হ্যান্ডশ্যক করতে দিবেনা
বলেই এমন মিথ্যেটা বলল।কি
মেয়েরে বাবা!!একবার হ্যান্ডশ্যক
করলে কি হয়?হাজার হলেও
কলিগের নরম হাত।যদিও আমি কখনো
ধরিনি।
.
--আজ বাসায় চল।
--রোজই তো যাই।
--রোজকার যাওয়া আর আজকের
যাওয়া একনা মি:রনি।
--এই আমি তোমার স্যার।(বুক ফুলিয়ে
বললাম যদিও বাসায় গেলে আমার
ফোলা বুকটা চুপসে যাবে।)
--কে কার স্যার সেটা বাসায়
গেলেই বুঝবেন মি: রনি স্যার।
.
আমি আমার রুমে চলে আসলাম আর
মাহবুবা তার রিসিপশনে।এই
কোম্পানিতে জব করার সুবাদে
মাহবুবার সাথে আমার পরিচয়,সেই
থেকে ভাললাগা,তারপর
ভালবাসা তারপর বিয়ে।মাঝে
মাঝে মনে হয় আমাকে এত
ভালবাসে কেন?এত হিংসেই বা
করে কেন?
.
অফিস থেকে মাহবুবা আগেই আসে
আর আমি পরে।যেহেতু অফিসের
কাজ সব শেষ করে আসতে হয়।
কলিংবেল টিপতেও কেন জানি
আজকে ভয় করছে।মনে হচ্ছে হাতে
কাজ করছে নাহ।তবুও আসতে করে
টিপ দিলাম।সাথে সাথেই খুলে
গেল।মনে হয় দরজার ওপাসে
দাড়িয়েই ছিল আমার জন্যে।
.
সাথে সাথে রুমে চলে গেলাম
যাতে মাহবুবা আমাকে না ধরতে
পারে।কিন্তু আমার এই ছোট্ট ঘরের
মাঝে আর কই ইবা যাব।মাহবুবাও
আমার পেছন পেছন আসল।আমি যত
বেলা রুমে যা যা করলাম সব দেখল।
এক কথায় তার চোখের আড়াল হতেই
দিল নাহ।আজ যে আমার চোখে
মুখে গায়ে গতরে শনির দশা আছে
বুঝতে পারছি।
.
মাহবুবা আজ যদি কিছু করে তাহলে
আমিও তার ঔষধ জানি।ওকে পেছন
থেকে জাপটে ধরলে আর নড়তে
পারেনা তাই আসতে আসতে হার
মেনে নেই।আমিও ছাড়ি নাহ।বেশ
মজা লাগে মাহবুবাকে জরিয়ে
ধরতে।
.
--কিহ খুব মজা জেরিনের হাত
ধরতে?
--জেরিন?সেটা আবার কে?
--তা চিনবা কেন?হেসে হেসে
কথা বলতে তো আর নাম জানা
লাগে নাহ।
--হাত ধরতে দিলে কই?যে বুঝব নরম
না শক্ত।
--খুব ইচ্ছা জেগেছে বুঝি হাত
ধরার?
--আরে নাহ নাহ।ওটাতো এমনি।
--তা ওর হাত ধরার ব্যবস্থা করে
দেই?
--মানে?
--মানে আমার যাইগাই ওকে দিয়ে
দেই?
--মাহবুবা?হিংসে করতে করতে কি
বল এই গুলা?মাথা ঠিক আছে?
--হা হা হা।আমার মাথা ঠিক
আছে।(চেচিয়ে বলল মাহবুবা)
--শান্ত হও প্লিজ।তূমিনা আমার বাবু
পাখি।
--খবরদার আমাকে এসব নামে
ডাকবে নাহ।আমি পুরোনো হয়ে
গেছি তাইনা?আমাকে আর ভাল
লাগেনা তাইনা?বললেই পারতে
আমি দুরে চলে যেতাম।
--পারতে আমাকে ছাড়া থাকতে?
--সেটা পারব না বলেইতো এসব
করো।
--আচ্ছা আমি আর কিছুই করবনাহ।
.
মেয়েটি আমার বুকে মাথা গুজে
কাদছে আর আমার শার্ট ভেজাচ্ছে।
আমি আটকাচ্ছি নাহ।কারন এটা
হিংসের কান্না।এটা ভালবাসার
মানুষকে কাছে ধরে রাখার
কান্না।যে কান্নায় ভেসে যাই
ভালবাসার মানুষের দুঃখ কস্টগুলা।