Buy this theme? Call now 01710441771
Welcome To Abc24.GA
.May 14, 2016

ভালবাসার গল্প


বিকেল চারটা বেজে বিশ মিনিট...
বাইরে হালকা বৃষ্টি হচ্ছে, অফিসে
বাম সাইডে কোন ওয়াল নেই, পুরোটাই
গ্লাস দিয়ে মুড়ানো, তাই শহরটা স্পষ্ট
দেখা যাচ্ছে, গাড়ির লাইট আর
হালকা বৃষ্টি মিশ্রিত বিকেলের
কারণে শহরটা এক অপরূপ সৌন্দর্যে রূপ
নিচ্ছে আস্তে আস্তে, অফিসের কাজ
শেষ, তবুও ডিউটির সময়টা শেষ হওয়ার
অপেক্ষায় বসে আছে জাহিদ।
সামনে ল্যাপটপের স্ক্রিনে ফারিয়ার
শাড়ি পরিহিত একটা ছবি ওপেন করে
বসে আছে জাহিদ।
শাড়ি পড়লে মেয়েটাকে অদ্ভুত রকমের
সুন্দর লাগে,
- ইশ,,,
জানিনা আগের জন্মে কোন ভাল কাজ
করেছিলাম কিনা, হয়তো করেছি...
নয়লে কি আম্মু এত কষ্ট করে তোমার
মতো একটা পরীকে আমার কাঁধে ঝুলায়
দিতো???
হাহ...
এত সুন্দর হওয়ার কি প্রয়োজন ছিল
তোমার হুম???
ছবির সাথে একা একাই কথা বলতে
থাকে জাহিদ, ইদানীং তার
পাগলামিটাও না, কেমন বেড়েই
চলেছে, অদ্ভুত সব আবদার করে বসে
বৌয়ের কাছে।
তিন মাস হলো তাদের বিয়ে হয়েছে,
অন্যান্য ফ্রেন্ডদের মতো প্রেম করে
বিয়ে করার সৌভাগ্যটা তার হয়নি, খুব
লাজুক ছেলেদের ক্ষেত্রে সচরাচর যা
হয় আরকি, কাউকে ভাল লাগলে দূর
থেকেই জাস্ট ভালবাসতে পারে,
সামনে যাওয়ার সাহসটা তাদের তেমন
একটা হয়ে উঠেনা।
তাই অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ করতে হলো
তাকে।
তবে খারাপ হয়নি, অন্য ফ্রেন্ডরা কিন্তু
এখন তাকে দেখে খুব হিংসা করে..
অবশ্য করার ই কথা।
টেবিল থেকে সেল্ফোনটা হাতে
নিয়ে ফারিয়াকে একটা ফোন দিল
সে...
- হ হ্যা হ্যাএএএএলোওওওও......হুম...
- একি, তুমি এখনো ঘুমাচ্ছো??? আজকে
না বাইরে ডিনার করার কথা ছিল?
- হুম.. সে তো রাতে...
উফফ.. তুমিও না...!!!
আগে অফিস থেকে আসো, তারপর
দেখা যাবে।
ঘুমের টাইমে ডিস্টার্ব করো হুহ???
- ওকে বাবা... এখন রাখছি তাইলে,
অফিস শেষ হলে কল দিবো, আজকে
আমার ফেভারিট কালারের নীল
শাড়িটাই পড়ে রেডি থাকবা ওকে??
- হুম.. দেখা যাবে তখন, বাই গুড নাইট...
বলেই ফোনটা কেটে দিল ফারিয়া।
- জাহিদ হাসছে... অদ্ভুত একটা মেয়ে,
ঘুমের মধ্যে উল্টাপাল্টা বকছে, এই
বিকেলেও গুড নাইট বলতেছে..
এত্ত ঘুম পাগলা মেয়ে আগে কখনো
দেখেনি সে, অবশ্য ঘুম ঘুম কন্ঠে তার
কথা গুলো অন্য মাত্রার ভাল লাগে,
তাই অনেক সময় ইচ্ছা করেই এক রুম থেকে
আরেকরুমে গিয়েও সে ফারিয়াকে
কল করে বিরক্ত করে।
আর ঘুমানোর সময় তার চেহারার
মায়াটা যেন হাজারগুণ বেড়ে যায়,
চুল গুলো এলোমেলো হয়ে মুখের ওপর
চলে আসে, চুল সরানোর বাহানা ধরে
জাহিদ চুল গুলো বার বার ধরতে
গেলেই ফারিয়া কিউট একটা ভাব
ধরে, যেন সেই এক্ষুণি জাহিদকে
মেরে ফেলবে, কেন তার ঘুমে
ডিস্টার্ব করলো???
অবশ্য ফারিয়ার সেই রাগটা বেশ
উপভোগ করে জাহিদ।
***
কলিং বেল টিপতেই ঘুমের ঘুরে আস্তে
আস্তে এসে দরজা খোলে দেয়
ফারিয়া..
- একি???
তুমি এখনো ঘুমাচ্ছো??? উফফ... পারো
বটে।
সেই কখন ফোন দিয়ে বললাম রেডি
হয়ে নিতে।
- হুম...
তো??
- জাহিদ চুপ করে থাকে... কিছু বলতে
গেলেও সে ফারিয়ার চেহারার
দিকে তাকাতেই মুখের সব কথা যেন
কোথায় উদাও হয়ে,
- হাহ, তোমাকে নিয়ে আর পারা
যাবেনা। ঘুমের জন্যে তোমাকে
অস্কার দেওয়া উচিৎ...
- আরেহ, কিসব বলো...!!! কই ঘুমালাম??
আমি তো রেডি...
- কই রেডি?
- ওহ, স্যরি আমি নয়, মা রেডি...
- মা রেডি মানে???
- হুহ... মা রেডি মানে আম্মু রেডি...!!!
- ধুর ফাইজলামি ভাল লাগেনা সবসময়।
- আরে ফাইজলামি কই করলাম...
মা আ আ আ...!!! আপনার ছেলে আসছে...
- ওকে বৌ মা, আমি রেডি..
জাহিদ চুপ করে থাকে, কিছু বলতে
পারেনা আর। মা ই তো, বলার কিছু
নাই।
- দেখ না বাবা। আজকে নাকি
বৌমাকে নিয়ে বাইরে ডিনার করার
কথা ছিল, কিন্তু সে জোর করে
আমাকে রেডি করে দিল, এই বয়সে
অসুস্থ শরীর নিয়ে কি এসব পারা যায়,
তুই বল???
- নাহ, সমস্যা নাই। আপনার ছেলের
সাথে তো আমি অলওয়েজ যাই। আজকে
একদিন আপনি ঘুরে আসেন, আপনি না
বললেন, ভাল লাগছেনা কিছু? তাই
আপনাকে যেতে বলতেছি, আশা করি
ভাল লাগবে।
- জাহিদ আর কিছু না বলে, মায়ের
সাথে বেরিয়ে যায়, পেছনে
তাকাতেই ফারিয়া একটা চোখ টিপ
মারে..
ইচ্ছা হচ্ছে....
নাহ থাক, বাসায় ফিরে তারপর...
***
- বাবা...
- হুম, আম্মজ বলো...
- এটা তো অনেক দামী রেস্টুরেন্ট,
বাইরে খাবি ভাল কথা তাই বলে
এখানে আসতে হয়???
- আরেহ, ওসব নিয়ে ভাবিওনা তো।
তোমার ছেলে এখন জব করে, আর
তোমাকে নিয়ে তো কখনো এভাবে
রাতে ঘুরিনাই কখনো। তাও আজকে
ফারিয়া বলার কারণে...
- হুম... মনের মতো একটা বৌ পায়ছস
তুই...!!!
চাঁদকপাল তোর।
- মা তুমিও..??? তবে যাই বলো না কেন?
ক্রেডিট কিন্তু তোমার... তুমিই তো
ওকে খোঁজে আনলা।
- হুম বান্ধবীর মেয়ে, ছোট থেকেই
দেখে আসছি, তাই.. আর ওর আচরণ তখন
থেকেই এমন কেয়ারিং ছিল।
- হুম..
খাবারের অর্ডার দেওয়া হয়ে গেছে...
- এইটা নাও, খেতে অনেক মজা..
- আরেহ, আর দিস না, এই বয়সে এসব
খেলে পরে শরীর খারাপ হবে। তুই নে...
হালকা জ্বরের কারণে জাহিদের
মায়ের হাতটা একটু কাঁপছে...
ভাল মতো চাপচ ধরতে পারছেন না
তিনি,
জাহিদ বিষয়টা লক্ষ করে, চামচটা
প্লেটে রেখে হাতেই খাবার নিয়ে
মায়ের মুখে দেয়...
এতক্ষণ হয়ত বলতে চেয়েও লজ্জায় বলতে
পারছিলেননা।
মায়ের হাতে ছেলেকে খায়ে
দেওয়ার দৃশ্যটা কমন হলেও, ছেলের
হাতে মাকে খায়ে দেওয়ার দৃশ্যটা
অন্যরকম ভাল লাগার।
আশেপাশের লোকজন বিষয়টা পরম
তৃপ্তি নিয়ে দেখছে...
বিষয়টা জাহিদের বেশ ভাল লাগে...
***
বাইরে এখনো হালকা হালকা বৃষ্টি
হচ্ছে, এই মুহূর্তের পরিবেশে
ফারিয়াকে নিয়ে সে অনেকবার
ঘুরেছিল, কিন্তু মায়ের সাথে যে,
সময়টা এত্ত ভালভাবে কাটানো যায়,
ফারিয়া আজকে সুযোগ করে না
দিলে, সে কখনো বুঝতেই পারতোনা...
খাওয়া শেষ করে,
জাহিদ বলে উঠে,
- চলো.. রাত হয়ে যাচ্ছে, ঔষধ খেয়ে
তোমাকে রেস্ট নিতে হবে।
- আচ্ছা চল, ও হ্যাঁ চকলেটের দোকানে
চল একটু।
মায়ের কথা শোনে জাহিদ হেসে
উঠে..
- সে কি, তোমার আবার চকলেট
খাওয়ার শখ হলো কবে থেকে???
- আরে গাধা আমার না। আমার মেয়ের
জন্যে নিয়ে যাবো।
জাহিদের চেহারা অনেকটা আকাশ
ভেঙ্গে পরার মতো হয়ে যায়, কারণ
তার আর কোন আপন ভাই বোন নেই,
তাইলে এই মেয়ে আসলো কোথা
থেকে???
তবুও কিছু না বলে, মায়ের কথা রাখতে
গিয়ে বেশ কিছু চকলেট কিনে, মায়ের
হাতে দিয়ে দেয়।
***
রাত ১১:৩০ এ বাসায় এসে পৌঁছায় মা-
ছেলে দুইজনেই..
বাসার দরজা খোলতেই হাতের চকলেট
গুলো ফারিয়ার হাতে তোলে
দিলেন, জাহিদের মা।
জাহিদ হা করে তাকিয়ে থাকে...
কিছু বুঝে উঠার আগেই..
জাহিদের মা বলে উঠেন,
- তুই চকলেটের কিসব নাম বলছিলি
সেগুলা মনে নাই, তাই জাহিদকে বলে
দামী চকলেট গুলো আনলাম।
- থ্যাংকস মা। সমস্যা নাই, এগুলাই
আনার জন্যে বলছিলাম, ঠিকই আছে...!!
- আচ্ছা তাইলে তো ভালই, আমি
গেলাম, অসুস্থ লাগতেছে ঘুমাবো।
- ওকে মা গুড নাইট...
শাশুড়ি - বৌয়ের কথোপকথন গুলো
জাহিদ হাবার মতো হা করে দাঁড়িয়ে
শোনে আছে।
কথা বলার কোন সুযোগ ই দিচ্ছেনা
কেউ।
***
রুমে ঢুকতেই জাহিদের টাই ধরে টান
দিয়ে কাছে নিয়ে যায় ফারিয়া,
জাহিদ এখনো হা করেই তাকিয়ে
আছে...
কি হচ্ছে কেন হচ্ছে কিছুই বুঝে উঠতে
পারছেনা বেচারা....
তবে শুধু এইটুকু জানে, আজকে জীবনের
সুন্দর একটা সময় কাটিয়েছে সে।
- ঐ... হা করে আছো ক্যান??? দিন দিন
খ্যাত হয়ে যাচ্ছো নাকি, আজিব।
এমন স্মার্ট বৌ থাকা সত্বেও
নিজেকে একটু গুছাতে পারোনা???
- ওহ তাই বুঝি???
- হুম, তাই....
- তা কেমন কাটলো আজ???
- অস্থির........ বলে বুঝাতে
পারবোনা....
- হুম, আমি বুঝে নিয়েছি তোমার
চোখের দিকে তাকিয়ে...
- এঁহ...
- এঁহ না হ্যাঁ..
- তবে যায় বলো, ক্রেডিট টা কিন্তু
তোমার...
এমন একটা সুন্দর মুহুর্তের সুযোগ করে
দেওয়ার জন্যে থ্যাঙ্কস....
- শুধু থ্যাঙ্কস....???????????
- ওহ, তাই তো....!!!
বলেই শক্ত করে ফারিয়াকে জড়িয়ে
ধরে জাহিদ...
অন্যান্য সময় পালানোর চেষ্টা করলেও
এখন তা করছেনা। হয়তো জাহিদের বুক
মুখ লুকিয়ে সেও কিছু আনন্দ
ভাগাভাগি করে নিতে চাচ্ছে......!!!
" ছেলেদেরকে খুশি করার জন্যে,
মেয়েদের কোন টাকাপয়সা লাগেনা,
এইরকম ছোট খাটো কিছু মুহূর্ত উপহার
পেলেই তারা খুশি..
আর সেটা যদি হয়, ফ্যামিলির কারো
কাছথেকে তাইলে তো কথায় নেই...!!! "