Buy this theme? Call now 01710441771
Welcome To Abc24.GA
.May 27, 2016

দুষ্ট জামাই মিস্টি বউ


আপনাকে অনেক অনেক মিস করবো।
(শিল্পা)
তাহলে যাচ্ছো কেনো? (আমি)
দেখেন ভুল আপনারই তাই, আমার কিছু
করার নেই!
কিছু করার নেই মানে? আমাকে
এখানে ফেলে যাবে কেনো? আমি
বাকি পথ কিভাবে চলবো?
সেটা আপনিই ভালো জানেন! রাতের
ঝগড়ার সময় বুঝতে পারেন নি কি হবে?
তবে কি আমিই সব করেছি নাকি? তুমি
কি করেছিলা বলো! দুধে ধোয়া তুলসী
পাতা তো না, আমার রাগ তুমিই
উটাইছিলা!
দেখুন বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে।
আমি কি বলেছি আমি চলে যাবো?
আপনিই বললেন চলে যেতে,
একে বারেই।
এ কেমন কথা?
দেখো শিল্পা আমাদের সম্পর্কটা এমন
নয় যে তুমি চাইলেই আর চলে গেলে!
আর ঝামেলা হলে আমরা দুজনেই সমান
দায়ী নাকি? ভুলে যেয়ো না আমি
তোমার স্বামী।
আমি এসব কিছুই জানি না,আমার এক
কথা ব্যাস।
আমি চলে যাচ্ছি।।
ব্যাগ আগে থেকেই গোছানো ছিল
বেরিয়ে গেলো।
ঝামেলা তেমন সিরিয়াস কিছুই না।
এবার আসল কথায় আসি।
আমি রুমন বড়ো নাম বলার দরকার নেই
নাহলে খুজে পাবেন না। (এতো বড়ো)
আমার পেশা তেমন হাই কোয়ালিটি
সম্পন্ন নয়, একেবারে আবার ছাপোষাও
নয়, আল্লাহ যা দিয়েছেন তাতেই
অনেক সুখে আছি আমরা।
অপ্স এখন একমাত্র আমি আমার বউ মানে
শিল্পা সে বাপের বাসায় চলে
গেছে। আসলে অবাক হবার কিছুই নেই
এমন প্রায়ই হয়।
ভালোবেসে বিয়ে করলে এমন হতো
না হয়তো আরো খারাপ কিছু হতো,
আমাদের বিয়েটা মা করিয়ে
দিয়েছিলেন
বাবা মারা গেছেন অনেক আগেই।
আমরা দু ভাই বড়ো ভাই ঢাকায় থাকেন
আমার চাকরি সিলেটে হওয়ায় আমি
এখানে থাকি।
আসলে অনেক বছর আমরা এখানে
থাকি, কয়েকদিন হলো মা ঢাকায়
গেছেন বড়ো ভাইয়ের বাসায় আমি আর
শিল্পা একেলা আছি।
আমাদের বিয়ের দেড় বছর হয়েছে
মাত্র, এরি মাঝেই আমি অনেক
ভালোবেসে ফেলেছি তাকে।
আমার আচরণ আবার অনেক
ছেলেমানুষির পর্যায়ের।
খেপানোর উস্তাদ কাউকে যদি বলেন
তাহলে তালিকার প্রথম দিকেই আমার
নাম থাকবে।
বিয়ের প্রথম রাতের কথাই বলি,,,,,
দরজা দিয়ে প্রবেশ করে লাগিয়ে
দিলাম, বউ আমাকে এসে সালাম
করলো।
আমি কিছু বিঝে উটার আগেই,,,,
আপনার নাম কি? (হাবার মতো জানতে
চাইলাম)
লজ্জামাখানো গলায় অনেক কোমল
করে তিনি বলেছিলেন জ্বী শিল্পা
(শাকিলা জান্নাত শিল্পা)
কিইই শিল্পা সেঠি!!!!! আল্লাহ কি
করছি আমি সিনেমার নায়িকা বিয়ে
করে ফেলেছি আমি। আমি কি করছি
রেএএএএ।
দেখুন, আমি শাকিলা জান্নাত
শিল্পা, আপনার সিনেমার নায়িকা
ফাইকা নই।
জানে পানি আইছে, আপনি না বললে
বুঝতামি না।
এর পর বাকি কার্যক্রম (পাব্লিকের
অধিকার নেই শুনার)
নাম নিয়ে সে খুবই সেন্সিটিভ। আসলে
বাকি সবই নিয়েও।
আমার ঘর হয়েও সবই তার দখলে।
আমিও ঘরের প্রজা হয়েই আছি।
বউ শাশুড়ি মিলে আমাকে সাধারণ
জনগনে পরিনত করে ফেলেছেন।
যাক আমিও আর আমার সংসারের গোপন
কথা আপনাদের বলে নিজেকে হাস্যকর
মানুষ এ নিতে চাই না।
কালকে আমার এক কলিগ এসেছিলো
তাকে আমি ডিনারের জন্য আমন্ত্রণ
করেছিলাম।
গল্পগুজব করে খাবার টেবিলে বসে
খাচ্ছিলাম, শিল্পা আমাদের
পরিবেশন করছিলো।
আমি জোর করে আমাদের সাথেই
বসালাম।
আমি আমার মুখ সামলাতে না পেরে
বলে দিয়েছিলাম
এটা কি রান্না করেছো, মুখেই দেয়া
যাচ্ছে না।
জাবেদ (আমার কলিগ) বলে উটলো আরে
কি বলছেন? রান্না তো দারুণ হয়েছে,
আপনার মনে হয় জ্বর এসেছে।
আরেহ না কি বলেন, আমার জ্বর আসবে
আর আমি টের পাবো না, এ কেমন করে
হবে?
চেয়ে দেখি শিল্পা সেইরম রেগে
থাকিয়ে আছে আমার দিকে, জাবেদ
এর সামনে কিছুই না বলে বললো আসলে
ভুলে হয়তো মশলা বেশি দিয়ে
দিয়েছি।
তা তো হবেই, খেয়াল তো অন্যখানে
থাকে।
আচ্ছা কি শুরু করলে তুমি রুমন, ভাবি
নিজের দোষ মানছে, যদিও করে নি
কিছুই, রান্না আসলেই অনেক ভালো
হয়েছে।
আর ভালো!!!!!
যাক খাওয়া শেষ করলাম।
জাবেদ বিদায় নিয়ে চলে গেলো।
এবার আমার পালা।
প্রজা হয়ে রানীর উপর ডিসপোর্ট
মেরে দিয়েছি।
ঘরে এসে কোথাও পাচ্ছি না তাকে।
এতো রাতে ছাদেও যাবে না,
নিশ্চই রান্নাঘরে,
সেখানেও নেই সব এলো মেলো করে
রাখা।
সব রুমে খুজেও পেলাম না।
এবার চিন্তা হতে শুরু করলো।
কোথায় যেতে পারে,
এবার শেষ আশা নিয়ে ছাদে গেলাম।
হুম সেখানেই পেলাম।
মুখ ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
আমার রান্না খারাপ?(না দেখেই
প্রশ্ন)
না না কে বললো?
একদম কথা না, আমাকে সবার সামনে
লজ্জা দিতে অনেক ভালো লাগে
তাই না?
আসলে আমি অন্য উদ্দেশ্য নিয়ে
বলেছি।
কচু বোঝাতে চাও, যাও এখন আমাকে
একা থাকতে দাও।
এবার পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলাম।
ছাড়িয়ে নেবার অনেক চেষ্টা করে
হতাশ হতেই হলো! আমার বাহু বন্ধন বলে
কথা।
কোনো ভাবেই থাকে মানানো
যাচ্ছে না, তখন বললাম আসলে জাবেদ
এখানে তোমার রান্না চেখে
দেখতে এসেছে, কারণ আমার মুখে
তোমার রান্নার প্রশংসা শুনতে শুনতে
সবার কান ঝালাপালা।
তাই আমি যদি এমন না করতাম তাহলে
অন্য কিছু ভেবে বসতো, তাই তাকে
বোঝাইলাম অন্যদিন আরো ভালো
রান্না হয়।
কিইইইহ আমার রান্না নিয়ে
প্রতিযোগিতা, এক্ষুনি আমি চলে
যাবো, ছাড়ো আমাকে।
অনেক মানিয়ে ঘরে আনলাম, এখানেও
সেই একই কথা আমি এমন করলাম কেনো?
মেয়ে মানুষ তো যুক্তি মানে না
মানবেও না।
পুরুষ মানুষের আত কতোক্ষণ?
এবার আমিও মেজাজ দেখানো শুরু
করলাম, অনেক রাগারাগি করে
ফেললাম, আসলে মা থাকলে এমন হতো
না।
সেও বারে বারে চলে যাবার কথাই
বলছিলো।
এবার আমার মুখ থেকেই এই কঠিন
কথাটাই বের হয়ে গেলো।
চলে যাবে চলে যাও কেউ বেধে
রেখেছে নাকি? বারে বারে আমার
কথার সাফাই দিচ্ছি তাতেও হচ্ছেনা,
তো চলে যাও, আমার কি?
গেট তালা মেরে শুয়ে পড়লাম
সোফায়, রাতেই বেরিয়ে যেতে
পারে ভেবে চাবি লুকিয়ে রেখে
দিলাম।
সকালেও বাদ যায় নি।
মেয়েদের একই দোষ কিছুই ভুলতে পারে
না।
আসলে এরা ভালোবাসা খুজতে
পারে না।
গেট খুলা দেখে বলেছিলাম চাবি
কোথায় পেলে?
সে বলেছিলো, আমি এঘরের বউ, চাবি
আমার কাছে থাকতে পারে না?
যাক রাতে বের হয় নি, ভালই করেছে।
সকাল হতেই আমি সব ভুলে
গিয়েছিলাম কিন্তু সে ভুলে নি।
দু দিন পর।।।।।
কোথায় আপনি?(শিল্পা)
মহিলা কলেজের সামনে।
কিইইইইহ! ওখানে কি করছেন।
নতুন বউ দেখতে হবে না? তার জন্যেই
আসছি।
কিইইহ আমার আসার দু দিন হয় নাই তার
মাঝেই এমন হয়ে গেলে? বলেই কান্না
ধরছে।
আমিও সেই ভাব নিয়ে বললাম,
তো কি করবো এমনি এমনি আমাকে
ছেড়ে গেছো তো ভাবলাম একা একা
থাকতে পারবো না মা শুনলে রাগ
করবে তাই তার ফিরে আসার আগেই
শুন্যস্তান পুরন করে নিতে চাই।
আপনি কোথায় আছেন আমাকে বলেন,
বিয়ানীবাজার মহিলা কলেজের
সামনে।
ফোন রেখে দিলো।
আমি জানি এখন কি করবে।
কিন্তু তার ভাবনা মতো সে মহিলা
কলেজের সামনে যেতেই পারবে না।
এই তো বেরিয়ে আসছে।
দেখে দাড়ি গোফ খুলে নিলাম,
আসলে নিজের শশুর বাড়ির সামনে তো
আর রোমিও হয়ে বসা যায় না, সবাই
চেনে নেবে।
এসেই বললো
ভেতরে আসেন।
আমি কেনো যাবো, এখানে কেনো
এসেছো?
আসলে ভেবে দেখলাম শুধু আপনার না
আমারও দোষ আছে।
সব করেও এবার বলছো তোমার সামান্য
দোষ।
আচ্ছা বাবা এবার ভেতরে আসো তো।
বলেই হাত ধরে টান দিলো।
সে হাতেই আমার ফেইক গোফ দাড়ি
ছিলো।
এটা দেখে অবাক হয়ে বললো তাহলে
তুমিই ছিলে এটা?
হুম তোমাকে না দেখে অফিসে
গেছি কখনো?
এবার চোখের পানি দেখা গেলো।
জোর করে ভেতরে নিয়ে গেলো
আমাকে,
সবাই কে ভালোমন্দ জিজ্ঞেস করে
তার রুমে গেলাম,
গেলাম বলতে দিপা (শালি) নিয়ে
গেলো।
আমাদের রেখে সে চলে গেলো,
মানে শিল্পা চলে যেতে বললো।
দিপা যেতেই আমাকে জড়িয়ে ধরলো।
হুম এটা আমার প্রাপ্য। বাকিটা আমি
পুরো করলাম।
আমি চলে আসছি একবারো থামালে
না কেনো?
তুমি থামছিলেই না তো।
জোর করতে পারেন না?
জোর যদি করতে চাইতাম তাহলে
পারতাম না, আমি তা পারি না।
এবারের পর আপনাকে পারতেই হবে।
ভালোবাসি
কাকে?
আমার স্বামী! আপনাকে।
তাহলে আমার ভালোবাসা বুঝোনা
কেনো।
এবার থেকে বুঝবো।
সরি। অনেক গুলা সরি।
কেনো?
আপনাকে একা রেখে এসেছি বলে।
আর কখনো এমন হবে না।
এই কান্না বাদ দাও।
আমি কাঁদছি না।
তাহলে আমার শার্ট ভিজে যাচ্ছে
কেনো।
জানিনা।
এবার থামাও আর ছাড়ো তো।
নাহ ছাড়বো না, শোধ নিচ্ছি দু
দিনের।
অফিসে যাও নি?
ছুটি নিয়েছি।
এতো রোগা হয়েছো কেনো।
বাসায় কি আর কেউ আছে যে রান্না
করে দেবে?
এবার কান্নার বেগ বেড়েছে।
আমি আসলেই স্বার্থপর, আর) জীবনেও
এমন হবেনা প্রমিস।
আচ্ছা এবার ছাড়ো।
আগে বলো আমাকে ক্ষমা করেছো।
হুম করলাম, আমার বউয়ের অপরাধ ক্ষমা
করবো নাতো কার করবো।
এবার ওখানে হাত মুখ ধোয়ে আসো
আমি খাবার আনছি।
যাক এ ভেবে ভালো লাগলো যে
তিনি স্বীকার করেছেন তারও ভুল
আছে এমন ভাগ্য আর কজনের আছে যে
ঘরের বউ বলে ভুল তারও আছে।