Buy this theme? Call now 01710441771
Welcome To Abc24.GA
.Aug 15, 2016

দুষ্টামির ছলেই কিছু


-এই উঠে পর।
চোখ মেলে তাকিয়ে দেখলাম, অধরা
কোমরে হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছে।
ভাবখানা যেন সে আমার শিক্ষিকা।
আমি সেসব পাত্তা না দিয়ে চুপ করে
আবার ঘুমিয়ে পরলাম।
.
জোরে জোরে ধাক্কা দেওয়ার
কারনে ঘুমের বারোটা বেজে গেল।
শোয়া থেকে উঠে বসলাম। এইরকম বউ
থাকলে ঘুমের বারোটা বাজতে বাধ্য।
তাই ঘুমানোর চেষ্টা না করে
বিছানা ছেড়ে উঠে বাথরুমে ফ্রেশ
হতে ঢুকলাম।
.
ফ্রেশ হয়ে খাবার টেবিলে বসলাম।
অধরা আগেই সকালের নাস্তা নিয়ে
বসে আছে। আমি খেতে খেতে বললাম
-মা খেয়েছে?
-হ্যা। মা খেয়ে রুমে গিয়েছে।
-আচ্ছা ঠিকাছে।
.
চুপচাপ খাওয়া শেষ করে উঠে পরলাম।
খাওয়ার সময় বেশি কথা বলা হয়না।
আমার খেতে কম সময় লাগে বলে গল্প
করা লাগেনা। আমি রুমে যাওয়ার
আগে অধরা বলল
-তুমি রুমে গিয়ে জামা প্যান্ট পরে
নাও। আমি ব্যাগ গুছিয়ে দিচ্ছি।
.
আমার জামা প্যান্ট পরতে পরতে
অধরার ব্যাগ গুছানো হয়ে গেল। ব্যাগ
গুছাতে খুব সময় লাগেনা। কিন্তু অন্যজন
গুছিয়ে দিলে নিজের ফাঁকিবাজি
ব্যাপার মিল থাকে।
.
অধরা আমার হাতে ব্যাগ দিতেই আমি
হাত ধরে টান দিয়ে কাছে টেনে
বললাম
-এই। একটু আদর করি।
-এখন না। আমার কাজ আছে।
-একটু..
-না।
-আচ্ছা।
.
আমি অধরার দুই হাত শক্ত করে ধরে
ঠোটের সাথে ঠোট ছুঁইয়ে দিতেই
আঁতকে উঠলাম। অধরা আমাকে কামড়
দিয়েছে। আমি কিছু বুঝে উঠার আগেই
সে পালিয়েছে।
.
অধরাকে খুঁজতে খুঁজতে মায়ের রুমে
পেয়ে গেলাম। মায়ের কোলের
কাছে বসে আছে। এবারে মজা
দেখাব। আমাকে কামড় দেওয়া!!
মায়ের পাশে চুপ করে দাঁড়িয়ে আছি।
মায়ের কারনে কিছু বলতে পারছিনা।
কিছু বলতে গেলেই উল্টা আমাকে
কথা শুনতে হবে।
.
অধরা আমার দিকে তাকিয়ে মুখ জিভ
বের করে ভেংচি দিচ্ছে। দেখে
আমার মেজাজ আরো বেশি খারাপ
হয়ে যাচ্ছে। চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে
আছি। মা আমার দিকে তাকিয়ে বলল
-কিরে। কি হয়েছে?
-কই কিছুনাতো।
-তুই বউমার দিকে ওভাবে তাকাস
কেন!!
.
পাশ থেকে অধরা বলল
-দেখ না মা। তোমার ছেলে আমার
সাথে কেমন করছে।
-কেমন করছি!! তোমার খবর আছে বললাম।
মা বলল
-তুই এখন অফিসে যা। বউমা আমার
কাছে বসে থাকুক। অফিসে যা!
.
মায়ের ধমক শুনে রুম থেকে বেড়িয়ে
এলাম। মা থাকতে তার বউমাকে কিছু
বলার উপায় নেই। বরং উল্টা আমাকেই
ফেঁসে যেতে হবে। কোন উপায় নাই।
.

.
অফিসে এসে আমার চেয়ারে বসতেই
সামনে বসে থাকা মনির ভাই বলল
-রাব্বি ভাই, তোমার ঠোটে কি
হয়েছে?
-কই কিছুনা তো!!
-তাহলে ঠোট ফোলা কেন!
.
মনির ভাইয়ের কথা শুনেই আয়নায়
তাকিয়ে বুঝতে পারলাম ঠোট ফুলে
গিয়েছে। মনির ভাই বলল
-এবারে দেখেছেন তো! তো
কিভাবে হল?
-এমনিই মনেহয়।
-ভাবি কামড় দিয়েছে নাকি?
বলেই মনির ভাই হাসতে থাকল। আমি
তার হাসি থামিয়ে বললাম
-ধুর মিঞা। আপনার ভাবি কামড় দিবে
কেন!! পিপড়ায় কামড় দিয়েছে।
-ও তাই বলুন।
.
অফিসে বসে একটা অসস্তির মধ্যে
আছি। যেই আসছে, এসে ঠোটের কথা
বলছে। মনেহয় ঠোট ছাড়া আর কোন
সাবজেক্ট নাই!! একটু আগে পিওন এসে
চা দেওয়ার সময় বলল
-আপনার ঠোটে কি হয়েছে স্যার?
-তেমন কিছুনা।
-স্যার। তেমন কিছুনা বলে এড়িয়ে
যাবেন না। বড় কিছু হয়ে যেতে পারে।
আমার পরিচিত একজন ডাক্তার আছে।
-তোমাকে এত ভাবতে হবেনা। তুমি
তোমার কাজ কর।
.
অফিসে আসার পরে অধরা অনেকবার
ফোন দিয়েছে। আমি ফোন ধরিনি।
অধরার উপরে একটু বেশিই রাগ হচ্ছে।
ঠোটে কামড় না দিলে হতনা!
.
স্যার এসে সামনের চেয়ারে বসে বলল
-আরে রাব্বি, তুমি অসুস্থ নাকি?
-কই নাতো। ঠোট ফুলে আছে যে।
-ও কিছুনা।
-আমার সাথে যেতে পারবে? একটা
মিটিং আছে।
-কোথায় যেতে হবে?
-আমার সাথে চল।
.
স্যারের পিছনে পিছনে আমিও
হাটছি। হাতে ব্যাগ নিয়ে হাটছি।
স্যার বলল, মিটিং শেষে এখান
থেকেই বাড়ি চলে যেতে পারব। আর
অফিসের সময়'ও প্রায় শেষ।
.
স্যার রুমে ঢুকতে গিয়ে থেমে বলল
-কাছে ফোন আছে?
-হ্যা।
-ফোন সুইচ অফ কর।
-কেন!!
-আরে মিটিং এ ফোন চালু রাখা
যাবেনা।
-ফোন সাইলেন্ট করা আছে।
-তাতে হবেনা।ফোন বন্ধ কর।
-আচ্ছা।
.
ফোন সুইচ অফ করার আগে দেখলাম
অধরার অনেকগুলো মিসডকল। সময় না
থাকায় ব্যাক না করে ফোন অফ করে
ফেলতে হল। স্যার আর আমি
মিটিংরুমে ঢুকলাম।
.

.
মিটিং শেষ হতে অনেকসময় পার হয়ে
গিয়েছে। এখন বুঝতে পারছি স্যার কেন
ব্যাগ গুছিয়ে নিয়ে বের হতে
বলেছিল। স্যার আমার দিকে তাকিয়ে
বলল
-তোমাকে অনেক্ষন থাকতে হল।
-সমস্যা নেই।
-চল। তোমাকে গাড়িতে নামিয়ে
দিচ্ছি।
-লাগবে না স্যার। আমি যেতে পারব।
-আরে নামিয়ে দিচ্ছি চল।
.
স্যার এক প্রকার জোড় করেই আমাকে
গাড়িতে করে বাসার সামনে
নামিয়ে দিয়ে গেল। আমি স্যারকে
ধন্যবাদ জানিয়ে সিড়ি দিয়ে উপরে
উঠে এলাম।
.
কয়েকবার কলিংবেল বাজানোর পরে
মা এসে দরজা খুলল। মাকে দেখে
বললাম
-মা। আজ তুমি দরজা খুলছ। অধরা
কোথায়?
-অধরা তার রুমে শুয়ে আছে।
-এখন শুয়ে কেন!
-কান্নাকাটি করে একাকার অবস্থা।
সকালে তোর সাথে নাকি
রাগারাগি করেছে!! তোকে ফোন
দিলে ফোন ধরিস নি। পরে বন্ধ পেয়ে
কান্নাকাটি করে সেইরকম অবস্থা।
-আচ্ছা আমি দেখছি।
-আচ্ছা।
-তুমি খেয়েছ?
-ওসব দেখে কি খাওয়া যায়!! কান্না
তো থামেইনা। অনেক চেষ্টা করে
বুঝিয়ে রুমে রেখে এসেছি।
-রুমে যাও। ওকে খাবার টেবিলে এনে
তোমাকে ডাকব।
.
মাকে রুমে পাঠিয়ে আমি বেডরুমে
ঢুকলাম। অধরাকে বিছানায় উপুর হয়ে
শুয়ে থাকতে দেখে আমি পাশে
গিয়ে বসলাম। আমি কিভাবে শুরু করব
বুঝতে পারছিনা। সকালে সে ভুল
করলেও পরের ভুলগুলো আমার ছিল।
আমার ভুলের জন্য মেয়েটির এই অবস্থা!
.
অধরার কাধে হাত রেখে আস্তে করে
বললাম
-অধরা।
আমার কথা শুনেই অধরা বিছানা
থেকে লাফ দিয়ে উঠল। উঠেই কান্না
শুরু করে দিল। আমি কিছু বলতে যাব, তার
আগেই আমাকে জড়িয়ে ধরে খুব
কান্না।
.
-এত কাঁদছ কেন!! আমি ঠিক আছিত।
-আমি তোমাকে অনেক কষ্ট দেই। আমি
অনেক পচা।
আমি কিছু বলতেই পারছিনা। অধরা
তার মত কেঁদে আমার বুক ভাসাতে
থাকল। আমি মাথায় হাতে রেখে
কানে কানে বললাম
-পাগলি। এত কাঁদতে হয়না।
অধরার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে
আজকের সব কাহিনি বলতে থাকলাম।
.
অনেক্ষন চেষ্টার পরে অধরার কান্না
থামল। অধরা আমার দিকে তাকিয়ে
বলল
-আর রেগে নেইত?
-না পাগলি। এখন খাবে চল। ক্ষুধা
লাগছে অনেক।
-খেয়ে অনেক আদর দিব তোমাকে।
-কামড় দিবেনা তো আবার!!
-হ্যা। অনেক জোরে কামর দিব।
.
অধরা আমার দিকে তাকিয়ে দুষ্টামির
হাসি দিচ্ছে। আমি তার হাত ধরে
বললাম
-এখন ভাত খাব চল। তারপরে আদর
খাওয়া যাবে।
-কোলে নাও।
-না নিলে হয়না!
-নিতেই হবে।
.
অধরাকে কোলে নিতেই অধরা মুচকি
হেসে দিল। আমার গলা জড়িয়ে ধরে
থাকল। আমি তাকে কোলে নিয়েই
রান্না ঘরে চলে এলাম।