Buy this theme? Call now 01710441771
Welcome To Abc24.GA
.Oct 26, 2016

আমার জীবনের সবচেয়ে বড় চিন্তার মুহুর্ত এটা।

আমার জীবনের সবচেয়ে বড় চিন্তার মুহুর্ত
এটা। এর আগে কখনো এতোটা সিরিয়াস ভাবে
কোনো চিন্তা করিনি আজ যতোটা করছি ইরা
কে নিয়ে। অপারেশন থিয়েটার এ ওকে মাত্র
ঢুকানো হলো। আমাকে যেতে দিচ্ছেনা, বুক
ফাটা আর্তনাদ হচ্ছে মনের ভিতর। আশে পাশে
বাবা-মা সহো সবাই দাড়িয়ে। চোখের জল
ফেলে যে সময় অতিবাহিত করবো সেই সুযোগ
টাও নেই। সিজার নিয়ে যতোটুকু জেনেছি
সবার থেকে সে মতে এটাতে সিজারিয়ান এর
জীবনের ৫০/৫০ চান্স থাকে। বিষয় টা ভাবতেই
বুক আতড়ে উঠছে। মনের মাঝে বিভিন্ন প্রশ্ন
ঘুরপাক খাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ভালভাবে সব কিছু
শেষ হবেতো?
ও হ্যা, ইরা আমার স্ত্রী। শুধু কি এটাই ওর
পরিচয়? নাহ। ও তো আমার কাছে এর চেয়েও
বেশি কিছু। আমাদের দুজনের জীবনের প্রথম
বেবি হওয়ার মুহুর্ত এটা। আমার হয়তো খুশি
থাকার কথা কিন্তু কেনো যেনো খুশির চেয়ে
ভয় হচ্ছে বেশি। আজ যখন সকাল বেলা ঘুম
ভাঙলো তখন কেমন যেনো গোঙানো মতো শব্দ
পেলাম। পাশ ফিরতেই দেখি ইরা মুখ চেপে
ধরে কাতরাচ্ছে। আমি ভয়ে লাফিয়ে উঠলাম।
হাসপাতাল এ আনতেই ডাক্তার বললো জরুরী
ভাবে সিজার করতে হবে আজ ই। যদিও আজ
ডেলিভারির ডেট না। আর তখন থেকেই ভয়ের
শুরু,যেটা এই মুহুর্তে সবচেয়ে বেশি করে আমায়
চেপে ধরেছে।
আমাদের দুজনের লাভ ম্যারেজ। যেদিন প্রথম
বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে ইরার বাসায় পরিবারের
সবাই মিলে গেলাম সেদিন রাতে ইরা আমায়
টেক্সট করলো "সব চিন্তা দূর, এখন সামনে
তাকানোর সময়, শোনো ,আমার বেবি লাগবে,
খুব জলদি"। আমি বিষয় টা ভাল ভাবে বুঝিনি।
জিজ্ঞেস ও করিনি। এর পরদিন সকালে ওর
জন্য খুব সুন্দর দেখে একটা টেডিবিয়ার নিয়ে
গেলাম। কেননা আমার জানামতে ইরা
টেডিবিয়ার কেই বেবি বলতো। যখন বললাম
"এই নাও তোমার বেবি", এটা বলতেই ও আমার
গালে মোটামুটি জোরেই এক কামড় বসিয়ে
বললো "হাদারাম, আমি এই বেবির কথা বলিনি,
আমি আমাদের বেবি চেয়েছি"। সেদিন নটি
নটি ভাব নিয়ে অনেক দুষ্টুমি করলেও মনের
মাঝে ভয় ছিলো, আমার কাছে এই বিষয় টা
সম্পূর্ন ভয়ের, জীবনের সবচেয়ে গুরুত্ব্বপুর্ন
মানুষ কে ছুড়ি কাচির নিচে জেনে বুঝে
ছেড়ে দেয়া, আর তারপর জীবিত ফিরে
পাওয়ার আগের মুহুর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করা,
পুরো বিষয় টাই অনিশ্চিয়তায় ভরা।
প্রথম যেদিন ইরার মুখ থেকে শুনলাম আমি
বাবা হচ্ছি সেই মুহুর্তটা আমি বাহিরে
ছিলাম। অফিসের কাজ গুলোকে গুছিয়ে লাঞ্চ
ব্রেক এ টিফিনপট থেকে খাবার বের করতে
যাবো তখন ইরার ফোন..
-হি হি হি!!
--কি হলো? ভেটকি দিচ্ছো কেনো??
-আমার না খুব খুশি লাগছে..
--ওয়াও!! জেনে ভাল লাগলো, কিছু বলবে??
-আরে হ্যা, বলার জন্যই তো ফোন, শোন, বাসায়
আসার সময় বেবি লোসন,জনসন
পাওডার,ক্রিম,শ্যাম্পু,বাথটাব,ডায়পার এগুলো
সব নিয়ে আসবে।
--মানুষ বেবি থেকে বড় হয় আর তুমি বুড়ি থেকে
বেবি হচ্ছো! বাহ! প্রাকৃতিক বিষয় গুলোওও কি
ঘড়ে করবে নাকি!! ডায়পার চাচ্ছো!!
-চুপ খবিস! আমি বুড়ি হলাম কবে,বেবি হলাম
কখন মহাবুড়া?
--বেবি না হলে বেবিদের জিনিস চাচ্ছো
যে??
-ধুর বুড়া, এগুলো তো আমাদের বেবির জন্য!!
--হোয়াট!! আমাদের বেবি!! কোথা হতে এলো!!
আমিই জানলাম না!!
-কোথা হতে এলো মানে কি?? আসেনি,
আসবে, রাস্তায় অনেক জ্যাম, কয়েক মাস
লাগবে আরো!! বাবা হিসেবে তোমার আর মা
হিসেবে আমার এখনি প্রস্তুত হতে হবে ,তাই
এসব নিয়ে আসবে, আমার প্রস্তুতিতে কাজে
দিবে!!
.
ইরার কথা শুনে কিছু মুহুর্তের জন্য আমি সম্পূর্ন
চুপ হয়ে ছিলাম। ইরার পাগলামিতে আর
নিজের পরিপূর্ণতা পাওয়ার খবরে মনে
হচ্ছিলো বাতাসের মধ্যে উড়ছিলাম যেনো।
নিজের মধ্যে সুপারম্যান ভাব চলে আসছিলো,
কিন্তু অজানা ভয়ে সেদিন ও বেলুন ফুটে চুপসে
যাওয়ার মতো করে সুপারম্যান থেকে
ভিতুম্যান হয়ে গিয়েছিলাম। ভয় হচ্ছিলো তখন
ও ইরা কে নিয়ে, ভয় হচ্ছিলো ইরার ভাষায়
জ্যাম এ আটকে রাস্তায় থাকা অনাগত অতিথি
কে নিয়ে।
এইতো কিছুদিন আগে রাত্রে বেলা ইরা হঠাৎ
করে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুললো, উঠে দেখি
রাত দুটার মতো বাজে। অন্য কিছু না বলেই ইরা
বলে উঠলো, ফলো মি। এতো রাতে ফলো মি
বলার মানে খুজে পেলাম না। আস্তে আস্তে
করে যেতে যেতে দেখলাম ইরা আমাকে
ছাদে নিয়ে যাচ্ছে!! ইরা কে ডাকতেই দু
ঠোটের মাঝে হাত দিয়ে চুপ হতে বললো।
সিড়ি বেয়ে বেয়ে ছাদে উঠার পর ছাদের
মাঝখান টায় ইরা আমায় বসতে বললো। পুরো
ছাদে চাঁদের আলোয় ঝিক ঝিক করছে। ইরা
আমার কোলে বসে কোমড়ের আচলের ভাজ
থেকে কিছু কাপড় বের করে খুব সুন্দর করে
গুছালো। ঘুম ঘুম চোখে কিছু বুঝতে পারছিলাম
না তখন ও, শুধু মনে হচ্ছিলো আমার পাগলিটা
হয়তো কোনো পাগলামি করতে যাচ্ছে। ইরা সুই
সুতা বের করে খুব নিপূন ভাবে চাঁদের আলোয়
কাপড় গুলো তে সুই সুতা দিয়ে কি যেনো
করতে লাগলো। বেশ খানিক টা সময় পর বুঝতে
পারলাম ইরা ডিজাইন করে কাঁথা শেলাই
করছে। ইরা আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি
দিয়ে বললো "এই কাঁথা আমাদের বেবির জন্য
বুঝলে?? ডাক্তার রা যখন তোমায় বেবি কে
কোলে নিতে দিবে প্রথম তখন এই কাঁথা দিয়ে
বেবি কে জড়িয়ে দিবে। জানো সামু, চাইলে
সাধারন ভাবেও কাঁথা টা শেলাতে পারতাম,
কিন্তু বেবি যদি রাগ করে!! স্পেশাল পার্সন
বলে কথা!! তাই চাঁদের আলোয় তোমায় সাথে
করে দুজনের ভালবাসা দিয়ে জিনিস টা
তৈরি করছি"। ইরার পাগলামি দেখে ঘুম
ভাঙিয়ে জাগিয়ে রাখার জন্য ইরার উপর যে
রাগ হচ্ছিলো তা নিমিষেই কেটে গেলো।
শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম ইরা কে। চাঁদের
আলোয় ইরার লজ্জা পাওয়া মুখ টা যেনো
নিজের ভিতর কেমন উম্মাদনার সৃষ্টি
করেছিলো। যেখানে ছিলো খুব সুন্দর কিছু
স্বপ্ন। যেই স্বপ্নের চাবির মালিক আমি,ইরা
আর আমাদের অনাগত অতিথি।
খুব চিকন স্বরে ওআয়া ওআয়া শব্দে আমার
সম্বিৎ ফিরে পেলাম। একজন ডাক্তারের
কোলে খুব খুব ফুটফুটে একটা বাচ্চা। লোক টা
আমার দিকেই এগিয়ে আসছে, বুকের ভিতর
মোচড় দিয়ে উঠলো, লোকটা শেষ পর্যন্ত
আমার দিকেই এগিয়ে এসে বললো
"কংগ্রাচুলেশন সায়েম সাহেব, আপনি মেয়ের
বাবা হয়েছেন, মা সুস্থ আছে"। আনন্দে আমার
ভিতরের স্বত্বাটা লাফিয়ে উঠলো। মেয়েটা
দেখতে মনে হচ্ছে ইরার কার্বনকপি।
বাচ্চাদের সাধারনত আমি কোলে কম নেই,
হাত থেকে যদি পড়ে যায় বা সুসু করে দেয়
গায়ে সেই ভয়ে, তবে আজ ভয় হচ্ছেনা কোলে
নিতে গিয়েও নিলাম না, সবাই অবাক হয়ে
গেলো,হয়তো ভাবছে মেয়ে হওয়ায় আমি রাগ
হয়েছি! আসলে আমিই খুশি বেশি হয়েছি।
কেননা ইরার সাথে বাজিতে আমি জিতে
গিয়েছি, আমার বাজির ঘোড়া ছিলো মেয়ে।
মিটিমিটি হাসতে হাসতে ইরার বানানো
কাঁথা টা ব্যাগ থেকে বের করে জুনিয়র ইরা
কে কোলে তুলে নিলাম। আমার কোলে
আসতেই মেয়েটা কান্না অফ করে দিলো ঠিক
যেমনি ভাবে খুব রেগে থাকার পর ইরাকে
কাছে জড়িয়ে নিলে ইরা আমার বুকে চুপ্টি
করে মুখ লুকায়। খুশিতে চিৎকার দিতে গিয়েও
খুব কষ্টে আটকে নিলাম, আমার চিৎকারে যদি
জুনিয়র ইরা কষ্ট পায়.........
কিছুক্ষণ পর আমাকে ইরার রুমে যেতে দেয়া
হলো। রুমে আমি আর ইরা ছাড়া কেউ নেই। ইরা
চোখ বন্ধ করে হাসছে। ইরা যখন খুব লজ্জা পায়
তখন চোখ বন্ধ করে মিটিমিটি হাসে। ধির
পায়ে ইরার দিকে এগিয়ে গেলাম, মেয়েটা
এখন ও চোখ বন্ধ করে আছে। ইরার পায়ের
সামনে গিয়ে বসলাম খুব ধির ভাবে। ইরার পা
দুটোয় আলতো ছোয়া দিয়ে ডান পায়ের নিচে
তলায় ছোট্ট ছোট্ট করে আঙুল দিয়ে লিখতে
লাগলাম..
"ধন্যবাদ প্রিয়তমা, আমার জীবনের সবচেয়ে
সুন্দর মুহুর্তটা আমায় অনেক বেশি সুন্দর ভাবে
উপহার দেয়ার জন্য। প্রিয়তমা, তুমি কি জানো
সবসময় চাইতাম,এখন ও চাচ্ছি,আজীবন চাইবো,
তুমি আমার সেই একজন হও যে আমার জীবনের
প্রতিটি মুহুর্ত কে প্রাণচঞ্চল করে তুলবে, যা
তুমি করেছ, আমি চেয়েছি তুমি আমার সে হও
যে আমার পুরোটা জুড়ে বিচরন করবে, যা তুমি
করে চলেছ অবিরত, আমি চেয়েছি তুমি আমার
সে হও যে আমার সব কিছুতে পূর্নতা দিবে
স্বর্গ মতো, যা তুমি দিয়েছ, আমি চেয়েছি,
চাচ্ছি, চাইবো, তুমি আমার সে হও যে
আমাকে প্রতিনিয়ত ভালবাসার পাগলামিতে
পেঁচিয়ে রাখবে, যা তুমি করে চলেছ
প্রতিনিয়ত। ভালবাসি তোমায় প্রিয়তমা,
অনেক বেশি, ভালবাসি আমি নিজেকে অনেক
বেশি, ভলবাসি আমি শুধু তোমাকে আমি
নিজের চাইতেও অনেক বেশি"। ইরা চোখ খুলে
তাকালো আমার দিকে, ওর চোখ দুটো বলে
দিচ্ছে আমাকে ওর মন খুব চিৎকার করে কাছে
ডাকছে। আমি উঠে ইরার পাশে গিয়ে বসলাম।
ইরার চোখ বেয়ে পানি পড়ছে, চোখ দুটোয়
আলতো করে আমার ঠোটের স্পর্শ এঁকে দিতেই
ইরা আমার গলা জড়িয়ে ধরলো, খুব শক্ত করেই
ধরলো, মনে হচ্ছে যেনো কখনোই ছারবেনা ও,
আর আমিও তো তাই চাই, আমিও তাই জড়িয়ে
ধরলাম ইরা কে, খুব শক্ত করে, খুব নিজের
করে..............