Buy this theme? Call now 01710441771
Welcome To Abc24.GA
.Mar 15, 2017

মেঘা এবং পৃতম


> ................
> ওই... (মেঘা)
> হুম (আমি)
> ঘুমিয়ে গেছিস?
> কয়টা বাজে?
> তিনটা
> এতরাতে কেউ জেগে থাকে?
> হুম, শোননা...
> বল
> একটা স্বপ্ন দেখলাম
> কি স্বপ্ন?
> তুই আর আমি হাত ধরে পাশাপাশি
দাড়িয়ে তারা গুনছি, দক্ষিনা
বাতাসে আমার চুল উড়ে তোর গায়ে
আছড়ে পড়ছে...
> বুঝলাম, এত রাতে বের হওয়া যাবে
না ৷ আর জার্নি করে এসে এমনিতেই
অনেক টায়ার্ড লাগছে শরীরটা
> খেজুরের রস চুরি করতে যাবো ৷
তোরে পায়েশ রেঁধে খাওয়াবো
সকালে
> হুম
> আসবি তাহলে?
> রস কিনে দেবো কালকে, পায়েশ
রাঁধিস
> না, তুই এখন আসবি
> না বললাম তো
> আমি পুকুর পাড়ে দাড়াচ্ছি,
তাড়াতাড়ি আসিস, অন্ধকারে একা ভয়
লাগে কিন্তু...
> আরে পাগলামি.... (টুট টুট টুট)
ফোনটা কেটে দিল মেঘা ৷ কিছু করার
নেই ৷ উঠে পুকুর পাড়ের দিকে ছুটলাম ৷
মেঘার এই পাগলামি নতুন কিছু নয় ৷
ছোটবেলা থেকেই ও এরকমই ৷ তবে এই
পাগলামিগুলোও শুধু আমার সাথেই
চলে ৷ আপনারা ভাবছেন আমরা
প্রেমিক প্রেমিকা ৷ কিন্তু মোটেও
তেমন কিছু না ৷ একেবারে না বলাও
ভুল হবে ৷ আমি হয়তো মেঘাকে
ভালবাসি ৷ হয়তো বলছি, কারন
ভালবাসা বলতে আসলে কোন
বিষয়গুলো বোঝায় জানিনা ৷ তবে
মেঘার সাথে সময় কাটাতে খুব ভালই
লাগে ৷ ওর পাগলামির সাথে তাল
মেলানোর মধ্যে অজানা এক সুখ অনুভব
করি ৷ মেঘার দিকের অবস্থা সঠিক
বুঝতে পারিনা ৷ পাশাপাশি বাড়ি
হওয়ায় ছোটবেলা থেকে গ্রামের ধুলা
মাটিতে একসাথেই বেড়ে ওঠা
আমাদের ৷ উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত
একসাথেই পড়াশুনা চলেছিল আমাদের ৷
তারপর ও চলে যায় ঢাকায়, আর আমি
খুলনায় ৷ ফোন আর ইন্টারনেটের মাধ্যমে
মাঝে মাঝে টুকটাক যোগাযোগ হয়,
কেমন যেন বদলে যায় মেঘা ৷ কিন্তু
গ্রামে ফিরলে মেঘা আবার আমার
সেই পুরানো মেঘা হয়ে যায় ৷ সেই
পাগলি মেঘা...
:
অনেকক্ষণ দাড়িয়ে আছি, মেঘার
আসার কোন নাম গন্ধ নাই ৷ ফোন
দিলাম...
> কিরে, কতক্ষণ লাগে তোর? (আমি)
> আর দুই মিনিট দাড়া, আমি পাঁচ
মিনিটে আসছি
> মানে কি? আজব
> আজব না, গজব ৷ রাখ, কাজ করতে দে
> এতরাতে কিসের কাজ? (টুট টুট টুট)
এটা কোন কথা হলো ৷ চলে যাওয়ার
উপক্রম করতেই দেখি মেঘা আসছে ৷
কাছে এসে একটা টিফিন বক্স আর
একটা চামচ ধরিয়ে দিলে বলল,
> নে, খেয়ে আমায় উদ্ধার কর
> কি এতে?
> খুলে দেখ
> পায়েশ!! (খুলে অবাক হলাম)
> হু হা হা
> মানে? কিভাবে কি?
> আমি একা একা চুরি করে এনে
রান্না করতে করতে তোকে ফোন
গিয়েছিলাম ৷ নে, জলদি খা
> তুই খাবিনা?
> আমার জন্য আছে, তুই খেয়ে নে আর
নাহয় নিয়ে যা, বাসায় গিয়ে খাস,
আমি গেলাম
> না, দাড়া খাচ্ছি...
অর্ধেকটা খেয়ে আর পারছিনা বলে
বাকিটা মেঘাকে দিয়ং দিলাম ৷
এভাবেই বেশ ভালই কাটলো কয়েকদিন
৷ এবার আবার সেই শহরের জনারন্যে ডুব
দেওয়ার পালা ৷ কিন্তু তার আগ মুহুর্ত
মাথায় ভুত চাপলো ৷
> মেঘা (আমি)
> সামনে ছুটি অনেক দেরি, অনেকদিন
দেখা হবে না ৷ একটা কথা বলার ছিল
> বল
> যখন তোর সাথে থাকি কেমন যেন
ভাললাগা কাজ করে ৷ আমি চাইনা এই
ভাললাগা কখনো আমার কাছ ছাড়া
হোক ৷ সারাজীবন পেতে ইচ্ছে করে
এটা
> এসব কি প্রিতম?
> যা ভাবছিস তাই
> তোর থেকে আমি এমন কিছু আশা
করিনি ৷ আর আমারও তো ভাললাগা
থাকতে পারে
> তুই তো তেমন কিছু বলিসনি
> এখন তো বললাম
> ধরা পড়ে গেলি তো (নিজেকে
সামলে নিয়ে বললাম)
> মানে
> এটা জানার জন্যই তো এই নাটকটা
করলাম
> ওরে শয়তান
> এখন বল ছেলেটা কে, কি করে?
> আমার কলেজেরই, মাস্টার্স শেষ
করলো এবার, রেজাল্ট অনেক ভালো,
খুব শিঘ্রই ভাল একটা চাকরী পেয়ে
যাবে আশাকরি... বাদ দে, তোর জন্য
একটা গিফ্ট এনেছিলাম...
বলে একটা স্টিলের ছোট বক্স দিলো,
কিন্তু তাতে একটা তালা মারা
দেখে বললাম,
> চাবি কই?
> হা হা, এটাই তো মজা বন্ধু ৷ চাবিটা
আমার কাছে ৷ আমার যখন ইচ্ছা হবে তখন
দেবো, এর মধ্যে তুই একবারো চাবি
চাইতেও পারবি না ৷ শর্ত মানলে
দেবো, নাহলে না
> ওকে, দে...
বক্সটা নিয়ে বাড়ি থেকে বিদায়
নিয়ে মেসে চলে আসলাম ৷ বুকের
ভেতরটা কেমন যেন ফাকা ফাকা মনে
হচ্ছে ৷ কয়েকদিন খুব কষ্ট হলেও মনকে
স্বান্তনা দিলাম, ভালবেসে না হোক,
বন্ধু হিসাবে তো মেঘার পাশে
থাকতে পারছি ৷ এটাই বা কম কি?
কিন্তু মেঘার চিন্তা মাথা থেকে
ঝাড়তেই পারছিনা ৷ তাই দিন রাত
নিজেকে পড়ার মধ্যে ব্যস্ত রাখার
চেষ্টা করলাম ৷ চেষ্টাটা বৃথা গেলো
না, সাথে যে কারনে বাইরে আসা,
সেটাও চলতে লাগলো খুব
ভালভাবেই...
:
৪ বছর পর.............
:
আজ আমার চাকরীর প্রথম দিন ৷ ভাল
রেজাল্ট থাকায় ভাল চাকরীর জন্য
বেগ পেতে হলোনা বেশি ৷ মায়ের
ডাকে সকাল সকাল উঠে ফ্রেস হয়ে
নাস্তা সেরে অফিসের জন্য রেডি
হতে গিয়ে অবাক হলাম ৷ খাটের উপর
রাখা প্যান্ট, শার্ট ঠিকই আছে, টাইটা
নেই...
> মা, আমার টাইটা কোথায়
গেলো.....? ( শার্ট পরতে পরতে বললাম
করলাম)
> ওই, চেচাস কেন? টাই আমার কাছে
> টাই নিছিস কেন? দে...
টাই না দিয়ে মেঘা আমার সামনে
চলে আসলো ৷ তারপর কাছে চলে
আসলো ৷ এতটা কাছে হয়তো আগে
কখনো আসেনি মেঘা ৷ একি? মেঘা
আমার টাই বেধে দিচ্ছে ৷ বউ বউ
লাগছে ওকে ৷ আমি কিছু বললাম না, এক
অজানা অনুভুতির জগতে হারিয়ে
গেলাম...
কি যেন বলতে গিয়ে মুখটা আটকে
গেলো ৷ হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরেছে
মেঘা ৷ তারপর আমার হাতে একটা
চাবি দিল ৷ সাথে সাথে বক্সটার কথা
মনে পড়ে গেল ৷ চাবিটা নিয়ে
এতদিন যত্নে আগলে রাখা বক্সটা
খুলতে লাগলাম ৷ হটাৎ হাটবির্ট যেত
অসম্ভব রকমের বেড়ে গেলো ৷ ভেতরে
ভাজ করা একটা লাল কাগজ ৷ মেঘার
দিকে তাকালাম, ও কাগজটার দিকেই
তাকিয়ে ৷ কাগজটা খুললাম, কিছু
লেখা আছে, পড়তে লাগলাম...
:
"এটা শুধু একটা বক্স না, এটা আমার
জীবন ৷ আর আমার জীবনটা আমি তার
হাতেই তুলে দিলাম, যার উপর আমার
ততটা আস্থা আছে, যা নিজের উপরও
নেই ৷ যে না জেনেই আমার ভালবাসা
এতগিন আগলে রেখেছে, এবার জেনে
বাকি দিনগুলো কি ভালবাসায়
জড়িয়ে থাকতে দেবে না? জানি
সে আমায় ফেরাবে না...
.... LOVE YOU PRITOM ......"
:
কতবার পড়লাম জানিনা, তবু যেন
আরেকবার পড়ার প্রয়োজন মনে হতে
লাগলো ৷ শেষ একবার পড়ে মেঘার
দিকে তাকালাম ৷ দু গাল বেয়ে
নোনা পানি বয়ে চলেছে ৷ এ কান্নায়
দুঃখের কোন অস্তিত্ব নেই ৷ চোখের
জল মোছার জন্য হাত বাড়াতেই মেঘা
ভয়ার্ত শিশুর মত জড়িয়ে ধরলো আমায় ৷
আমার চোখটাও কেমন যেন ভিজে
আসছে ৷ আসুক, সুখের বয়ে চলুক
ভালবাসার দু তীর ভিজিয়ে...........