Buy this theme? Call now 01710441771
Welcome To Abc24.GA
.Jun 20, 2017

"লাইলাতুল কদর" শবেকদর এর রাত্রে করণীয়



লাইলাতুল কদর’ আরবি শব্দ। শবেকদর হলো ‘লাইলাতুল কদর’-এর ফারসি পরিভাষা। পবিত্র কুরআন ও সহিহ হাদিস দ্বারা লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পবিত্র কুরআন, নির্ভরযোগ্য হাদিস এবং রাসূলুল্লাহ সা:-এর লাইলাতুল কদরের জন্য গৃহীত কর্মতৎপরতা লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এ সম্মানিত রজনীর গুরুত্ব সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি একে (কুরআন) কদরের রাতে নাজিল করেছি। তুমি কি জানো, কদরের রাত কী? কদরের রাত হাজার মাস হতেও উত্তম-কল্যাণময়’ সূরা আল কদর (১-৩)। এ রাতটি কোন মাসে? এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন, ‘রমজান এমন মাস যাতে কুরআন নাজিল হয়েছে’ (বাকারা-১৮৫)।

কুরআন অধ্যয়ন : এ রাতে পবিত্র কুরআন নাজিল হয়েছে। মানবজাতির এ বিরাট নিয়ামতের কারণেই এ রাতের এত মর্যাদা ও ফজিলত। এ কুরআনকে ধারণ করলেই মানুষ সম্মানিত হবে, একটি দেশ ও জাতি মর্যাদাবান হবে; গোটা জাতির ভাগ্য বদলে যাবে। কাজেই এ রাতে অর্থ বুঝে কুরআন পড়তে হবে। কুরআনের শিকে ব্যাক্তি ও সমাজ জীবনে প্রতিষ্ঠার শপথ গ্রহণ করতে হবে। বাছাইকৃত কিছু আয়াত এ রাতে মুখস্থও করা যেতে পারে। যাদের কুরআনের ওপর প্রয়োজনীয় জ্ঞান রয়েছে তারা এ রাতে একটি দারস ও প্রস্তুত করতে পারেন। কুরআনের এ গভীর অধ্যয়ন আমাদের সৌভাগ্যের দ্বার খুলে দেবে। হাদিস থেকে জানা যায়, রাতে এক ঘণ্টা গবেষণামূলক ইসলামি অধ্যয়ন সারা রাত জেগে ইবাদত করার চেয়েও উত্তম। এ মর্তবা হলো সাধারণ রাতের জন্য আর এ পবিত্র রজনীতে কুরআন অধ্যয়নের ফজিলত কল্পনা করাই কঠিন।

নফল নামাজ : ন্যূনতম আট রাকাত থেকে যত সম্ভব পড়া যেতে পারে। এ জন্য সাধারণ সুন্নতের নিয়মে ‘দুই রাকাত নফল পড়ছি’ এ নিয়তে নামাজ শুরু করে শেষ করতে হবে। এ জন্য সূরা ফাতিহার সাথে আপনার জানা যেকোনো সূরা মিলালেই চলবে। বাজারে প্রচলিত কিছু বইয়ে ৩৩ বার সূরা আল্ কদর, ৩৩ বার ইখলাস ইত্যাদি উল্লেখ করে অহেতুক জটিলতা সৃষ্টি করা হয়েছে। হজরত আশ্রাফ আলী থানবী র:, মাওলানা ইউসুফ ইসলাহী র: এবং এ পর্যায়ের বরেণ্য ফকিহরা এগুলো জরুরি মনে করেন না। বরং ওই সংখ্যকবার সূরা পড়তে গেলে হিসাব মিলাতে নামাজের একাগ্রতা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকে। এ ছাড়া সালাতুল তওবা, সালাতুল হাজত, সালাতুল তাসবিহ নামাজও আপনি পড়তে পারেন। এগুলোর নিয়ম আপনি মাসয়ালার বইগুলোতে পাবেন। রাতের শেষ ভাগে কমপক্ষে আট রাকাত তাহাজ্জুদ পড়ার চেষ্টা আমরা অবশ্যই করব। কারণ এ নামাজ সর্বশ্রেষ্ঠ নফল নামাজ। আর রাতের এ অংশে দোয়া কবুল হয়। নফল নামাজের সংখ্যার হিসাবের চেয়ে নামাজের গুণগত দিকটির দিকে আমাদের বেশি লক্ষ রাখতে হবে।

জিকির ও দোয়া :
শুধু ২৭ রাত্র লায়লাতুল কদর ফিক্সড নয়। ২১,
২৩,২৫,২৭,২৯ যেকোন বেজোর রাত্রিগুলোতে
হতে পারে
--
তাই লাইলাতুল কদরে বিশেষ কিছু আমল করুন
এবং
আপনার নেকিকে হাজার মাসের চেয়ে ও
বৃদ্ধি করুন
====================­­­­
১) মাগরিব ও ইশার সালাত জামাতে আদায়
করুন।
কিয়ামুল লাইল (তারাবিহ ও) জামাতে আদায়
করতে
পারেন।

২) বেশি বেশি অর্থ বুঝে কুরআন পাঠ করুন এবং
তা অনুধাবন করুন। সাধারনত কুরআন পাঠে প্রতি
হরফে ১০টি নেকি তবে লাইলাতুল কদরে তা
হাজার
মাসের চেয়ে ও উত্তম হবে।

৩) বেশির চেয়ে বেশি দান সদকা করুন। তা
হাজার
মাসের চেয়ে ও উত্তম হবে।

৪) বেশি বেশি দুরুদে ইব্রাহিম পাঠ করুন।
রাসুল্লাহ(সা) বলেছেন, যে একবার দুরুদ পাঠ
করে
আল্লাহ সুবান্তয়ালা তার উপর ১০ বার রহমত
বর্ষন করেন তবে লাইলাতুল কদরে তা হাজার
মাসের চেয়ে ও উত্তম হবে।

৫) বেশি বেশি আল্লাহর যিকির করুন। যেমন:
সুবাহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ,,,,, ,,,
সুবাহানাল্লাহি ওয়া বিহামদি সুবাহানাল্লিল
আযিম
ইত্যাদি। লাইলাতুল কদরে তা হাজার মাসের
চেয়ে ও
উত্তম হবে।

৬) নিষিদ্ধ কাজ থেকে নিজেকে বিরত রেখে
আল্লাহর ইবাদাত করুন। ( যেমন: মিথ্যা বলা,
অন্যের গিবত করা, গান- বাজনা শুনা ও বেহুদা
কাজকর্ম করা এবং বিভিন্ন রকম অশ্লীলতায়
লিপ্ত থাকা)

সাধারনত এইগুলা থেকে বিরত থাকলে আপনি
নিজেকে খুবই মারাত্মক গুনাহ থেকে রক্ষা
করতেন
এবং ১০ টি করে নেকি পেতেন। তবে
লাইলাতুল
কদরে তা হাজার মাসের চেয়ে ও উত্তম হবে।

হাদিসে যে দোয়া ও জিকিরের অধিক ফজিলতের কথা বলা হয়েছে সেগুলো থেকে কয়েকটি নির্বাচিত করে অর্থ বুঝে বারবার পড়া যেতে পারে। ইস্তেগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) ও দরুদ আল্লাহর কাছে খুবই প্রিয়। কমপে ১০০ বার ইস্তেগফার ও ১০০ বার দরুদ পড়া যেতে পারে। হজরত আয়েশা রা: বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সা:-কে বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ- যদি কোনো প্রকারে আমি জানতে পারি রাতটি লাইলাতুল কদর তাহলে কী দোয়া করব? জবাবে নবী সা: বলেন, এ দোয়া পড়বে
: ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺇِﻧَّﻚَ ﻋَﻔُﻮٌّ ﻛَﺮِﻳﻢٌ ﺗُﺤِﺐُّ ﺍﻟْﻌَﻔْﻮَ
ﻓَﺎﻋْﻒُ ﻋَﻨِّﻰ
উচ্চারণঃ ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুব্বুন কারিমুন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।’ অর্থাৎ ‘ইয়া আল্লাহ তুমি বড়ই মাফ করণে ওয়ালা এবং বড়ই অনুগ্রহশীল ক্ষমাশীল । মাফ করে দেয়াই তুমি পছন্দ করো। অতএব তুমি আমাদের গুনাহগুলো মাফ করে দাও।। হজরত আয়েশা রা:-কে শিখানো দোয়া আমরা আবেগের সাথে বারবার পড়ব।

আত্মসমালোচনা : আত্মসমালোচনা অর্থ আত্মবিচার। অর্থাৎ আপনি নিজেই নিজের পর্যালোচনা করুন। জীবনের ফেলে আসা দিনগুলোতে আল্লাহর কতগুলো হুকুম অমান্য করেছেন, আল্লাহর ফরজ ও ওয়াজিবগুলো কতটা পালন করেছেন এবং তা কতটা নিষ্ঠার সাথে করেছেন, ইচ্ছায় ও অনিচ্ছায় কী কী বড় গুনাহ আপনি করে ফেলেছেন, আল্লাহর গোলাম হিসেবে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠায় আপনি কতটুকু ভূমিকা রেখেছেন- এগুলো ভাবুন, যা কিছু ভালো করেছেন তার জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করুন, আর যা হয়নি তার জন্য আল্লাহর ভয় মনে পয়দা করুন, সত্যিকার তওবা করুন। এ রাতে নীরবে নিভৃতে কিছুটা সময় এ আত্মসমালোচনা করুন। দেখবেন আপনি সঠিক পথ খুঁজে পাবেন। আত্মসমালোচনা আমাদের বিবেককে জাগিয়ে তুলবে। আত্মসমালোচনা আত্মশুদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদার লোকেরা! আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো এবং প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত, আগামীকালের জন্য (পরকাল) সে কী প্রেরণ করেছে তা চিন্তা করা’ (সূরা হাশর-১৮)

মুনাজাত : মুনাজাতের মাধ্যমে বান্দার বন্দেগি ও আল্লাহর রবুবিয়াতের প্রকাশ ঘটে। বান্দাহ তার প্রভুর কাছে চায়। প্রভু এতে ভীষণ খুশি হন। মহান আল্লাহ তার বান্দার প্রতি এতটাই অনুগ্রহশীল যে, তিনি তার কাছে না চাইলে অসস্তুষ্ট হন। ‘যে আল্লাহর কাছে কিছু চায় না, আল্লাহ তার ওপর রাগ করেন’ (তিরমিজি)।‘দোয়া ইবাদতের মূল’ (আল-হাদিস)।‘যার জন্য দোয়ার দরজা খোলা তার জন্য রহমতের দরজাই খোলা রয়েছে’ (তিরমিজি)। কাজেই আমরা কায় মনোবাক্যে আল্লাহর দরবারে মুনাজাত করব, ক্ষমা চাইব, রহমত চাইব, জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাইব। মনের আবেগ নিয়ে চাইব। চোখের পানি ফেলে চাইব। আল্লাহ আমাদের হাত খালি হাতে ফেরাবেন না ইনশাআল্লাহ। রাসূল সা:-এর বাণী আশার আলো জ্বেলে দেয় হৃদয়ে। রাসূল সা: বলেছেন, ‘তোমাদের পরওয়ারদিগার লজ্জাশীল ও দাতা; লজ্জাবোধ করেন যখন তার বান্দা তার কাছে দু’হাত উঠায় তখন তা খালি ফিরিয়ে দিতে’ (তিরমিজি, আবু দাউদ, বায়হাকি- দাওয়াতে কবীর)। দোয়ার ফজিলত সম্পর্কে হজরত আবু সায়ীদ খুদরী একটি আকর্ষণীয় হাদিস বর্ণনা করেছেন, রাসূল সা: বলেছেন, ‘যে কোনো মুসলমান যে কোনো দোয়া করে যাতে কোনো গোনাহের কাজ অথবা আত্মীয়তা বন্ধন ছেদের কথা নেই নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে এ তিনটির একটি দান করেন। তাকে তার চাওয়া বস্তু দুনিয়াতে দান করেন; অথবা তা তার পরকালের জন্য জমা রাখেন; অথবা তার অনুরূপ কোনো অমঙ্গলকে তার হতে দূরে রাখেন। সাহাবীরা বললেন : তবে তো আমরা অনেক লাভ করব। হুজুর সা: বলেন, এ ছাড়া আল্লাহ আরো অধিক দেন।’(মিশকাত) উপরিউক্ত আমলের মাধ্যমে আমরা এ পবিত্র রাতগুলো কাটাতে পারি। লাইলাতুল কদর পাবার তামান্না নিয়ে নিষ্ঠার সাথে অনুসন্ধান করলে আল্লাহ আমাদের বঞ্চিত করবেন না ইনশাআল্লাহ। অবশ্য নফল ইবাদত নীরবে নিভৃতে ঘরে অথবা মসজিদের এক কোনে আদায় করাই মাসনুন। এতে আমাদের ইবাদত রিয়া (প্রদর্শন ইচ্ছা) দোষে দুষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে। এ পবিত্র রাতে কিছু অনাকাক্সিত কাজ হতে দেখা যায়। এগুলো বন্ধ করার জন্য গঠনমূলক পদক্ষেপ নেয়া দরকার। আল্লাহ আমাদের লাইলাতুল কদর নসিব করুণ এবং এ রাতের নিরাপত্তা ও কল্যাণ দান করুন।