Buy this theme? Call now 01710441771
Welcome To Abc24.GA
.Jun 30, 2017

ইসলামের দৃষ্টিতে কেয়ামতের আলামত (ইমাম মাহদী আঃ, দাজ্জাল, হযরত ঈসা (আঃ) এর আগমন)



প্রথমে যেনে নিন আখেরী যামানায় যেভাবে জন্ম হবে দাজ্জালের !

মহানবী (সঃ) হাদীসে বলেছেন, যতক্ষন পর্যন্ত না দশটি লক্ষন দেখা যাবে ততদিন পর্যন্ত কেয়ামত হবে না, ধোকা দাজ্জাল, দাব্বাতুল আরদ, পশ্চিম আকাশ সূর্যোদয়, হযরত ঈসা (অঃ) আর্ভিবাব, ইয়াজুজ মাযুযের আবির্ভাব, তিনটি ভূমিধবস একটি প্রাচ্য, একটি পাশ্চাত্য একটি আরব দেশে অতঃপর ইয়ামেন থেকে একটি অগ্নি উত্থিত হয়ে মানুষদের তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াবে। (সহি মুসলিমঃকিতাবুল ফিতান)

আমি এখানে আমার সামান্য জ্ঞানে যেটুকু পারি লিখে যাব। হঠাৎ করে সেদিন খেয়াল পড়ল আমি ছোটকালে অনেক নবী ও রাসুলের জীবনী জানতাম, সুন্দর ছোট ছোট বইতে মুক্তধারা আর ইসলামী ফাউন্ডেশনের বইতে পাওয়া যেত। আজকে খেয়াল করতে যেয়ে দেখলাম অনেক ঘটনাই মনে নেই, অনেক কিছু ভূলে গেছি। কেন এমন হবে? আবার পড়তে শুরু করলাম। ধর্ম যার যার বিশ্বাসের বিষয়। প্রত্যেকেরই উচিত প্রত্যেক ধর্মকে সন্মান করা।

পৃথিবী তখন পাপের অন্ধকারে আচ্ছন্ন, মানূষ ধর্মকর্ম ভূলে যেয়ে আবার জাহেলী যুগে ফিরে যাবে এই রকম এক সময় ইমাম মাহাদী জন্মগ্রহন করবে। তার পিতার নাম আব্দুল্লাহ আর মাতার নাম আমেনা। ইমাম মাহাদী বয়ঃপ্রাপ্ত হয়ে দুনিয়ার বুকে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত করবেন।

আল মাহদী শব্দের অর্থ ‘পথ প্রদর্শিত ব্যক্তি’। এখানে মাহদী বলে কিয়ামতের প্রাক্কালে হযরত ঈসা (অঃ) এর অবতরন ও দাজ্জালের আত্মপ্রকাশের সময় মুসলিম নেতৃত্বের যে সংস্কারক মনীষীর আবির্ভাবের কথা আছে তাকে বুজানো হয়েছে।

হযরত ইবনে মাসাউদ (রাঃ) বলেন নবী করিম (সঃ) বলেছেন, আমার উন্মতের শেষ লগ্নে মাহদীর আবির্ভাব ঘটবে। তার শাষনামলে প্রচুর বৃষ্টি হবে, ভূমি থেকে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, পশু সম্পদের বৃদ্ধি হবে। পৃথিবীতে এ উন্মত অতি সন্মানের অধিকারী হবে। সাত আট বছর পর্যন্ত এভাবে চলবে।

এভাবে বহু সহী হাদীসে কিয়ামতের পূর্বে মাহদীর আগমনের কথা বলা হয়েছে। ‘শরহে আকিদায়ী সাকারনী’ কিতাবে ইমাম মাহাদী বিষয়ক হাদীস গুলোকে মুতাওয়াতিরে মা’নুবী বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। উপরন্ত এ আকীদা পোষন করা কে আহলুস সুন্নাত ওয়াল-জামা-আতের পরিচয় বলে গন্য করা হয়েছে।

ইমাম মাহদী (অঃ) পরিচয় কি এ ব্যাপারে ইসনা আশারিয়া শী’আ ও আহলুস সুন্নাত ওয়াল-জামা-আতের মধ্যে মত পার্থক্য আছে। ইসনা আশারিয়া শী’আদের মতে হাদীসে বর্নিত ইমাম মাহদী (অঃ) হলেন তাদের দ্বাদশ তম ইমাম মুহান্মদ ইবনুল হাসান আল-আসকারী। সে ২০৬ হিজরী থেকে শত্রুদের ভয়ে ভূগর্ভস্থ একটি গুহায় লুকিয়ে আছেন। কিয়ামতের পূর্ব মূহুর্তে পৃথিবীতে আত্মপ্রকাশ করবে।

কিন্তু আহলুস সুন্নাত ওয়াল-জামা-আতের মতে শী’আদের ধারনা সম্পূর্ন ভ্রান্ত কারন সহী হাদীসে ইমাম মাহদীর নাম, পিতার নাম, দৈহিক বর্ননা, কাজ কর্ম যে বিবরন আছে তাতে শী’আ ইমামের কোন মিল নেই কারন শী’আ দ্বাদশ ইমাম ২০৮ হিজরীতে জন্ম গ্রহন করেছেন আর তার নাম মুহান্মদ ইবনুল হাসান।

আহলুস সুন্নাত ওয়াল-জামা-আতের মতে তিনি সাইয়িদ তথা হয্রত ফাতিমা (রাঃ) এর বংশ থেকে আসবেন, তার শারীরিক গঠন সামান্য লম্বা দেহ উজ্জ্বল বর্ন বিশিষ্ট হবেন। চেহারার আকৃতি নবী করিম (সাঃ) এর মত হবে। তার পিতার নাম হবে আব্দুল্লাহ আর মাতার নাম আমেনা। তার মুখে মৃদু জড়তা থাকবে সে কারনে মাজে মাজে মনক্ষুন্ন হয়ে উরুতে আঘাত করবে। আল্লাহ র পক্ষ থেকে তিনি ইলমে লাদুন্নী প্রাপ্ত হবেন।

ইমাম মাহদীর সন্ধানে

হযরত মাওলানা শাহ রফী উদ্দিন (রঃ) বলেন, মুস্লমানদের বাদশাহ শহীদ হবার পরে সিরিয়া খ্রীষ্টান দের দলে চলে যাবে এবং তারপর খ্রীষ্টান বিবাদ মান দু দলের মধ্যে সন্ধি স্থাপন হবে। অবশিষ্ট মুসলমান রা মদীনায় প্রত্যাবর্তন করবে। খ্রীষ্টানদের আধিপত্য খাইবার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে এ সময় মুসলমান রা ইমাম মাহদী (আঃ) খোজ করতে থাকবেন। যেন তার নেতৃত্বে শত্রুদের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

এমন অবস্থা চলাকালীন সময়ে ইমাম মাহদী মদীনায় অবস্থানরত থাকবেন। কিন্তু সেখান জিম্মাদারী অর্পিত হবার আশংকায় মক্কা গমন করবেন। সেখানেও ততকালীন ওলি আবদালগন ইমাম মাহদীর সন্ধান চালাতে থাকবেন। এই সময় কতিপয় ব্যাক্তি নিজেকে ইমাম মাহদী দাবী করে বসবে। ইতিমধ্যে একদিন রুকন ও বায়তুস শরীফ তওয়াফ কালে লোকজন তাকে চিনে ফেলবে এবং তার হাতে বায়াত গ্রহনের জন্য তার ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এ ঘটনা সত্যি হবার একটি প্রমান হবে এমন যে, পূর্বেকার রমযান মাসে চন্দ্র ও সূর্যগ্রহন হবে।

বায়াতের সময় ইমাম মাহাদীর বয়স হবে ৪০ বছর। তার খিলাফত গ্রহনের সংবাদ মদীনায় পৌছুলে মদীনা থেকে হাজার হাজার সৈন্য মক্কায় ছুটে আসবে। সিরিয়া, ইয়েমেন আর ইরাকের বুজূর্গদ্বীন তার নেতৃত্বে এক হয়ে বিরাট বাহিনী গঠন করবে। এরপর তিনি কাবা শরীফে মাটির নীচে রক্ষিত ভান্ডার তুলে এনে মুসলমান দের মধ্যে বন্টন করে দেবেন।

কেয়ামতের নিদর্শন পরের পর্বে দাজ্জাল কে নিয়ে আলোচনা করা হবে। দাজ্জাল এক হাতে বেহেশত আর এক হাতে দোযখ নিয়ে পৃথিবীতে অবতীর্ন হবে।

চলবে


হঠাৎ করে এক সময় দুনিয়ায় দাজ্জালের কথা ব্যাপক ভাবে প্রচারিত হবে। সে হবে বিধর্মী কাফের। সে অনেক আশ্চর্য শক্তি ও ক্ষমতার অধিকারী হবে। ইহুদী সম্প্রদায় ও আল্লাহ বিরোধী সম্প্রদায় তার সাথে যোগ দেবে। দাজ্জালের এক চোখ কানা থাকবে। তার কপালে কাফির কথাটি খোদিত থাকবে। তার সাথে একটি কৃত্রিম বেহেশত ও কৃত্রিম দোযখ থাকবে। সে নিজেকে আল্লাহ বলে দাবী করবে আর ক্ষমতা বলে মানূষ্ কে মেরে ফেলে জীবিত করতে পারবে। আর এসব কাজ প্রত্যক্ষ করে বহুলোক তার অনুগত হবে।

কিন্তু ঈমানদার বান্দারা তার বিরোধিতা করবে আর তাতে সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে ওঠে। ইমাম মেহেদী তাকে শায়েস্তা করার জন্য যাত্রা করলে সেও বহু সৈন্য সামন্ত নিয়ে যুদ্ধ যাত্রা করে। দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ কিয়ামতের আন্যতম আলামত। আরবী ভাষায় দাজ্জাল মানে হল প্রতারনা করা। দাজ্জাল সত্য মিথ্যা হক এবং বাতিলের মধ্যে চরম প্রতারনা করবে বলেই তাকে দাজ্জাল নামে অভিহিত করা হয়েছে।

দাজ্জাল প্রথমে নিজেকে নবী পরে আল্লাহ বলে দাবী করবে। পরে পৃথিবীর অধিকাংশ জায়গা ঘুরে ঘুরে মানূষ কে তার দাবীর প্রতি স্মর্থন জানতে বাধ্য করবে। হাদীসে উল্লেখ্য আছে দাজ্জাল যখন পথে বের হবে তখন তার সাথে আগুন আর পানি থাকবে। লোকেরা বাহ্যত যে বস্তুকে আগুন দেখবে সেটি আসলে হবে শীতল পানি আর যাকে সে পানি হিসাবে দেখবে সেটি আসলে আগুন (বুখারী)।

কোন মুসলিম তাকে রব বলে অস্বীকার করলে দাজ্জাল তাকে আগুনে নিক্ষেপ করবে আসলে সে চলে যাবে মহা শান্তির স্থলে মানে জান্নাতে আর কেউ তাকে রব হিসাবে অস্বীকার করলে তাকে সে বেহেশতে নিক্ষেপ করবে যা আসলে তাকে অনন্ত দোযখের স্বাদ পাইয়ে দেবে। দাজ্জাল কোন ব্যক্তির মৃত্যুর পর একবার ই জীবন দান করতে পারবে

সে মক্কা মদীনা ব্যাতিত পৃথিবীর সমস্ত দেশ ভ্রমন করবে। সে মদীনায় প্রবেশের জন্য চেষ্টা করবে কিন্তু ওই সময় আল্লাহর আদেশে মদীনার সাতটি দরজাই ফেরেশতাদের পাহারায় থাকবে। তাই মদীনায়না ঢুকতে পেরে বিফল মনোরথে ফেরত যাবে। তার দৌরাত্বকাল হবে চল্লিশ দিন। এরপর হযরত ঈসা (অঃ) কর্তৃক নিহত হবে (মুসলিম)

দাব্বাতুল আরদ

“যখন ঘোষিত শাস্তি তাদের নিকট আসবে তখন আমি মাটি গর্ভ থেকে এক জন্তু নির্গত করব। এ জন্তু মানূষের সাথে কথা বলবে এই জন্য যে তারা আমার নিদর্শনে ছিল অবিশ্বাসী” (২৭ঃ২৮ নং আয়াত)

কিয়ামত সংগঠিত হবার আগে বায়তুল্লাহ শরীফের পূর্বদিকে অবস্থিত সাফা পর্বত ভূমিকম্পে ভেঙ্গে যাবে এবং সেখান থেকে এক অদ্ভূত জন্তু বের হয়ে আসবে। এই অদ্ভূত প্রানীটির মুখমন্ডল ছিল মানূষের মত, পা উটের মত, ঘাড় ঘোড়ার মত, লেজ চিলের মত, নিতম্ব হরিনের নিতম্বের মত, শিং বহু শাখা বিশিষ্ট হরিনের শিংয়ের মত আর হাত বানরের হাতের মত। উক্ত জটি ভীষন বাক পটু হবে আর খুব উচ্চমানের কথা বলবে।

সে এত দ্রুত গতিতে শহরে বিচরন করবে যে কেউ তার নাগাল পাবেনা আবার কেউ তার নাগালের বাইরেও থাকবে না। তার নিকট হযরত মুসা (আঃ) এর লাঠী থাকবে সেই লাঠী দ্ধারা মুমিন্দের স্পর্শ করবে এতে তাদের মূখমন্ডল উজ্জ্বল হয়ে ঊঠবে আর সকলে তাদের মুমিন হিসাবে চিনতে পারবে। আর সুলায়মান (আঃ) এর আংটি দ্বারা কাফিরদের নাকের ওপর ‘কাফির’ শব্দ সীল মেরে দেবে, ফলে সকলেই তাদের কাফির হিসাবে চিনতে পারবে ( আলামতে কিয়ামত)

হযরত ঈসা (আঃ)

ইমাম মাহদীর সাথে দাজ্জাল যুদ্ধ যখন আসন্ন হবে ঠিক এমনি সময়ে হযরত ঈসা (আঃ) বায়তুল মুকাদ্দাসে আসরের সময় অবতীর্ন হবেন। এ প্রসঙ্গে মাওলানা শাহ রফী উদ্দীন (রঃ) লিখেন একদিন আসরের নামযের আযান হলে লোকজন আসরের নামাযের প্রস্তুতি নিতে থাকবে। এমন সময় হযরত ঈসা (অঃ) দুজন ফেরেশতার কাধে ভর দিয়ে আকাশ থেকে অবতরন করবেন এবং জামি মসজিদের পূর্ব মিনারে দাঁড়িয়ে সিড়ি দেবার জন্য ডাকতে থাকবেন। তখন সিড়ির ব্যাবস্থা হবে তিনি সিড়ি বেয়ে নীচে নেমে আসবেন।

তিনি নীচে নেমে এসে ইমাম মাহদী (আঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ করবেন। ইমাম মাহদী (আঃ) অত্যান্ত আদবের সাথে তাকে আসরের নামাযের ইমামত করতে অনুরোধ করবেন। তখন হযরত ঈসা (আঃ) বলবেন, না ইমামত আপনাকেই করতে হবে। আল্লাহতালা এই সন্মান শুধু এই উন্মতকেই দান করেছেন। তারপর ইমাম মাহদী (আঃ) নামায পড়াবেন আর হযরত ঈসা (আঃ) একজন মুক্তাদী হিসাবে তার পিছনে নামায পড়বেন। লক্ষ্যনীয় ঈসা (আঃ) একজন নবী হয়েও আখেরী জামানার নবীর একজন উন্মতের পেছনে নামায পড়ছেন। সুবাহানাল্লাহ।

নামায শেষে ইমাম মাহদী (আঃ) হযরত ঈসা (আঃ) বলবেন, হে আল্লাহর নবী, সৈন্য পরিচালনার ভার আপনার ওপর অর্পিত থাকল। আপনি নিজে ইচ্ছে মত সমাধা করুন। তিনি বলবেন, সেনাবাহিনীর পরিচালনার দায়িত্ব আপনাকেই পালন করতে হবে। আমি শুধু দাজ্জাল কে নিপাত করতে এসেছি। কারন তার মৃত্যু আমার হাতেই নির্ধারিত (আলামাতে কিয়ামত)। লক্ষনীয় ইমাম মাহাদী (আঃ) এর বিনয় হযরত ঈসা (আঃ) প্রতি।

ওদিকে দাজ্জাল তার বিপুল সংখ্যক সৈন্য নিয়ে মুসলমানদের বিরুদ্বে যুদ্ধ যাত্রা করবে। মুসলমানগন ও এই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। তারা দাজ্জালের মোকাবেলায় অগ্রসর হবে। শুরু হবে ঘোরতর যুদ্ধ । দাজ্জাল ও হযরত ঈসা (আঃ) ‘লুদ্দা’ নামক স্থানে উভয়ের মুখোমুখি হবেন। যুদ্ধে দাজ্জাল হযরত ঈসা (আঃ) এর হাতে নিহত হয়ে মুসলমানদের বিজয় সূচিত হবে।

দাজ্জালের সমর্থকরা তখন মুসলিম বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পাবার জন্য সকল চেষ্টা করেও ব্যার্থ হ বে। এমন কি ইয়াহুদীরা রাতে কোন গাছ বা পাথরের আড়ালে লুকানোর চেষ্ট করলেও সেই জ়ড় বস্তু উচ্চস্বরে আওয়াজ দিয়ে ওই পলাতক ইয়াহুদীকে ধরিয়ে দেবে।

এরপর ঈমাম মাহদী অল্প কিছুদিন জীবিত থাকবে। তার মৃত্যুর পর হযরত ঈসা (আঃ) মুসলিম সাম্রাজ্যর অধিপতি হবেন। অনেক বছর তিনি শান্তি শৃঙ্খলার সাথে দেশ শাষন করবেন।হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্নিত নবী করিম (সাঃ) ইশরাদ করেছেন হযরত ঈসা (অঃ) অবতরনের পর চল্লিশ বছর পৃথিবীতে অবস্থান করবেন। ঈসা (আঃ) এর মৃত্যুর পর ধীরে ধীরে লোকজন আবার অসৎ পথ অবলম্বন করবে। দেশে পাপের বন্যা প্রবাহিত হবে।

মুসনাতে আহমদ গ্রন্থে হযরত ঈসা (আঃ) কে চেনার কিছু উপায় বর্নিত আছে। তিনি মধ্যম আকৃতির ও গৌড় বর্নের হবেন। শরীরে লালচে দুটি চাদর জড়ানো থাকবে। দেখতে তাকে এমন দেখাবে তিনি যেন এই মাত্র গোসল সেরে আসলেন।



ইয়াজুজ ও মাযুয


কিয়ামত নিকটবর্তী হবার পর অপর একটি বড় আলামত হল পৃথিবীতে ইয়াজুজ-মাযুয নামে দুটি চরম অত্যাচারী গোত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটবে। হযরত ঈসা (আঃ) অবতরনের পর এই জাতি দুটির প্রকাশ ঘটবে। ফাতাহুল বারী র ৬ষ্ঠ খন্ডে হযরত কাতাদা (রাঃ) বলেন এরা মানুষের আকৃতি হবে এবং হযরত নুহ (আঃ) এর পুত্র ইয়াকা এর বংশধর থেকে হবে। তাফসীরে তাবারী গ্রন্থ মতে তারা পৃথিবীর উত্তর পূর্বাঞ্চলের বাসিন্দা হবে, বর্তমানের আরমেনিয়া ও আযারবাইযানের পাশাতবাগ তাদের আবাসস্থল উল্লেখ্য করা হয়।

ইয়াজুজ-মাযুয দেখতে মানুষের মত কিন্তু তাদের স্বভাব হবে চতুস্পদ জন্তুর ন্যায়। দেহের সন্মুখ ভাগ মানূষের ন্যায় কিন্তু পিছনের ও নিম্নভাগ চতুস্পদ জন্তুর ন্যায়। দুনিয়ের এক সীমান্তে এরা বাস করে। এরা মানুষ বৃক্ষলতা সব ভক্ষন করে। এক সময় মানুষ জাতির ওপর এরা ভীষন অত্যাচার চালাত। হযরত শাহ সেকান্দার সুদৃঢ় প্রাচীর নির্মান করে মানব এলাকায় আসার পথ বন্ধ করে দেয়।

ওরা উক্ত প্রাচীরটি জিহ্বা দ্বারা প্রতিদিন চাটতে থাকে আবার সন্ধ্যার সময় উক্ত প্রাচীর আবার পূর্বের অবস্থায় ফেরত যায় মানে পূর্নাঙ্গ অবস্থা লাভ করে। এভাবে কিয়ামতের আগ পর্যন্ত চলতে থাকবে। কিন্তু হঠাৎ একদিন এ দেয়াল নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে, তখনই ইয়াজুজ-মাযুযের দল স্রোতের ন্যায় মানুষের এলাকায় ডুকে পড়বে। তারা সব কিছু খেয়ে ফেলবে। পানির পিপাসায় তারা দুনিয়ার সব সাগর মহাসাগরের সব পানি খেয়ে ফেলবে। তাদের দৌরাত্মে দুনিয়া তছনছ হয়ে যাবে। এমত অবস্থায় হযরত ঈসা (আঃ) মুসলমানদের নিয়ে দু হাত তুলে আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন। দেখা দেবে মহামারী সে মহামারীতে এই অত্যাচারী সম্প্রদায় ধ্বংশ হয়ে যাবে।

পবিত্র কোরানে সুরা কাহফে ৯৪-৯৯ আয়াতে এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলা আছে।

قَالُوا يَا ذَا الْقَرْنَيْنِ إِنَّ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ مُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ فَهَلْ نَجْعَلُ لَكَ خَرْجًا عَلَى أَن تَجْعَلَ بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمْ سَدًّا 94

তারা বললঃ হে যুলকারনাইন, ইয়াজুজ ও মাজুজ দেশে অশান্তি সৃষ্টি করেছে। আপনি বললে আমরা আপনার জন্যে কিছু কর ধার্য করব এই শর্তে যে, আপনি আমাদের ও তাদের মধ্যে একটি প্রাচীর নির্মাণ করে দেবেন।

قَالَ مَا مَكَّنِّي فِيهِ رَبِّي خَيْرٌ فَأَعِينُونِي بِقُوَّةٍ أَجْعَلْ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُمْ رَدْمًا 95

তিনি বললেনঃ আমার পালনকর্তা আমাকে যে সামর্থø দিয়েছেন, তাই যথেষ্ট। অতএব, তোমরা আমাকে শ্রম দিয়ে সাহায্য কর। আমি তোমাদের ও তাদের মধ্যে একটি সুদৃঢ় প্রাচীর নির্মাণ করে দেব।

آتُونِي زُبَرَ الْحَدِيدِ حَتَّى إِذَا سَاوَى بَيْنَ الصَّدَفَيْنِ قَالَ انفُخُوا حَتَّى إِذَا جَعَلَهُ نَارًا قَالَ آتُونِي أُفْرِغْ عَلَيْهِ قِطْرًا 96

তোমরা আমাকে লোহার পাত এনে দাও। অবশেষে যখন পাহাড়ের মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থান পূর্ণ হয়ে গেল, তখন তিনি বললেনঃ তোমরা হাঁপরে দম দিতে থাক। অবশেষে যখন তা আগুনে পরিণত হল, তখন তিনি বললেনঃ তোমরা গলিত তামা নিয়ে এস, আমি তা এর উপরে ঢেলে দেই।

فَمَا اسْطَاعُوا أَن يَظْهَرُوهُ وَمَا اسْتَطَاعُوا لَهُ نَقْبًا 97

অতঃপর ইয়াজুজ ও মাজুজ তার উপরে আরোহণ করতে পারল না এবং তা ভেদ করতে ও সক্ষম হল না।



قَالَ هَذَا رَحْمَةٌ مِّن رَّبِّي فَإِذَا جَاء وَعْدُ رَبِّي جَعَلَهُ دَكَّاء وَكَانَ وَعْدُ رَبِّي حَقًّا 98

যুলকারনাইন বললেনঃ এটা আমার পালনকর্তার অনুগ্রহ। যখন আমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুত সময় আসবে, তখন তিনি একে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেবেন এবং আমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুতি সত্য।



وَتَرَكْنَا بَعْضَهُمْ يَوْمَئِذٍ يَمُوجُ فِي بَعْضٍ وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَجَمَعْنَاهُمْ جَمْعًا 99

আমি সেদিন তাদেরকে দলে দলে তরঙ্গের আকারে ছেড়ে দেব এবং শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে। অতঃপর আমি তাদের সবাইকে একত্রিত করে আনব।

সুরা আম্বিয়া ৯৬ নং আয়াত।

حَتَّى إِذَا فُتِحَتْ يَأْجُوجُ وَمَأْجُوجُ وَهُم مِّن كُلِّ حَدَبٍ يَنسِلُونَ 96

যে পর্যন্ত না ইয়াজুজ ও মাজুজকে বন্ধন মুক্ত করে দেয়া হবে এবং তারা প্রত্যেক উচ্চভুমি থেকে দ্রুত ছুটে আসবে।



তিনটি ভয়াবহ ভূমিকম্প ও পৃথিবী ধোয়ায় আচ্ছন্ন

হযরত ঈসা (আঃ) ওফাতের পর সমগ্র পৃথিবীতে তিনটি ভয়ানক ভূমিকম্প হবে। এক হাদীসে বলা হয়েছে একটি মক্কা মদীনার মধ্যবর্তী বায়দা মরু আঞ্চলে ঘটবে। ইতিমধ্যে ধোয়া সমস্ত পৃথিবীকে আচ্ছন্ন করে ফেলবে। ফলে মুসলমানরা স্নায়ু দূর্বলতা ও সর্দিতে আচ্ছন্ন হয়ে পড়বে আর কাফেররা সংজ্ঞাহীন হবে এ অবস্থা চল্লিশ দিন অব্যাহত থাকবে। এরপর পৃথিবী ধোয়ামুক্ত হবে। ( আলামতে কিয়ামত)



পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয় ও তওবার দরজা বন্ধ


বিভিন্ন হাদীসের আলোকে বুজা যায় দাব্বাতুল আরদের প্রকাশের কিছু পূর্বে কিংবা তার কিছু পরই সিঙ্গায় ফুৎকারের আগে পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদয়ের ঘটনা ঘটবে। এ অস্বাভাবিক ঘটনার পর থেকে কোন কাফিরের ঈমান কিংবা ফাসিকের তওবা কবুল হবে না। এই ঘটনায় ঈমানদারগন রাতভর আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করবে। এই রাতের পর সূর্য পশ্চীম দিক থেকে উদিত হয়ে আবার পশ্চিম দিকে অস্ত যাবে। পরের দিন সূর্য আবার পূর্ব দিক থেকে উদিত হয়ে পশ্চিম দিকে অস্ত যাবে। এর কিছুদিন পরেই কিয়ামত সংগঠিত হবে।



কুরানের অক্ষর বি্লোপ




পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়ের পর আতংকগ্রস্থ মানূষ দেখতে পাবে পবিত্র কোরানে কোন অক্ষর নেই। শুধুই সাদা কাগজ অবশিষ্ট আছে।

দক্ষিনের বায়ূ

দাব্বাতুল আরদ অদৃশ্য হবার পর দক্ষিন দিক থেকে এক প্রকার বায়ু প্রবাহিত হবে। এই বায়ুর প্রভাবে মুমিনগন কিছুটা অসুস্থ্য হয়ে পড়বে আর দুনিয়া থেকে বিদায় নেবে। এরপর পর পৃথবীতে এক ধরনের কালো মানূষের আধিপত্য হবে আর কাবা ঘর ধ্বংস সাধন করবে। বন্ধ হবে হজ্জ পালন।



মহা অগ্নিশিখা


কিয়ামতের সর্বশেষ আলামত হবে দক্ষিন দিক থেকে একটি মহা অগ্নিশিখা প্রকাশিত হয়ে মানুষকে উত্তর দিকে ধাওয়া করা শুরু করবে। লোকজন ক্রমশ উত্তর দিক সরে যাবে। কিয়ামত অতি নিকটবর্তী।

শিঙ্গায় ফুৎকার

অবশেষে একদা একটি আওয়াজ শোনা যাবে এই আওয়াজ ক্রমে মৃদু থেকে ধীরে ধীরে প্রচন্ডতর হতে থাকবে এবং সর্বত্র একই রকম শোনা যাবে এটিই সেই মহা ফুৎকার কিয়ামতের শুরু।

আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন

শেষ