Buy this theme? Call now 01710441771
Welcome To Abc24.GA
.Jan 1, 2018

আল্লাহ্ রব্বুল আলামিন মানুষকে কেন সৃষ্টি করেছেন?

মানুষ সৃষ্টির শত শত বছর পূর্বে আল্লাহপাক রব্বুল আলামিন এ পৃথিবীতে জ্বীন জাতি প্রেরণ করেছিলেন। একপর্যাযে তারা বিভিন্ন অশ্লীল, ফেৎনা, ফাসাদে লিপ্ত হতে থাকে। আল্লাহ পাক ফেরেস্তাদের ডেকে বললেন, ‘আমি পৃথিবীতে প্রতিনিধি হিসেবে মানুষ পাঠাতে চাই’। এতে ফেরেস্তারা আপত্তি প্রকাশ করলেন, তারা বললেন, আপনি কি পৃথিবীতে আবার এমন কাউকে পাঠাবেন যারা পূনরায় দুনিয়াতে ফেৎনা ফাসাদে লিপ্ত হবে! তখন মহান আল্লাহ পাক বললেন, ‘নিশ্চই আমি যা জানি তোমরা তা জনো না’। এর পর আল্লাহপাক রব্বুল আলামিন বাবা আদম (আঃ) ও এক পর্যায়ে মা হাওয়া (আঃ) কে সৃষ্টি করলেন এবং তাদেরকে দিলেন শ্রেষ্ট জাতির সম্মান। আসুন আমরা এখন জেনে নেব আল্লাহ্ রব্বুল আলামিন মানুষকে কেন সৃষ্টি করেলেন:

আল্লাহর (সুবঃ) বানীঃ “মানুষের উপর এমন কিছু সময় অতিবাহিত হয়েছে যখন সে উল্লেখযোগ্য কিছু ছিল না। আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিশ্র শুক্রবিন্দু থেকে, এভাবে যে, তাকে পরীক্ষা করব অতঃপর তাকে করে দিয়েছি শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন। আমি তাকে পথ দেখিয়ে দিয়েছি। এখন সে হয় কৃতজ্ঞ হয়, না হয় অকৃতজ্ঞ হয়।” (সূরা দাহর ৭৬:১-৩)

আল্লাহ্ (সুবঃ) মানবজাতিকে অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে এনেছেন, তাদেরকে বিবেক-বুদ্ধি এবং ভাল-মন্দের জ্ঞান দান করেছেন।সামান্য বীর্য কণা থেকে সৃষ্টি করে আল্লাহ্ মানুষকে অনেক উত্তম অবস্থানে নিয়ে এসেছেন, অন্যান্য প্রানী থেকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। তাদের জীবিকার প্রয়োজনীয় সমস্ত জিনিস তিনিই সরবরাহ করছেন।

আল্লাহ্ (সুবঃ) বলেনঃ “নিশ্চয় আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি, আমি তাদেরকে স্থলে ও জলে চলাচলের বাহন দান করেছি; তাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ প্রদান করেছি এবং তাদেরকে অনেক সৃষ্ট বস্তুর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।” (সূরা,বনী ঈসরাঈল ১৭:৭০)

আল্লাহ্ মানবজাতির জন্য এ যমীনকে সম্পূর্ণ বসবাস উপযোগী করে দিয়েছেন, আসমানকে তাদের জন্য করেছেন ছাদ স্বরূপ। আল্লাহ (সুবঃ) বলেনঃ “হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তার এবাদত কর, যিনি তোমাদিগকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদিগকে সৃষ্টি করেছেন। তাতে আশা করা যায়, তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পারবে। যে পবিত্রসত্তা তোমাদের জন্য ভূমিকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ স্বরূপ স্থাপন করে দিয়েছেন, আর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তোমাদের জন্য ফল-ফসল উৎপাদন করেছেন তোমাদের খাদ্য হিসাবে। অতএব, আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাকেও সমকক্ষ করো না। বস্তুতঃ এসব তোমরা জান।” (সূরা, বাকারা ২:২১-২২)

এতসব আল্লাহ্ (সুবঃ) এমনি এমনিই দেননি। এসব কিছুর পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য, আল্লাহ্ (সুবঃ) বলেনঃ “তোমরা কি ধারণা কর যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার কাছে ফিরে আসবে না?” (সূরা মু’মিনুন ২৩:১১৫)

মানুষ সৃষ্টির সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সম্পর্কে আল্লাহ্ (সুবঃ) তায়ালা বলেনঃ “আমি মানুষ এবং জ্বিনকে সৃষ্টি করেছি একমাত্র আমার ইবাদতের জন্য”। (যারিয়াত ৫১:৫৬)

আয়াতের এর ব্যাখ্যায় আলেমগণ বলেন অর্থাৎ আমার (আল্লাহর) একত্বকে মেনে নেয়ার জন্যই আমি তাদের সৃষ্টি করেছি। সুতরাং তাওহীদকে মেনে নিয়ে এককভাবে শুধু আল্লাহর ইবাদত করার জন্যই আল্লাহ (সুবঃ)মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। আর এ দিকেই সমস্ত নবী-রাসূলগণ আহবান করেছিলেনঃ “আমি প্রত্যেক জাতির নিকট রাসুল প্রেরন করেছি আল্লাহর ইবাদত করার এবং তাগুতকে বর্জন করার নির্দেশ দেবার জন্য।” (সূরা, নাহল ১৬:৩৬)

সমস্ত মানুষের প্রতি আল্লাহর হক্ হচ্ছে এককভাবে আল্লাহর ইবাদত করা, আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক না করা। রাসূল (সঃ) বলেছেন-“বান্দার প্রতি আল্লাহর হক্ হচ্ছে তারা তাঁর ইবাদত করবে এবং তাঁর সঙ্গে কোন কিছুকে শরীক করবে না।” (মুসলিম)

সুতরাং যে ব্যক্তি শরীকবিহীন অবস্থায় আল্লাহর ইবাদত করে সে তার সৃষ্টির উদ্দেশ্যকে পূরণ করল, আল্লাহর হক্ আদায় করল।আর যে ব্যক্তি আল্লাহর শরীক করল সে সৃষ্টির উদ্দেশ্যকে অস্বীকার করল এবং আল্লাহর হক্ আদায় করল না। সে তার নিজের ধ্বংস ডেকে আনল, সে কাফির, মুশরিক এবং অকৃতজ্ঞ।অতএব একজন মানুষের উচিত তার নিজের মুক্তির জন্য নিম্নের তিনটি বিষয়ে জানা এবং নিজের জন্য মেনে নেয়াঃ

১। এককভাবে আল্লাহর ইবাদত করা,
২। আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক না করা,
৩। আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যকে রব এবং ইলাহ হিসেবে গ্রহন না করা।
আর কালেমার স্বীকৃতির মাধ্যমে উপরোক্ত তিনটি জিনিসেরই স্বীকৃতি দেয়া হয়।

তাই আসুন, আল্লাহপাক রব্বুল আলামিন আমাদেরকে যে কারণে সৃষ্টি করেছেন সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সেই মহান মালিকের সন্তুষ্টি অর্জন করে চির সুখের জান্নাত লাভ করি। আল্লাহপাক রব্বুল আলামিন আমাদেরকে সকল প্রকার খারাপ কাজ থেকে বিরত থেকে তার দেখানো রাস্তায় চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।