Buy this theme? Call now 01710441771
Welcome To Abc24.GA
.Sep 27, 2018

টিভি দেখা কি হারাম? জেনে নিন বিস্তারিত।


টিভি দেখা কি হারাম, নাকি হালাল, এ বিষয়ে রয়েছে নানান মতবাদ। অনেকে টিভি দেখাকে কবিরা গুনাহও বলে থাকেন। এ বিষয়ে ইসলাম বিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’য় সম্প্রতি প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

জুমাবারের বিশেষ আপনার জিজ্ঞাসার ৫৫৭তম পর্বে টিভি দেখা হারাম কি না, সে সম্পর্কে টেলিফোনে জানতে চান শাহজালাল নামে এক দর্শক।

এসময় প্রশ্নের জবাবে, ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ বলেন, টিভিতে কোনো হারাম জিনিস থাকলে সেই জিনিস দেখা হারাম হতে পারে। কিন্তু যে জিনিস দিয়ে টিভি বানানো হয়, তাতে তো হারাম কোনো জিনিস নেই। এটি কেবল একটি প্রযুক্তি ছাড়া আর কিছুই নয়। এটি কীভাবে ব্যবহার করলাম, তার ওপর হালাল-হারাম নির্ভর করবে?

এই মাসআলা যদি কোনো আলেম দিয়ে থাকেন, তাহলে তিনি আলেম নন, সবচেয়ে বড় জাহিল।

শুধু টিভি কেন, বর্তমানে টিভির চেয়ে অনেক বেশি মেমোরি রয়েছে মোবাইল ফোনে। মোবাইল ফোন রাখা যদি হারাম না হয়, তাহলে টিভি কেন হারাম হবে।

টিভিতে যদি কোরআন-হাদিসের কথা আলোচনা করা হয়, এর মাধ্যমে যদি আল্লাহর বান্দাগণ হেদায়েত লাভ করতে পারে, তাহলে এটি দেখা হালাল। শুধু দেখা হালাল তাই নয়, জ্ঞান অর্জন যদি ফরজ হয়ে থাকে, তাহলে এই কাজটিও জ্ঞান অর্জনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে।

টিভি দেখা হারাম, এই মাসআলা একেবারেই ভুল। যিনি পথভ্রষ্ট, তিনিই মূলত এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে থাকেন। তিনি আল্লাহর কুদরত সম্পর্কে, আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সৃষ্টি সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন না।

প্রসঙ্গত, টেলিভিশন এমন একটি যন্ত্র যা থেকে একই সঙ্গে ছবি দেখা যায় এবং শব্দও শোনা যায়। টেলিভিশন শব্দটি ইংরেজি থেকে এসেছে। তাই টেলিভিশনকে বাংলায় কখনও দূরদর্শন যন্ত্র বলা হয়।

১৮৬২ সালে তারের মাধ্যমে প্রথম স্থির ছবি পাঠানো সম্ভব হয়। এরপর ১৮৭৩ সালে বিজ্ঞানী মে ও স্মিথ ইলেকট্রনিক সিগনালের মাধ্যমে ছবি পাঠানোর পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। ব্রিটিশবিজ্ঞানী জন লোগি বেয়ার্ড ১৯২৬ সালে প্রথম টেলিভিশন আবিষ্কার করেন এবং সাদা কালো ছবি দূরে বৈদ্যুতিক সম্প্রচারে পাঠাতে সক্ষম হন। এর পর রুশ বংশোদ্ভুত প্রকৌশলী আইজাক শোয়েনবারগের কৃতিত্বে ১৯৩৬ সালে প্রথম টিভি সম্প্রচার শুরু করে বিবিসি।

টেলিভিশন বানিজ্যিক ভিত্তিতে চালু হয় ১৯৪০ সালে। অতপর ১৯৪৫ সালে যন্ত্রটি পূর্ণতা লাভ করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর টেলিভিশন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সূচিত হয়। গত শতাব্দীর ৫০ এর দশকে টেলিভিশন গণমাধ্যমের ভূমিকায় উঠে আসে।